সহকারী অধ্যাপক
৩১ অক্টোবর, ২০২৫ ০৯:০৭ অপরাহ্ণ
সহকারী অধ্যাপক
অড়হর ডাল (ইংরেজি নাম: Pigeon Pea, বৈজ্ঞানিক নাম: Cajanus cajan) একটি অত্যন্ত পুষ্টিকর ও ভেষজ গুণসম্পন্ন ডাল। এটি ভারতীয় উপমহাদেশসহ বাংলাদেশের গ্রামীণ এলাকায় প্রচুর পরিমাণে উৎপন্ন হয়। নিচে অড়হর ডালের ভেষজ (ঔষধি) গুণাবলি ও উপকারিতা বিস্তারিতভাবে তুলে ধরা হলো 👇
অড়হর ডালে প্রচুর পরিমাণে আয়রন, ফলিক অ্যাসিড ও প্রোটিন থাকে, যা রক্তে হিমোগ্লোবিন বৃদ্ধিতে সাহায্য করে। নিয়মিত অড়হর ডাল খেলে অ্যানিমিয়া বা রক্তস্বল্পতা দূর হয়।
এ ডালে থাকা উচ্চমানের উদ্ভিজ্জ প্রোটিন শরীরের পেশি, কোষ ও টিস্যু পুনর্গঠনে সহায়তা করে এবং দুর্বলতা দূর করে।
অড়হর ডালে পটাশিয়াম, ম্যাগনেশিয়াম ও ফাইবার রয়েছে যা রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ করে, রক্তে কোলেস্টেরল কমায় এবং হৃদপিণ্ডকে সুস্থ রাখে।
এ ডালে থাকা ফাইবার (আঁশ) হজম প্রক্রিয়া উন্নত করে, কোষ্ঠকাঠিন্য প্রতিরোধ করে ও অন্ত্র পরিষ্কার রাখতে সাহায্য করে।
অড়হর ডালে থাকা বি-কমপ্লেক্স ভিটামিন (বিশেষত B1, B6) স্নায়ুতন্ত্রকে শক্তিশালী করে, মানসিক ক্লান্তি কমায় ও মস্তিষ্কের কার্যক্ষমতা বৃদ্ধি করে।
অড়হর ডালের পাতা ও বীজে রয়েছে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ও অ্যান্টি-ইনফ্ল্যামেটরি যৌগ, যা প্রদাহ, গেঁটে ব্যথা ও ক্ষত নিরাময়ে সহায়তা করে।
অড়হর ডালের লো গ্লাইসেমিক ইনডেক্স থাকার কারণে এটি রক্তে শর্করার মাত্রা ধীরে বৃদ্ধি করে — ফলে ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য এটি উপকারী।
অড়হর ডালের পাতা সিদ্ধ করে সেই পানি খেলে মূত্রনালীর সংক্রমণ (UTI) ও কিডনির প্রদাহ কমাতে সাহায্য করে বলে আয়ুর্বেদে উল্লেখ আছে।
অড়হর পাতার রস বা পাতা সেদ্ধ পানি প্রাচীন ভেষজ চিকিৎসায় জ্বর ও কাশির প্রাকৃতিক ওষুধ হিসেবে ব্যবহৃত হয়।
· অতিরিক্ত পরিমাণে অড়হর ডাল খেলে গ্যাস বা পেট ফাঁপা হতে পারে।
· যাদের ইউরিক অ্যাসিড বেশি বা গাউটের সমস্যা আছে, তাদের সীমিত পরিমাণে খাওয়া উচিত।
· সর্বদা ভালোভাবে রান্না করে খাওয়াই উত্তম।
০
০ মন্তব্য