সহকারী শিক্ষক
০২ নভেম্বর, ২০২৫ ০৮:২২ অপরাহ্ণ
সহকারী শিক্ষক
৫৫ : ৪১
یُعۡرَفُ الۡمُجۡرِمُوۡنَ بِسِیۡمٰهُمۡ فَیُؤۡخَذُ بِالنَّوَاصِیۡ وَ الۡاَقۡدَامِ ﴿ۚ۴۱﴾
-আল-বায়ান
-তাইসিরুল
-মুজিবুর রহমান
-Sahih International
৪১. অপরাধীদের পরিচয় পাওয়া যাবে তাদের লক্ষণ থেকে(১), অতঃপর তাদেরকে পাকড়াও করা হবে মাথার সামনের চুল ও পা ধরে।(২)
(১) سيما শব্দের অর্থ আলামত, চিহ্ন। অর্থাৎ সেদিন অপরাধীদের আলামত হবে এই যে, তাদের মুখমণ্ডল কৃষ্ণবর্ণ ও চক্ষু নীলাভ হবে। দুঃখ ও কষ্টের কারণে চেহারা বিষন্ন হবে। এই আলামতের সাহায্যে ফেরেশতারা তাদেরকে পাকড়াও করবে। [ইবন কাসীর; কুরতুবী]
(২) نواصي শব্দটি ناصية এর বহুবচন। অর্থ কপালের চুল। কেশাগ্র ও পা ধরার এক অৰ্থ এই যে, কারও কেশাগ্র ধরে এবং কারও পা ধরে টানা হবে অথবা একসময় এভাবে এবং অন্য সময় অন্যভাবে টানা হবে। দ্বিতীয় অর্থ এই যে, কেশাগ্র ও পা এক সাথে বেঁধে দেয়া হবে। [কুরতুবী]
তাফসীরে জাকারিয়া(৪১) অপরাধীদের পরিচয় পাওয়া যাবে তাদের হুলিয়া দ্বারা,[1] সুতরাং তাদেরকে পাকড়াও করা হবে পা ও মাথার ঝুঁটি ধরে। [2]
[1] অর্থাৎ, যেভাবে ঈমানদারদের হুলিয়া ও চিহ্ন হবে, আর তা হল, তাদের ওযূর স্থানগুলো উজ্জ্বল হবে, অনুরূপভাবে পাপীদের চেহারা কালো ও চোখ নীলবর্ণ হবে। আর তারা আতঙ্কগ্রস্ত থাকবে।
[2] ফিরিশতারা তাদের ললাট ও পা এক সাথে মিলিয়ে ধরে জাহান্নামে নিক্ষেপ করবেন। অথবা কখনো কারো কপালে ধরবেন, আবার কখনো কারো পায়ে ধরবেন।
তাফসীরে আহসানুল বায়ান৫৫ : ৪২
فَبِاَیِّ اٰلَآءِ رَبِّكُمَا تُكَذِّبٰنِ ﴿۴۲﴾
-আল-বায়ান
-তাইসিরুল
-মুজিবুর রহমান
-Sahih International
৪২. কাজেই তোমরা উভয়ে তোমাদের রবের কোন অনুগ্রহে মিথ্যারোপ করবে?
-
তাফসীরে জাকারিয়া(৪২) অতএব তোমরা উভয়ে তোমাদের প্রতিপালকের কোন্ কোন্ অনুগ্রহকে মিথ্যাজ্ঞান করবে?
