Loading..

ব্লগ

রিসেট

২৯ অক্টোবর, ২০২৫ ১১:৪০ পূর্বাহ্ণ

আয়নিক ও সমযোজী বন্ধন

আয়নিক বা তড়িৎযোজী বন্ধন: ধাতব ও অধাতব মৌলের রাসায়নিক বিক্রিয়াকালে ধাতুর পরমানুর বহিঃস্তর হতে অধাতু পরমানুর বহিঃস্তরে এক বা একাধিক ইলেকট্রন স্থানান্তরিত হওয়ার মাধ্যমে সৃষ্ট ধনাত্বক আয়ন ও ঋণাত্বক আয়নের মধ্যে স্থির বৈদ্যুতিক আকর্ষণ বল দ্বারা যে বন্ধন গঠিত হয় তাকে আয়নিক বন্ধন বা তড়িৎ যোজী বন্ধন বলে।

আয়নিক যৌগের সাধারণ ধর্মাবলি:

১. সকল আয়নিক যৌগ কঠিন অবস্থায় কেলাস বা স্ফটিকাকারে থাকে।

২.বিভিন্ন আয়নিক যৌগের ইলেকট্রনিক গঠন অভিন্ন হলে কঠিন অবস্থায় এদের স্ফটিক গঠন একই রূপ হয়।

৩.আয়নিক যৌগ সমূহের গলনাঙ্ক ও স্ফুটনাঙ্ক খুব বেশি হয়। এরা অনুদ্বায়ী হয়।

৪. আয়নিক যৌগ সমূহ সাধারণত পানিতে দ্রবনীয় হয়।

৫. কঠিন অবস্থায় এরা বিদ্যুৎ পরিবাহী নয় কিন্তু বিগলিত বা দ্রবীভূত অবস্থায় এরা বিদ্যুৎ পরিবহন করে।

৬. আয়নিক কেলাস বা স্ফটিক সমূহ ভঙ্গুর হয়।

৭. আয়নিক যৌগ সমুহ অত্যন্ত দ্রুত বিক্রিয়া করে।

সমযোজী বন্ধন:সমযোজী বন্ধন (ইংরেজি: Covalent bond) হল এমন এক ধরনের রাসায়নিক বন্ধন যেখানে পরমাণুসমূহ তাদের নিজেদের মধ্যে ইলেকট্রন শেয়ারের মাধ্যমে আবদ্ধ থাকে। ইলেকট্রন শেয়ার করা পরমাণুদ্বয়ের মধ্যেকার আকর্ষন ও বিকর্ষনের ফলে যে সুস্থিত ভারসাম্য বল তৈরী হয় তাই সমযোজী বন্ধন।

সমযোজী যৌগের বৈশিষ্ট্য:

সমযোজী যৌগসমূহ সাধারণত নিম্ন গলনাংক ও স্ফুটনাংক বিশিষ্ট,পানিতে অদ্রবণীয় এবং বিদ্যুৎ পরিবহন করেনা।

পার্থক্য:

১.আয়নিক বন্ধন ধাতু ও অধাতুর মধ্যে হয় কিন্তু সমযোজী বন্ধন শুধুমাত্র অধাতুর মধ্যে হয়।

২.আয়নিত যৌগ পানিতে সহজে দ্রবনীয় কিন্তু সমযোজী যৌগ পানিতে দ্রবণীয় নয় কিছু ক্ষেত্রে ব্যাতিক্রম আছে।

৩.আয়নিক যৌগ বিদ্যুৎ পরিবহন করে সমযোগী যৌগ করে না।

৪.স্থির বৈদ্যুতিক আকর্ষের মাধ্যমে আয়নিক যৌগ গঠিত হয় কিন্তু সমযোগী যৌগ গঠিত হয় ইলেকট্রন শেয়ারের মাধ্যম।

মন্তব্য করুন