Loading..

ব্লগ

রিসেট

০১ নভেম্বর, ২০২৫ ১১:২৯ অপরাহ্ণ

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা-আশা, আকাঙ্ক্ষা এবং আশঙ্কা।

কৃত্রিম বুদ্ধি বা আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স (AI) নিয়ে একটা হাওয়া উঠেছে, আর তার সাথে পাল্লা দিয়ে তৈরি হয়েছে একগাদা সংশয় ও আশঙ্কা। বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির এ এক নিত্য ও অতি পরিচিত বিড়ম্বনা। অতীতেও দেখা গেছে, যে E = mc2 জ্ঞানের দ্বার উন্মোচন করেছে, সেই E = mc2-এই নিহিত ছিল হিরোশিমা-নাগাসাকির বিভীষিকা। যে মোবাইল ফোন, কম্পিউটার, সামাজিক মাধ্যম, মিডিয়া আমাদের জীবনকে অনেক ‘সহজ’ করে দিয়েছে, তারাই আবার হয়ে উঠেছে মানুষের পরিচিত সামাজিক জীবনের যে স্বাভাবিক বন্ধন, তা টিকিয়ে রাখার সবচেয়ে বড় অন্তরায়। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাও এই ধারার ব্যতিক্রম নয়। ‘আদর্শ’ কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাকে হতে হবে স্বয়ংসম্পূর্ণ। আর এখানেই চলে আসে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার বিভাগ বা ভাগাভাগি, কতরকমের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা আছে সেসব কথা। বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির দৃষ্টিকোণ বাদ দিয়ে স্বল্প পরিসরের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাকে বা বিশেষ কোনও AI কে আমরা কি নজরে দেখব তা অনেকটাই নির্ভর করে আমাদের অভিজ্ঞতা, অভ্যাস ও প্রত্যাশার উপর। পাঠকদের মধ্যে অনেকেই হয়ত প্রথম টিভি দেখেছেন পরিণত বয়সে। প্রথম দর্শনে বিস্ময়ে ফেটে পড়েছেন। পর্দায় জীবন্ত মানুষ! এক নয়, অনেক। সেই মানুষগুলো আবার বদলে যাচ্ছে। টিভি বন্ধ করে দিলে মানুষগুলো উধাও! একই কথা অ্যান্ড্রয়েড মোবাইলের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য। কিন্তু ধীরে ধীরে এই যন্ত্রগুলো আমাদের অভ্যাসের অঙ্গ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এদের কর্মকাণ্ড আর আমাদের বিস্ময়াবিষ্ট করে না। বরং এর অন্যথা হলেই আমাদের মাথাব্যথা শুরু হয়। তাই আজকের দিনে ক্যালকুলেটর, বা যে মোবাইল ফোন কি কম্পিউটারে আপনি এই লেখাটা পড়ছেন, তাকে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বললে অনেকের হাস্যকর মনে হবে। কিন্তু যদি আমরা রোবট ভ্যাকুয়াম ক্লিনারকে- যে নিজে নিজে ঘর পরিষ্কার করতে পারে- কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা পরিচালিত যন্ত্র বলি, তাহলে খুব একটা আপত্তি হবে না।

মন্তব্য করুন

ব্লগ