প্রভাষক
২৯ অক্টোবর, ২০২৫ ০৮:৪০ অপরাহ্ণ
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, মানুষ এবং ভবিষ্যতের আমরা।
মানুষের ব্রেইন কিভাবে কাজ করে খুব ঠান্ডা মাথায় চিন্তা করি এবং মানুষ আসলে কী, তাহলে খুব পরিষ্কার একটি উত্তর আসবে আর সেটা হলো, আমাদের ব্রেইনটাই মানুষ! এই ব্রেইনের কারণেই আমরা প্রকৃতির অন্যান্য প্রাণীদের থেকে আলাদা। আবার মানুষের ভেতরও নানান ক্যাপাসিটির মানুষ হয় তার ব্রেইনের কারণে। একটি উদাহরণ দিলে বুঝতে আরো সহজ হতে পারে। ধরি, আজ ৩টি শিশুর জন্ম হয়েছে। প্রথম শিশুটিকে একটি বাড়িতে আটকে রেখে সেখানেই বড় করতে হবে। তাকে খেতে দিতে হবে, পোষাক দিতে হবে, কিন্তু আর কিছুই না করে; কারো সাথে তার যোগাযোগ নেই। দ্বিতীয় শিশুটিকে বাংলাদেশের কোনও একটি বস্তিতে রেখে আসলে। আর তৃতীয় শিশুটিকে উন্নত কোনো দেশে ভালো পরিবেশে লেখাপড়া এবং প্রযুক্তিগত সুবিধা দিলে ৩০ বছর পর এই শিশুরা যখন প্রাপ্তবয়ষ্ক হবে, কার অবস্থা কী হবে?
প্রথম শিশুটির শারীরিক বৃদ্ধি হবে। কিন্তু সে এই দুনিয়া সম্পর্কে কোনো ধারণাই থাকবে না। সে হবে হাবাগোবা টাইপের৷ কারণ, বয়সের সাথে সাথে তার ব্রেইনের বয়স বাড়েনি, বিকাশ হয়নি। দ্বিতীয় শিশুটি ওই বস্তিতে থেকে খেয়ে- পড়ে বেঁচে যাবে, কিন্তু লেখাপড়া তেমনটা হবে না। সে বর্তমান বিশ্বের সাথে নিজেকে তৈরি করার মতো অবস্থানে থাকবে না। তার ব্রেইন ভিন্নভাবে বিকশিত হবে। আর শেষের শিশুটি যে যোগ্যতা নিয়ে বড় হবে, তার চিন্তা, চেতনা, মনন, লজিক - সব কিছুই ভিন্ন হবে। তার ক্যাপাসিটি ভিন্ন হবে৷ এই ৩ জনের শারীরিক গঠন প্রায় একই রকম থাকলেও, তারা ভিন্ন ভিন্ন মানুষ হবে - তার একমাত্র কারণ হলো তাদের ব্রেইন ভিন্ন।
৪
৪ মন্তব্য