Loading..

ব্লগ

রিসেট

০৭ নভেম্বর, ২০২৫ ০৯:২৯ পূর্বাহ্ণ

চতুর্থ শিল্প বিপ্লব ও শিক্ষকতা পেশায় নতুন চ্যালেঞ্জ

চতুর্থ শিল্পবিপ্লব: শিক্ষকতা পেশায় নতুন চ্যালেঞ্জ

 

সপ্তদশ শতকে যান্ত্রিকীকরণের মাধ্যমে যে বিপ্লবের সূচনা হয়েছিল তা আজ বিশ্ব নিয়ন্ত্রণের প্রধান নিয়ামকের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছে। যার গতি কল্পনার গতিকেও হার মানায় । যা আমাদের বিদ্যমান সামাজিক, অর্থনৈতিক, সাংস্কৃতিক, চিকিৎসা, শিক্ষা ও উৎপাদন ব্যবস্থাপনায় টর্নেডোর মতো ঝড় তোলে নতুনত্বের ধারণা নিয়ে প্রতিনিয়ত আমাদের দরজায় কড়া নাড়ছে। আমাদের  চিন্তা জগতকে করেছে প্রসারিত ও পেশাগত জীবনকে করেছে চ্যালেঞ্জিং। আমাদের মনোজগতেও  এসেছে আমূল পরিবর্তন। টিকে থাকার লড়াইয়ে তাই বারবার আমাদের সক্ষমতার পরীক্ষা দিতে হচ্ছে। কেননা আগামী ১০ বছরে বর্তমানের অনেক পেশা হারিয়ে যাবে এবং তদস্থলে প্রযুক্তি নির্ভর দক্ষ জনশক্তির বিপুল চাহিদা তৈরি হবে। এভাবে আগামীর পৃথিবী কতটা পরিবর্তন হতে পারে তা আমাদের ভাবনাতেও নেই। আর এটাই হলো চতুর্থ শিল্প বিপ্লব। পরিবর্তিত এ চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় আধুনিক শিক্ষাক্রম বাস্তবায়নের পাশাপাশি শিক্ষকদের দক্ষতা ও পেশাদারিত্ব মনোভাব কীভাবে যুগোপযোগী হবে তা নিয়েই আজকের আলোচনা। দক্ষতা সমৃদ্ধ শিক্ষকই কেবল পারে শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ যোগ্য নাগরিক হিসেবে গড়ে তোলে  শিল্পবিপ্লবের সফলতা নিশ্চিত করতে। তাই আজকের যোগ্য শিক্ষকই  আগামীর চ্যালেঞ্জিং জাতি বিনির্মাণের প্রধান কারিগর। শিক্ষকদের তাই প্রথমত যুগোপযোগী টিচিং লার্নিং মেথড সম্পর্কে পূর্ণ জ্ঞান অর্জন করতে হবে। এ মেথড বাস্তবায়নে বর্তমানে TPACK(Technological Pedagogical and Content Knowledge) একটি আদর্শ Application যেখানে বিষয়বস্তু, শিক্ষাবিজ্ঞান এবং প্রযুক্তির একটি চমৎকার সমন্বয় ঘটেছে। প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে বিষয়বস্তু ও শিক্ষণ-শিখন ফলপ্রসূ করাই এ মডেলের উদ্দেশ্য। এ মডেল বাস্তবায়নের জন্য শিক্ষকের Technological knowledge, Pedagogical knowledge এবং Content Knowledge এর দক্ষতা প্রয়োজন। শিক্ষার্থীদের সময়োপযোগী চাহিদাপূরণে বর্তমানে এ পদ্ধতি বিশ্বে ব্যাপকভাবে জনপ্রিয়তা লাভ করেছে। তথ্য প্রযুক্তি ব্যবহার করে মাল্টিমিডিয়া ক্লাশরুমে শিক্ষার্থীদের  আনন্দের সাথে  ও সক্রিয় অংশগ্রহণের মাধ্যমে শিক্ষাদানকে স্থায়ী ও ফলপ্রসূ করাই এ পদ্ধতির প্রধান বৈশিষ্ট্য।