-
তাফসীরে আহসানুল বায়ান৫৫ : ৪৩
هٰذِهٖ جَهَنَّمُ الَّتِیۡ یُكَذِّبُ بِهَا الۡمُجۡرِمُوۡنَ ﴿ۘ۴۳﴾
-আল-বায়ান
-তাইসিরুল
-মুজিবুর রহমান
-Sahih International
৪৩. এটাই সে জাহান্নাম, যাতে অপরাধীরা মিথ্যারোপ করত,
-
তাফসীরে জাকারিয়া(৪৩) এটাই সেই জাহান্নাম, যা অপরাধীরা মিথ্যা মনে করত।
-
তাফসীরে আহসানুল বায়ান৫৫ : ৪৪
یَطُوۡفُوۡنَ بَیۡنَهَا وَ بَیۡنَ حَمِیۡمٍ اٰنٍ ﴿ۚ۴۴﴾
-আল-বায়ান
-তাইসিরুল
-মুজিবুর রহমান
-Sahih International
৪৪. তারা জাহান্নামের আগুন ও ফুটন্ত পানির মধ্যে ঘুরাঘুরি করবে।(১)
(১) অর্থাৎ জাহান্নামের মধ্যে বারবার পিপাসার্ত হওয়ার কারণে তাদের অবস্থা হবে অত্যন্ত করুণ। দৌড়িয়ে দৌড়িয়ে পানির ঝর্ণার দিকে যাবে। কিন্তু সেখানে পাবে টগবগে গরম পানি যা পান করে পিপাসা মিটবে না। [কুরতুবী; ইবন কাসীর]
তাফসীরে জাকারিয়া(৪৪) তারা জাহান্নামের আগুন ও ফুটন্ত পানির মধ্যে ছুটাছুটি করবে। [1]
[1] অর্থাৎ, কখনো তাদেরকে জাহান্নামের শাস্তি দেওয়া হবে, আবার কখনো مَاءٌ حَمِيْمٌ ‘ফুটন্ত পানি’ পান করার শাস্তি দেওয়া হবে। آنٍ গরম অর্থাৎ, অতীব গরম ফুটন্ত পানি। যে পানি তাদের নাড়ীভুঁড়ি গলিয়ে দেবে। أَعَاذَنَا اللهُ مِنْهَا
তাফসীরে আহসানুল বায়ান৫৫ : ৪৫
فَبِاَیِّ اٰلَآءِ رَبِّكُمَا تُكَذِّبٰنِ ﴿۴۵﴾
-আল-বায়ান
-তাইসিরুল
-মুজিবুর রহমান
-Sahih International
৪৫. কাজেই তোমরা উভয়ে তোমাদের রবের কোন অনুগ্রহে মিথ্যারোপ করবে?
-
তাফসীরে জাকারিয়া(৪৫) অতএব তোমরা উভয়ে তোমাদের প্রতিপালকের কোন্ কোন্ অনুগ্রহকে মিথ্যাজ্ঞান করবে?
-
তাফসীরে আহসানুল বায়ান৫৫ : ৪৬
وَ لِمَنۡ خَافَ مَقَامَ رَبِّهٖ جَنَّتٰنِ ﴿ۚ۴۶﴾
-আল-বায়ান
-তাইসিরুল
-মুজিবুর রহমান
-Sahih International
৪৬. আর যে তার রবের সম্মুখে উপস্থিত হওয়ার ভয় রাখে, তার জন্য রয়েছে দুটি উদ্যান।(১)
(১) অর্থাৎ যে ব্যক্তি আল্লাহকে ভয় করে পৃথিবীতে জীবন যাপন করেছে, সবসময় যার এ উপলব্ধি ছিল যে, আমাকে একদিন আমার রবের সামনে দাঁড়াতে হবে এবং নিজের সব কাজ-কর্মের হিসেব দিতে হবে। তাদের জন্যই রয়েছে স্পেশাল দুটি বাগান বা উদ্যান। তারাই এই দুই উদ্যানের অধিকারী হবে। [ইবন কাসীর; মুয়াসসার]।
তাফসীরে জাকারিয়া(৪৬) আর যে ব্যক্তি তার প্রতিপালকের সামনে উপস্থিত হওয়ার ভয় রাখে, তার জন্য রয়েছে দু’টি (জান্নাতের) বাগান। [1]
[1] যেমন হাদীসে আছে যে, ‘‘দু’টি জান্নাত রূপার হবে। যার প্লেট এবং তাতে বিদ্যমান সব কিছুই রূপার হবে। দু’টি জান্নাত সোনার হবে। তার প্লেট এবং তাতে বিদ্যমান সব কিছুই সোনার হবে।’’ (বুখারীঃ তাফসীর সূরা রাহমান) কোন কোন উক্তিতে এসেছে যে, সোনার বাগান বিশিষ্ট মু’মিন مُقَرَّبِيْنَ তথা নৈকট্যপ্রাপ্তদের জন্য হবে এবং রূপার বাগান হবে সাধারণ মু’মিন যথা, أَصْحَابُ الْيَمِيْنِ ডান দিকের অধিকারীদের জন্য।
তাফসীরে আহসানুল বায়ান৫৫ : ৪৭
فَبِاَیِّ اٰلَآءِ رَبِّكُمَا تُكَذِّبٰنِ ﴿ۙ۴۷﴾
-আল-বায়ান
-তাইসিরুল
-মুজিবুর রহমান
-Sahih International
৪৭. কাজেই তোমরা উভয়ে তোমাদের রবের কোন অনুগ্রহে মিথ্যারোপ করবে?
