অধ্যক্ষ
০৭ নভেম্বর, ২০২৫ ১১:৫৯ পূর্বাহ্ণ
জীবনের ইতিহাসঃ নামঃ আবু ওমর মুহাম্মদ ফারুক হোসাইন, পিতার নাম:শাহ ছুপি হযরত ওসমান গনী (র:)
জীবনের ইতিহাসঃ
নামঃ আবু ওমর মুহাম্মদ ফারুক হোসাইন, পিতার নাম:শাহ ছুপি হযরত ওসমান গনী (র:) মাতার নাম: মরহুমা সূর্য বান বিবি জন্ম স্থান: বরিশাল বিভাগের পাথরঘাটা উপজেলার চর লাঠি মারা গ্রামে ১৯৭৭ খ্রিস্টাব্দের জানুয়ারী মাসের এক তারিখ সম্ভান্ত্র মুসলিম পরিবারে। পিতা ছিলেন কিল্লার হাওলাদার বাড়ি জামে মসজিদের খতিব। শিক্ষা: শ্রদ্ধেয় পিতা শাহ ছুপি হযরত ওসমান গনী (র:) এর কাছেই প্রাথমিক শিক্ষা শুরু।এর পর চরলাঠি মারা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ভর্তি হয়ে ৪র্থ শ্রেণি পর্যন্ত লেখা পড়া করেন। এরপর পিতার সাথে বান্দরবান জেলার লামা উপজেলার রূপসী পাড়ায় আসেন। সেখানে প্রাইমারি স্কুলে ভর্তি হন। প্রাইমারি শিক্ষা সমপ্তি করে ব্যবসা শুরু করেন। প্রায় ৪ বছর ব্যবসা করার পর তিনি ১৯৮৪ সালে চট্টগ্রাম জেলার লোহাগড়া উপজেলার পুটিবিলা হামিদিয়া ফাজিল মাদ্রাসায় ৪র্থ শ্রেণিতে ভর্তি হন। তখন অধ্যক্ষ ছিলেন মাওলানা হাসান আলী। ৬ষ্ঠ শ্রেণিতে থাকা অবস্থায় লোহাগাড়া উপজেলায় ২১ দিনের আনসার বাহিনীর আর্ম প্রশিক্ষণে সর্ব কনিষ্ঠ হিসেবে অংশ গ্রহণ করে সর্বোচ্চ নম্বর পেয়ে মেডেল প্রাপ্ত হন। সেখানে তিনি ৬ষ্ঠ শ্রেণি পর্যন্ত পড়েন। এসময় ছাত্র শিবিরের সাথে জড়িয়ে পড়েন এবং শিবিরের সাথী হন। পরে ছাত্র সংগঠন থেকে সরে যাওয়ার জন্য ১৯৮৭ সালে সাতকানিয়া উপজেলার গারাঙ্গিয়া কামিল মাদ্রাসায় ৭ম শ্রেণিতে ভর্তি হন। এখানে এক বছর লেখা পড়া করার পর ১৯৮৮ সালে চট্টগ্রাম নেসারিয়া কামিল মাদ্রাসায় এসে ৮ম শ্রেণিতে ভর্তি হন। তখন অধ্যক্ষ ছিলেন মুফতিয়ে আহলে সুন্নত মুফতি মোজাফফর আহমদ (র:)। অধ্যক্ষ মুফতি মোজাফফর আহমদ হুজুর তাকে সন্তান তুল্য আদর স্নেহ মমতা দিয়ে কাছে টেনে নেন।১৯৯১ ইং সনে দাখিল পরীক্ষায় অংশ গ্রহণ করে ২য় বিভাগে উত্তীর্ণ হন। এর পর আর্থিক অবস্থার কথা চিন্তা করে প্রথমে লামা ইসলামিয়া ফাজিল মাদ্রাসায় লিম প্রথম বর্ষে ভর্তি হন। কিন্তু সেখানে মন না টিকায় আবার চট্টগ্রাম নেসারিয়া কামিল মাদ্রাসায় চলে আসেন এবং আলিম প্রথম বর্ষে ভর্তি হন। আলিম প্রথম বর্ষে ভর্তি হওয়ার পরই অধ্যক্ষ মুফতি মোজাফফর আহমদ হুজুর মাদ্রাসার মসজিদে গাউসে পাকের মোয়াজ্জিনের দায়িত্ব দেন। ১৯৯৩ ইং সনে আলিম১৯৯৫ সনে ফাজিল এবং ১৯৯৭ ইং সনে কামিল পাস করেন। ফাজিল শ্রেণিতে অধ্যয়নরত অবস্থায় ১৯৯৫ সালে আব্দুল আলির নগর (ঝোলাপাড়া) তৈয়বিয়া সুন্নিয়া ফোরকানিয়া মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠা করে তাতে মক্তব শিক্ষার শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। আরবি শিক্ষার পাশাপাশি জেনারেল শিক্ষা অর্জনের জন্য ওমর গনি এম ই এস কলেজ থেকে স্নাতক ডিগ্রি চট্টগ্রাম কলেজ থেকে এমএ মাস্টার্স এবং চট্টগ্রাম বঙ্গবন্ধু ল" টেম্পল থেকে এল এলবি