বর্তমান কারিকুলামে শিক্ষার্থীকেন্দ্রিক শিক্ষাদান পদ্ধতির  উপর জোর দেয়া হয়েছে যেখানে শিক্ষক থেকে শিক্ষার্থীর কার্যক্রম অধিকমাত্রায় ফোকাস হয়। এ পদ্ধতিতে অনুসন্ধান, পর্যবেক্ষণ, ব্রেইন স্টোর্মিং, সৃজনশীলতা, বিতর্ক প্রভৃতি পদ্ধতি অনুসরণ করে শিক্ষার্থীর জ্ঞান, দক্ষতা, মূল্যবোধ ও দৃষ্টিভঙ্গির বিকাশ ঘটানো হয়। কী শিখতে হবে তার পরিবর্তে কীভাবে শিখতে হবে তার প্রতি গুরুত্বারোপ  করা হয়েছে। শিক্ষার্থীর সক্রিয় অংশগ্রহণের মাধ্যমে পরিপূর্ণভাবে শিক্ষা অর্জনে সক্ষম ও আগ্রহী করা এবং আনন্দের সাথে শিক্ষা গ্রহণের মাধ্যমে শিক্ষাকে স্থায়ী ও ফলপ্রসূ করা এ পদ্ধতির প্রধান উদ্দেশ্য

একবিংশ শতকের শিক্ষকের প্রত্যাশিত  চাহিদা পূরণে মুক্তপাঠ একটি চমৎকার প্লাটফর্ম যেখানে একজন শিক্ষক অনলাইনে বিভিন্ন কোর্স সম্পন্ন করে নিজের পেশাগত দক্ষতা বৃদ্ধির পাশাপাশি নিজেকে শিক্ষার নতুন নতুন আইডিয়ার সাথে সম্পৃক্ত করতে পারে। অন্যদিকে শিক্ষক বাতায়ন শিক্ষকদের একটি সর্ববৃহৎ প্লাটফর্ম যেখানে বিভিন্ন বিষয়ের শিক্ষকগণ মানসম্মত ডিজিটাল কন্টেন্ট আপলোড, ডাউনলোড, ব্লগ কিংবা কমেন্ট প্রভৃতি করতে পারে। কন্টেন্ট নির্মাণ করে এখানে  সেরা কন্টেন্ট নির্মাতা ও ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসেডর হয়ে একজন শিক্ষক এখানে রাষ্টীয় স্বীকৃতির পাশাপাশি সামাজিক মর্যাদাও লাভ করতে পারে। তাই শিক্ষকদের এ দুটি প্লাটফর্মে যুক্ত থাকা এখন সময়ের দাবি।

শিক্ষাক্ষেত্রে বর্তমানে একটি নবতর সংযোজন হচ্ছে ব্লেন্ডেড লার্নিং যা ট্র্যাডিশনাল মেথডের সাথে ই লার্নিং এর সমন্বয়ে একটি হাইব্রিড টিচিং মেথড। এখানে সশরীরে উপস্থিতি ও অনলাইন পদ্ধতির মিশ্রণে শিক্ষণ শেখানো কার্যক্রম পরিচালিত হয়। এ পদ্ধতিতে শিক্ষক শিক্ষার্থীর শ্রেণিকক্ষের একঘেয়েমি দূর করার পাশাপাশি  একজন বিহেভিয়ার স্পেশালিস্ট হিসেবে আবির্ভূত হন। অনলাইন ও অফলাইন উভয়ক্ষেত্রে শিক্ষার্থীর প্রত্যাশিত চাহিদা পূরণ করা শিক্ষকের জন্য এক চ্যালেঞ্জ।  ব্লেন্ডেড পদ্ধতিতে শিক্ষককের শিখন বিজ্ঞানে দক্ষতার পাশাপাশি গুগল ক্লাশরুম, গুগল ফর্ম, গুগল মিট, জুম, মাইক্রোসফট টিম, এডমোডো, এ আই টুলসে প্রভৃতি অ্যাপ্লিকেশন ব্যবহারে পারদর্শী হতে হয়। এজন্য চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের এ যুগে শিক্ষকদের  ৫টি বিষয়ে যোগ্যতা অর্জন করার কথা বলা হয়েছে। আর তা হলো :

1. শিক্ষণ বিজ্ঞানে যোগ্যতা

২. সামাজিক যোগ্যতা

৩. ব্যক্তিগত যোগ্যতা

৪. পেশাগত যোগ্যতা

৫. প্রযুক্তিগত যোগ্যতা

সম্প্রতি কাতারে অনুষ্ঠিত ওয়ার্ল্ড ইনোভেশন সামিট ফর এডুকেশন-২০২৩ সম্মেলনের  মূল বিষয় ছিল “জীবনের জন্য উদ্ভাবনী শিক্ষা” নতুন প্রজন্মের শিক্ষার্থীদের কিভাবে সংবেদনশীল, দায়িত্ববান, সহযোগিতামূলক, কর্মোদ্যেগী, ডিজিটাল ও অংশীদারি হিসেবে রুপান্তর করা যায় সেই উপায়টি খুঁজে বের করাই ছিল এ সামিটের উদ্দেশ্য। এ ক্ষেত্রে ইউনেস্কো প্রণীত ফোর পিলার্স অফ লার্নিং ধারণাটি বারবার প্রতিধ্বনিত হয়েছে। আর  তা হলো :