-
তাফসীরে জাকারিয়া(৪৭) অতএব তোমরা উভয়ে তোমাদের প্রতিপালকের কোন্ কোন্ অনুগ্রহকে মিথ্যাজ্ঞান করবে?
-
তাফসীরে আহসানুল বায়ান৫৫ : ৪৮
ذَوَاتَاۤ اَفۡنَانٍ ﴿ۚ۴۸﴾
-আল-বায়ান
-তাইসিরুল
-মুজিবুর রহমান
-Sahih International
৪৮. উভয়ই বহু শাখা-পল্লববিশিষ্ট।(১)
(১) এখান থেকে প্রথমোক্ত জান্নাতের প্রস্রবণ দু'টির বর্ণনা দেয়া হচ্ছে, যেগুলো জান্নাতীগণ লাভ করবে। বলা হচ্ছে, (ذَوَاتَا أَفْنَانٍ) অর্থাৎ উদ্যানদ্বয় ঘন শাখাপল্লববিশিষ্ট হবে। এর অবশ্যম্ভাবী ফল এই যে, এগুলোর ছায়াও ঘন ও সুনিবিড় হবে এবং ফলও বেশি হবে। পরবর্তীতে উল্লিখিত উদ্যানদ্বয়ের ক্ষেত্রে এই বিশেষণ উল্লেখ করা হয়নি। ফলে সেগুলোর মধ্যে এ বিষয়ের অভাব বোঝা যায়। [কুরতুবী; ইবন কাসীর]
তাফসীরে জাকারিয়া(৪৮) উভয়ই বহু ডালপালাবিশিষ্ট (গাছে পরিপূর্ণ)। [1]
[1] এখানে ইঙ্গিত করা হয়েছে যে, তাতে ছায়া হবে ঘন ও সুনিবিড়। অনুরূপ ফলও হবে অধিকহারে। কেননা, প্রতিটি ডাল ফলে পরিপূর্ণ থাকবে। (ইবেন কাসীর)
তাফসীরে আহসানুল বায়ান৫৫ : ৪৯
فَبِاَیِّ اٰلَآءِ رَبِّكُمَا تُكَذِّبٰنِ ﴿۴۹﴾
-আল-বায়ান
-তাইসিরুল
-মুজিবুর রহমান
-Sahih International
৪৯. কাজেই তোমরা উভয়ে তোমাদের রবের কোন অনুগ্রহে মিথ্যারোপ করবে?
-
তাফসীরে জাকারিয়া(৪৯) অতএব তোমরা উভয়ে তোমাদের প্রতিপালকের কোন্ কোন্ অনুগ্রহকে মিথ্যাজ্ঞান করবে?
-
তাফসীরে আহসানুল বায়ান৫৫ : ৫০
فِیۡهِمَا عَیۡنٰنِ تَجۡرِیٰنِ ﴿ۚ۵۰﴾
-আল-বায়ান
-তাইসিরুল
-মুজিবুর রহমান
-Sahih International
৫০. উভয় উদ্যানে রয়েছে প্রবাহমান দুই প্রস্রবণ(১);
(১) প্রথমোক্ত দুই উদ্যানের দুই প্রস্রবণ সম্পর্কে تَجْرِيَانِ তথা বহমান বলা হয়েছে, শেষোক্ত দুই উদ্যানের প্রস্রবণ থেকে উত্তম, যাদের সম্পর্কে نَضَّاخَتَانِ তথা উত্তাল বলা হয়েছে। কেননা, প্রস্রবণ মাত্রই উত্তাল হয়ে থাকে। কিন্তু যে প্রস্রবণ সম্পর্কে বহমান বলা হয়েছে, তার মধ্যে উত্তাল হওয়া ছাড়াও দূর পর্যন্ত প্রবাহিত হওয়ার গুণটি অতিরিক্ত। এর দ্বারা বোঝা যায় যে, প্রথমোক্ত জান্নাত দুটি নৈকট্যবান মুমিনদের। পক্ষান্তরে শেষোক্ত দু'টি জান্নাত সাধারণ ঈমানদারদের। [কুরতুবী]
৫
৬ মন্তব্য