শিক্ষা ও মনুষ্যত্ব বলতে মোতাহের হোসেন চৌধুরীর একটি প্রবন্ধের কথা বলা হয়, যেখানে তিনি মানুষের দুটি সত্তা—জীবসত্তা ও মনুষ্যত্ব—এবং শিক্ষার মাধ্যমে কিভাবে মনুষ্যত্বের বিকাশ ঘটে তা আলোচনা করেছেন। শিক্ষা কেবল জীবিকা অর্জনের জন্য নয়, বরং এটি মানুষের ভেতরের মনুষ্যত্ব বা মানবতাকে জাগিয়ে তোলার একটি শক্তিশালী মাধ্যম।
শিক্ষা ও মনুষ্যত্বের সম্পর্ক
জীবসত্তা ও মনুষ্যত্ব:
মানুষের দুটি সত্তা আছে। প্রথমটি হলো জীবসত্তা, যা খাদ্য, বস্ত্রের মতো মৌলিক চাহিদা পূরণের জন্য অপরিহার্য। দ্বিতীয়টি হলো মনুষ্যত্ব বা মানবসত্তা, যা মানুষকে প্রকৃত মানুষ হিসেবে গড়ে তোলে।
জীবসত্তার মুক্তি:
যখন মানুষ জীবিকার প্রয়োজনে অন্নবস্ত্রের চিন্তা থেকে মুক্তি পায়, তখন তার মধ্যে মনুষ্যত্বের বিকাশের সুযোগ তৈরি হয়।
শিক্ষা ও মনুষ্যত্ব:
শিক্ষা মানুষকে শুধুমাত্র অর্থনৈতিকভাবে উন্নত করে না, বরং এটি মানুষের মনের দুয়ার খুলে দেয় এবং তাকে মানবিক গুণাবলি যেমন—সহানুভূতি, সহনশীলতা, পরোপকার, বিচারবোধ ও নৈতিকতার মতো বিষয়গুলো বিকাশে সহায়তা করে।
শিক্ষার অপ্রয়োজনীয় দিক:
লেখক বলেছেন যে, শিক্ষার যে দিকটি সরাসরি জীবিকা অর্জনের জন্য নয়, বরং মনকে বিকশিত করে এবং জীবনকে উপভোগ করতে শেখায়, সেই দিকটিই বেশি গুরুত্বপূর্ণ এবং এই দিকটিই মনুষ্যত্ব অর্জনে সাহায্য করে।
মূল উদ্দেশ্য:
শিক্ষার একটি প্রধান লক্ষ্য হলো মানুষকে জ্ঞান দেওয়া এবং মূল্যবোধ তৈরি করা, যা তাকে উন্নত মানুষ হতে সাহায্য করে।
৫৩
৯১ মন্তব্য