১। লার্নিং টু নো (জানার জন্য শিখন)  এ:ই শিখনে পেশাগত ও সামাজিক জীবনে মর্যাদার সাথে বেঁচে থাকার  জন্য  

   বিজ্ঞান,  সামাজিক বিজ্ঞান ও জীবনদক্ষতা ভিত্তিক শিক্ষার কথা বলা হয়েছে যা বাস্তবিক  সমস্যার সমাধানে সহায়ক   

   হবে।

২।  লার্নিং টু ডু (করার জন্য শিখন) : এই শিখন হবে প্রয়োগমুখী। শিক্ষার্থীর শিখন প্রয়োগের মাধ্যমে রূপান্তরিত হয়  

     দক্ষতায়। এই দক্ষতা শুধু কর্মক্ষেত্রের জন্য নয়; হতে হবে ব্যক্তিক উদ্যোগ ও গুণাবলির উন্নয়ন, মনোবৃত্তির  

     ইতিবাচক  পরিবর্তন, মানানসই সামাজিক আচরণ ও ঝুঁকি গ্রহণ করার মানসিকতার ক্ষেত্রেও।

 

৩।  লার্নিং টু বি (পরিপূর্ণ হওয়ার শিখন) : এই শিখনের উদ্দেশ্য হবে শিক্ষার্থীকে পরিপূর্ণ মানুষরূপে গড়ে তোলার  

     ক্ষেত্রে অবদান রাখা; যেখানে ব্যক্তির অধিকার আদায় ও দায়িত্ববোধ পালনের মূল বিষয়; যথা শরীর  ও মন,

     মেধা, সৌন্দর্য, সংবেধনশীলতা, ব্যক্তিস্বাতন্ত্র্য, কল্পনাশক্তি, আধ্যাত্মিকতা, আত্মনির্ভরশীলতা, স্বাধীনতা,

     বিচার, সৃজনশীলতা সংকটপূর্ণ চিন্তা, ও মানুষের স্বাধীনতাসহ শিক্ষার্থীর  সর্বোচ্চ সম্ভাবনার বিকাশের মাধ্যমে 

     তাদের সামষ্টিক  উন্নয়ন নিশ্চিত করা।  

৪।  লার্নিং টু লিভ টুগেদার (একত্রে বসবাসের শিখন) : এই শিখন হবে সামাজিক মূল্যবোধমুখী; যা উৎসারিত  

      হবে শিক্ষার্থীর হৃদয় থেকে। এর উদ্দেশ্য হবে সর্বক্ষেত্রে বৈষম্য দূর, মানবাধিকার সুরক্ষা ও গণতন্ত্রায়ন, মানসম্পন্ন  

      টেকসই উন্নয়ন ও পরিবেশের সুরক্ষায় স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ    

শিক্ষার একটি টেকসই ভিত্তি গড়ার জন্য এই ফোর পিলার্স অফ লার্নিং ধারণাটি অত্যন্ত গুরুত্বপুর্ণ যা বাস্তব জীবনের সাথে শিক্ষার চমৎকার একটি সমন্বয় ঘটিয়ে শিক্ষক শিক্ষার্থী উভয়কেই  সময়ের সাথে তাল মিলাতে Life long learning বা সারাজীবন শিখন নীতিতে অনুপ্রাণীত করেছে। এ ছাড়া উক্ত সম্মেলনে শিক্ষক ও শিক্ষার্থী উভয়ের জন্য একবিংশ শতকের শিক্ষার আরো পাঁচটি চ্যালেঞ্জ চিহ্নিত করা হয়েছে। তা হলো :

১। তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি ভিত্তিক জ্ঞান ও দক্ষতা

২। প্রযুক্তি নির্ভর যোগাযোগ

৩। আন্তর্জাতিক ভাষা জ্ঞানে পারদর্শীতা

৪। সামাজিক নেটওয়ার্ক

৫। সৃজনশীলতা ও ইনোভেশন

আমাদের শিক্ষাক্রম-২০২২ প্রবর্তন করা হয়েছে যা ২০২৩ সাল হতে মাধ্যমিক পর্যায়ে ও পরবর্তিতে অন্যান্য শ্রেণিতে ধাপে ধাপে বাস্তবায়িত হবে। এ শিক্ষাক্রমের অভিলক্ষ্য হচ্ছেঃ

১। শিক্ষার্থীর অন্তর্নিহিত সম্ভাবনার বিকাশ সাধন করা;

২। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে শিক্ষার্থীর বিকাশ ও উৎকর্ষের সামাজিক কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলা;