ডিগ্রি অর্জন করেন। কামিল পাস করার পরই চট্টগ্রাম নেসারিয়া কামিল মাদ্রাসার আরবি প্রভাষক প্রিয় ওস্তাদদের মধ্য অন্যতম ওস্তাদ মাওলানা আ,ফ,ম গোলাম মাওলা হুজুর তার আব্বা অধ্যক্ষ আবুল মুনসুর কর্তৃক প্রতিষ্ঠিত খেয়ারহাট নুরিয়া সিদ্দিকীয়া দাখিল মাদ্রাসার সুপার হিসেবে নিয়োগ দেন। তিনি ০১/০১/১৯৯৮ ইং তারিখে সুপার পদে যোগদান করেন। যোগদানের পর থেকে আপ্রাণ চেষ্টা করে প্রথমে একাডেমিক স্বীকৃতি নিয়ে ২০০০ খ্রিষ্টাব্দে এমপিও ভুক্ত করেন। ২০০৪ সালে উপজেলার মাদ্রাসা পর্যায়ে শ্রেষ্ঠ প্রতিষ্ঠান প্রধান নির্বাচিত হন। এর পর চট্টগ্রাম একেখান মোড়ের হোসেন ম্যানসন এর মালিক আলহাজ্ব মোহাম্মদ হোসেন সাহেবের সহযোগিতায় মিরসরাই উপজেলায় বিভিন্ন যায়গায় ১২টি মসজিদ নির্মাণ করেন। ৩০/০৪/ ২০১৩ পর্যন্ত উক্ত মাদ্রাসায় সততার সাথে দায়িত্ব পালন করে ০১/০৫/২০১৩ তারিখে ওখানে অব্যবহিত দিয়ে একই পদে সীতাকুণ্ড উপজেলার প্রাচীনতম মাদ্রাসা বড় দারোগা হাট সিরাজুল উলুম ইসলামিয়া দাখিল মাদ্রাসায় যোগদান করেন। ২০২০ সালে a2i কর্তৃক পরিচালিত শিক্ষক বাতায়নের জেলা অ্যাম্বাসেডর হিসেবে নিযুক্ত হন। একই বছয় সে বাংলাদেশ জামিয়াতুল মোদার্রেসীনের চট্টগ্রাম জেলার যুগ্ন সম্পাদক ও বাংলাদেশ আহলে সুন্নত ওয়াল জামাতের চট্টগ্রাম উত্তর জেলার কাউন্সিল সাংঠনিক সম্পাদক নির্বাচিত হন। ২০২১ সালের ৩১ শে জানুয়ারি পর্যন্ত অত্যন্ত দক্ষতার সাথে দায়িত্ব পালন করে অব্যহতি দেন। এর পর প্রমোশন নিয়ে ২০২১ সালের ফেব্রুয়ারী মাসের ০১ তারিখ নারায়ণহাট ইসলামিয়া আলিম মাদ্রাসায় অধ্যক্ষ পদে যোগদান করেন। ২০২২৩ শিক্ষা বর্ষে নতুন কারিকুলাম শুরু হওয়ার পর উক্ত কারিকুলাম পরিচালনার জন্য নতুন অ্যাপ নৈ পূর্ণ অ্যাপ এর ফটিকছড়ি উপজেলার ভুজপুর থানায় কোন ফাজিল মাদ্রাসা না থাকায় এলাকার শিক্ষার্থীদের কথা চিন্তা করে মাদ্রাসাকে ফাজিল শ্রেণিতে উন্নিত করার জন্য গভর্নিং বডির সম্মানিত সভাপতি জনাব রকিবুল আলম চৌধুরী মহোদয়ের অনুরোধে আপ্রাণ চেষ্টা করে নারায়ণহাট ইসলামিয়া আলিম মাদ্রাসাকে ২৪/০৫/২০২৪ তারিখে ইসলামি আরবি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে ফাজিল স্নাতক পাস অনুমোদন পাওয়ার মাধ্যমে মাদ্রাসাকে একধাপ সামনের দিকে এগিয়ে নেন।
ব্যাক্তিগত জীবনে ১৯৯৭ ইংরেজির জুলাই মাসে কক্সবাজার জেলার পেকুয়া উপজেলার গোয়াখালী গ্রামের ছুপি আলহাজ্ব জমির আহমেদ এর কনিষ্ঠ কন্যা জাহানারা বেগমের সাথে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন। তাদের দাম্পত্য জীবনে দুই ছেলে ও এক মেয়ে জন্ম হয়। বড় ছেলে এশিয়াখ্যাত জামেয়া আহমদিয়া সুন্নিয়া কামিল মাদ্রাসায় ফাজিল ফাইনাল পরীক্ষা ও চট্টগ্রাম কলেজ থেকে অনার্স পরীক্ষা দিচ্ছে। ছোট ছেলে সিলেট শাহ জালাল বিজ্ঞান প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে গণিত বিষয় নিয়ে অনার্স পড়ছে। একমাত্র মেয়ে এবছর ৫ম শ্রেণীর পরীক্ষায় অংশ গ্রহণ করতে যাচ্ছে।
১৪
২৪ মন্তব্য