ভাষা আন্দোলন ছিল ১৯৪৭ থেকে ১৯৫৬ সাল পর্যন্ত তৎকালীন পূর্ব বাংলায় (বর্তমান বাংলাদেশ) একটি রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক আন্দোলন। এর মূল লক্ষ্য ছিল বাংলাকে তৎকালীন পাকিস্তানের অন্যতম রাষ্ট্রভাষা হিসেবে প্রতিষ্ঠা করা, কারণ পাকিস্তানের সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষ বাঙালি হওয়া সত্ত্বেও শুধুমাত্র উর্দুকে রাষ্ট্রভাষা করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। এই আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে ১৯৫২ সালের ২১শে ফেব্রুয়ারি ঢাকার রাজপথে ছাত্র-জনতার মিছিলে পুলিশের গুলিতে আবুল বরকত, রফিক উদ্দিন আহমেদ, আবদুস সালাম, ও আব্দুল জব্বারসহ অনেকে শহীদ হন।
আন্দোলনের পটভূমি
১৯৪৭ সালে ভারত বিভক্তির পর পূর্ব পাকিস্তান ও পশ্চিম পাকিস্তান নামে দুটি আলাদা রাষ্ট্রের জন্ম হয়, যেখানে ধর্মের মিল ছাড়া অন্য কোনো মিল ছিল না।
পাকিস্তানী শাসকগোষ্ঠী বাঙালির ভাষা ও সংস্কৃতিকে ধ্বংস করার ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয় এবং শুধুমাত্র উর্দুকে রাষ্ট্রভাষা হিসেবে চাপিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করে।
১৯৪৮ সালের ১১ মার্চ, রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ ভাষা আন্দোলনের জন্য প্রথম ধর্মঘট পালন করে, কারণ সরকার মুদ্রা, ডাকটিকিট এবং নৌবাহিনীতে বাংলা ব্যবহার না করার সিদ্ধান্ত নেয়।
১৯৪৮ সালের ২১ মার্চ এবং ২৪ মার্চ ঢাকার সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে তৎকালীন গভর্নর-জেনারেল মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ ঘোষণা করেন যে, 'উর্দুই হবে পাকিস্তানের একমাত্র রাষ্ট্রভাষা'।১৯৫২ সালের ২১শে ফেব্রুয়ারি
২১শে ফেব্রুয়ারি (৮ ফাল্গুন, ১৩৫৮) ঢাকার ছাত্র-জনতা ১৪৪ ধারা ভঙ্গ করে মিছিল বের করে।
মিছিলের উপর পুলিশ গুলি চালায়, যার ফলে সালাম, বরকত, রফিক, জব্বার, শফিউর রহমানসহ আরও অনেকে শহীদ হন।
এই ঘটনা ভাষা আন্দোলনকে আরও জোরদার করে এবং মাতৃভাষার দাবির পক্ষে জনমত তৈরি করে।
আন্দোলনের ফলাফল
ভাষা আন্দোলনের চূড়ান্ত বিজয়ের ফলে ১৯৫৬ সালে বাংলাকে পাকিস্তানের অন্যতম রাষ্ট্রভাষা হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়।
এই আন্দোলন বাঙালি জাতিসত্তার জাগরণে একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে এবং পরবর্তীতে একটি ভাষাভিত্তিক স্বাধীন রাষ্ট্র, বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠায় পথ প্রশস্ত করে।
১৯৫২ সালের ২১শে ফেব্রুয়ারির ঘটনাকে স্মরণীয় করে রাখতে ইউনেস্কো ১৯৯৯ সালে ২১শে ফেব্রুয়ারিকে “আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস” হিসেবে ঘোষণা করে।
৫৩
৯১ মন্তব্য