৩। প্রাতিষ্ঠানিক পরিবেশের বাহিরেও বহুমাত্রিক শিখনের সুযোগ তৈরি করা;

৪। সংবেদনশীল, জবাবদিহিমূলক, একীভূত এবং অংশগ্রহণমূলক শিক্ষা বাস্তবায়ন;

৫। শিক্ষা ব্যবস্থার সকল পর্যায়ে দায়িত্বশীল, দক্ষ ও পেশাদার জনশক্তি নিয়োগ।

বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরাম সম্প্রতি একবিংশ শতকের চাহিদা পূরণে আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে গড়ে তোলার জন্য কতগুলো দক্ষতা অর্জনের ওপর গুরুত্বারোপ করেছে। আমাদের নতুন শিক্ষাক্রমও এই সকল দক্ষতাকে ফোকাস করে  শিক্ষার্থীদের মাঝে যে সকল গুনাবলির বীজবপন করতে শিক্ষকদের নির্দেশনা দিয়েছেন তা হলোঃ

১। সুক্ষ্ণ চিন্তন দক্ষতা

২। সৃজনশীল চিন্তন দক্ষতা

৩। সমস্যা সমাধান দক্ষতা

৪। সিদ্ধান্ত গ্রহণ দক্ষতা

৫। যোগাযোগ দক্ষতা

৬। স্ব-ব্যবস্থাপনা দক্ষতা

৭। সহযোগিতামূলক দক্ষতা

৮। জীবিকায়ন দক্ষতা

৯। মৌলিক দক্ষতা

১০। ডিজিটাল দক্ষতা

১১। বিচারিক দক্ষতা

১২। স্ব-উদ্যেগতামূলক দক্ষতা

১৩। সুনাগরিকত্ব দক্ষতা

১৪। আবেগিক বুদ্ধিমত্তা

শিক্ষা প্রদান কিংবা গ্রহণের ক্ষেত্রে আমাদের ভিশন ও মিশন ও সঠিকভাবে স্থির করতে না পারলে আমরা আমাদের পথ হারাবো। সদা পরিবর্তনশীল পৃথিবীতে আমাদের অস্তিত্বের সংকট দেখা দিবে। মানব সভ্যতার বিবর্তনের মূলে রয়েছে শিক্ষা আর এই শিক্ষাকে তার কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে পৌছে দিয়ে চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের ফসল ঘরে তুলে আনাই হচ্ছে বর্তমানে শিক্ষা ও শিক্ষকতা পেশায় সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। এ ক্ষেত্রে সময়োপযোগী শিক্ষাক্রম, প্রশিক্ষণ, শিক্ষকের পেশাদারিত্ব মনোভাব, দায়িত্বশীলতা, বিষয়ভিত্তিক চর্চা ও গবেষণার কোনো বিকল্প নেই। প্রয়োজন শিক্ষকদের প্রণীত পাঠ্যক্রম ও তার নির্যাস বিশ্লেষণের সঙ্গে ভবিষ্যৎমুখী তথ্যের সন্নিবেশন নিশ্চিত করা; নচেৎ শিক্ষার্থীর আজকের এই অর্জিত জ্ঞান আগামী দিনের চাহিদা পূরণে অনেকাংশে ব্যর্থ হবে। আমরা শিক্ষার্থীদের আজ যা শেখাচ্ছি, সেই শিখন আগামীর কর্মক্ষেত্রের চাহিদা মোকাবিলায় কতটুকু প্রয়োজন তা এখনই ভাবতে হবে। একজন শিক্ষক শিক্ষার্থীকে সময়োপযোগী জ্ঞান  তখনই দিতে পারবেন, যখন তিনি  আধুনিক শিখন-শেখানো পদ্ধতি সম্পর্কে পরিপূর্ণ ধারণা রাখতে পারবেন। অন্যথায় আমাদের স্বপ্ন তিমিরেই থেকে যাবে। আমাদের মনে রাখতে হবে যারা যুগের সাথে তাল মেলাতে পারেনা যুগ তাদের সরিয়ে দেয়। তাই সাফল্যকে ধরে রাখতে আমাদের দেশের শিক্ষকদের সময়ের সাথে এগিয়ে যেতে হবে। তবে শিক্ষকদের সামাজিক ও অর্থনৈতিক মর্যাদা নিশ্চিত না হলে সব প্রচেষ্টাই ব্যর্থতায় পর্যবসিত হবে।

 

মুহাম্মদ আবদুল কাদির

সহকারী পরিচালক

উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষক প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউট, কুমিল্লা।

মোবাইল- ০১৮১৯১১৫০৪৭

[email protected]

মন্তব্য করুন