Loading..

ব্লগ

রিসেট

১১ নভেম্বর, ২০২৫ ০৭:৫৫ পূর্বাহ্ণ

হল প্রভাব কী? ব্যাখ্যা কর।

হাল আমলের সেই Flipping মোবাইল সেট (ভাঁজ করা মোবাইল?) গুলোর কথা মনে আছে আপনাদের? প্রথম যখন বাজারে এসেছিল সেরকম একটা আলোড়ন তুলেছিলো সেটগুলো।

main-qimg-7675e609db5779c6cc0775d5f1aa2ddd-pjlq

সেই সেটগুলোতে ভাঁজ খুললেই প্রদর্শনীটি অন হয়ে যেত আবার ভাঁজ বন্ধপ্রায় অবস্থায় আসলে স্বয়ংক্রিয়ভাবে তা বন্ধ হয়ে যেত। এই কাজটি কিভাবে হয় জানেন?

Keypad এর শেষপ্রান্তে একটি sensor বসানো থাকে। আর Display এর উপরপ্রান্তে বসানো থাকে একটি চুম্বক। যখনই মোবাইলটির ভাজ বন্ধ করা হয় তখন এই চুম্বকটি sensor এর কাছাকাছি চলে আসে। এই sensor টি এমন যে এতে চৌম্বক ক্ষেত্র প্রযুক্ত হলে এতে একটি বিভব সংকেত (voltage signal) তৈরী হয়। Sensor এর সাথে আরও কিছু mechanism যুক্ত থাকে যাতে সেই সংকেত পেলে এটি মোবাইলের প্রদর্শনীটি বন্ধ করে দেয়।

main-qimg-c2fcc1b390aa3f92894ce507ea55c768-lq

আবার খোলার সময় যখন চুম্বকটি keypad হতে দূরে সরে যায় তখন sensor এর উপর আর চৌম্বক ক্ষেত্র কাজ করে না। ফলে ঐ বিভব আর তৈরী হয় না এবং প্রদর্শনীটি চালু হয়ে যায়।

এই যে sensor এর কথা বললাম এটিকে Hall Sensor বলে কারণ এটি Hall Effect অর্থাৎ হল প্রভাব এর ভিত্তি করে কাজ করে। হল প্রভাবকে এভাবে সংজ্ঞায়িত করা যায়ঃ

যখন কোন তড়িৎবাহী পরিবাহকের উপর চৌম্বকক্ষেত্র প্রয়োগ করা হয় তবে চৌম্বকক্ষেত্র ও তড়িৎপ্রবাহের লম্বালম্বি দিকে একটি বিভব পার্থক্য তৈরী হয়। একে হল বিভব বলে।

main-qimg-6e968bf2b7c77688b4f5e93eb624c210

উপরের অ্যানিমেশন থেকে বিষয়টি ভালভাবে বোঝা যাচ্ছে। যখন চুম্বক আনা হচ্ছে তখনই চৌম্বকক্ষেত্র দ্বারা তড়িৎপ্রবাহ সৃষ্টিকারী ইলেকট্রনগুলো তাদের পথ থেকে সরে যাচ্ছে। এতে পরিবাহকের দুই প্রান্তে একটি বিভব পার্থক্য তৈরী হচ্ছে।

এবার একটু পদার্থবিজ্ঞানে প্রবেশ করা যাক।

চৌম্বক ক্ষেত্র গতিশীল আধানের উপর বল প্রয়োগ করে থাকে। এই বলটি নিম্নের সমীকরণ দ্বারা নির্নয় করা যায়ঃ

F=qv×B

এখানে Fqv এবং B হচ্ছে যথাক্রমে প্রযুক্ত বল, আধানের মান, আধানের বেগ এবং চৌম্বকক্ষেত্রের প্রাবল্য।

তবে এই মানের চেয়ে আমরা এখন বেশী আগ্রহী এই বলের দিকের উপর। ভেক্টরের ক্রস গুণফলের নীতি (ডান মুষ্ঠি নিয়ম) প্রয়োগ করলে আমরা দেখব যে এই বলের দিক হবে তড়িৎপ্রবাহের দিক এবং চৌম্বক ক্ষেত্রের দিকের সাথে লম্ব বরাবর।

main-qimg-6643fba99132dd39e69f451bb52f0cc5-lq

চিত্রঃ ভেক্টরের ক্রস গুণফলের দিক নির্ণয়ের ডান মুষ্ঠি পদ্ধতি।

এখন কোনো পরিবাহকের মধ্য দিয়ে তড়িৎপ্রবাহ চলা মানে এর মধ্য দিয়ে ইলেকট্রনের প্রবাহ। তাই যখনই এই তড়িৎবাহী পরিবাহকের উপর চৌম্বকক্ষেত্র প্রয়োগ করা হয় তখনই ইলেকট্রনগুলোর উপর বল প্রযুক্ত হয়। ইলেক্ট্রনগুলো পরিবাহকের এক পাশে ঘেঁষে চলতে থাকে। ঐপাশে ইলেকট্রনের ঘনত্ব বেড়ে যায় (সে পাশটি ঋণাত্মক) এবং ফলশ্রুতিতে অপরপাশে ইলেকট্রনের ঘনত্ব কমে যায় (সে পাশটি তাই ধনাত্মক)। এর মানে দাঁড়ায়, পরিবাহকের দুই পাশে একটি বিভব পার্থক্য সৃষ্টি হয় যা আমরা হল বিভব নামে অভিহিত করে থাকি।

main-qimg-1e1ea52f14884f13b6e02e5832a57c68-lq
মন্তব্য করুন