Loading..

ব্লগ

রিসেট

১১ নভেম্বর, ২০২৫ ১০:৪৬ অপরাহ্ণ

শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের টাইমিং নিয়ে ভাববার প্রয়োজন।

দুই শিফটের সরকারি মাধ্যমিক স্কুলের ক্লাস টাইমটা অনেক সুন্দর। সকাল ৭টা হতে-১২:৩০টা আর ডে শিফটে  ১২:৩০  হতে বিকাল ৫ টা। শীতকালে তা একটু কম হয়ে থাকে 

আচ্ছা এতে কী শিক্ষার্থীদের শিখন ঘাটতি হয়? বরং অনেক সরকারি মাধ্যমিক স্কুলের ফলাফল জেলায় প্রথম। 


জলবায়ু পরিবর্তন, তাপমাত্রা বৃদ্ধি, লোডশেডিং  ও শিক্ষার্থীদের বিশ্রাম, সুস্থতা, পুষ্টির কথা চিন্তা করে এক শিফটের এমপিওভুক্ত স্কুল,  কলেজ, মাদরাসা এমনকি প্রাইমারিতে মর্নিং স্কুল চালু করা প্রয়োজন।


আমার নিজের শিক্ষার্থীদের অবস্থা বা আশে পাশের অনেক প্রতিষ্ঠানের পরিচিত শিক্ষার্থী-অভিভাবকদের সাথে কথা বলেই এই উপলব্ধি। 


যে বাচ্চার স্কুল দশটা বাজে শুরু। সে সকাল নয়টা বা সাড়ে আটটায় ঘর থেকে বের হয়। চারটায় ছুটি হলে সাড়ে চারটায় বা পাঁচটায়  বাড়ি যায়। 


এই শিক্ষার্থীগুলো কখন গোসল করে? কখন খেলাধূলা করে? দুপুরে একটু রেস্টের প্রয়োজন,  রেস্ট কই?


 এমনকি দিনের গুরুত্বপূর্ণ খাবার লাঞ্চটাই ঠিক করে করা হয় না অনেক বাচ্চারই। কারো মা এত সকালে রান্না করতে পারেনি, কারো স্কুলে টিফিন ব্যাগ বয়ে আনার ঝামেলা, কারো প্রতিষ্ঠানে খেতে ভালো লাগে না। 

খুব কম প্রতিষ্ঠানেই মিড ডে মিল চালু আছে। আবার যেগুলোতে চালু আছে, সেখানের দেওয়া  অনেক খাবার অনেক বাচ্চা খেতে চায় না। 


আমি নিজ অভিজ্ঞতা থেকে বলেছি,  আমার শিক্ষা জীবনেও সকাল সাড়ে নয়টায় বের হতাম, আটটা-সাড়ে আটটায় নাস্তা খেতাম এরপর জোর করলেও ভাত খেতাম না। সারাদিন স্কুলে।  টিফিনও তেমন খাওয়া হতো না। অনেকেই খেতো না, ওদের সামনে একা একা নিজে খেতে আমার ভালো লাগতো না।বিকালে এসে খাওয়া মাত্র দুনিয়ায় ক্লান্তি আসতো, সন্ধ্যায় ঘুমের জন্য ঠিকমত পড়তে পারতাম না।


দুপুরের পর শিক্ষার্থীদের রাখা বিশেষ-টিনএজারদের রাখা,  এক কঠিন সাধনা। অনেকেই দুপুরের পর কোন না কোন বাহনায় ছুটির জন্য আসবে। কারো গরম লাগে, কারো ঘুম আসে। কারো ভালো লাগে না।কারো মাথা ব্যাথা।কারো পেট ব্যাথা।   কেউ নানার বাড়িতে যাবে,,,,ইত্যাদি।


আমার মেয়েরা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে থাকতে দুপুরে স্কুলে থেকে বিকাল সাড়ে চারটায় ক্লান্ত হয়ে বাসায় ফিরতো,  আমার খুব খারাপ লাগতো। খেলবে, না ঘুমাবে?তারা কাঁদতো, একটু খেলতেো পারলাম না।


আলহামদুলিল্লাহ এখন সরকারি হাইস্কুলে ৭ টায় যায়, তাই ভোরে ঘুম থেকে উঠে।  সাড়ে বারোটায় আসে, গোসল করে খেয়ে নামাজ পড়ে,  দুপুরে  রেস্ট নেয়। বিকালে খেলতে পারে, হোমওয়ার্ক করতে পারে। 


আশে পাশের অনেক অভিভাবক যাদের বাচ্চা লটারিতে আসে নাই,  তারা দেখে বলে, আপনার মেয়েদের স্কুল টাইমটা অনেক ভালো লাগে।


অনেকে হয়তো বলতে পারেন, সকালবেলায় শিক্ষার্থীরা কিভাবে আসবে। উল্লেখ্য এখন খুবই কম সংখ্যক শিক্ষার্থী শরৎ চন্দ্রের ভাষায়,  "দুই ক্রোশ" কম হেঁটে বিদ্যালয়ে যায়।

এখন বেশির এলাকায় কাছাকাছি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান রয়েছে। আবার যাতায়াত ব্যবস্থাও সহজ হয়েছে। তাই সকালে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে আসা খুব কঠিন হবে না।


কেস স্টাডি-১: 

নুহা  কলেজিয়েট স্কুলে  এইটে  পড়ে। একদিন বিকালে স্কুল থেকে এসে খাবার পর থেকে পেট ব্যাথা। ডাক্তারের কাছে নিয়ে গেল, গ্যাস্টিক তীব্র ব্যাথা। খাওয়া দাওয়ায় অনিয়ম।  নুহার অবস্থা কেমন জিজ্ঞেস করতেই নুহার আম্মু বলেন, মেয়ে সকালে স্কুলে যেতে লাঞ্চ নেয় না।  বলে, ব্যাগে রাখতে ঝামেলা।  স্কুলে ওয়াশ রুম, বাচ্চাদের ঘামের গন্ধে ওর খেতে ইচ্ছে করে না। তাই সে লাঞ্চ নেয়ই না। আমি দুইদিন নিয়ে গেলাম, আসতে যেতে ৪০ টাকা প্রতিদিন নেওয়া সম্ভব না।


কেস স্টাডি-২: 

অহি কয়েকদিন দেখি স্কুলে যায় না।  বলি, স্কুলে যাওনি? ওর শিক্ষিত সচেতন মা বললেন, যে গরম! পোলাপানের গাদাগাদি।  আরও ঠিক করে কারেন্ট থাকে না।  মেয়ে অসুস্থ হয়ে যায়।  তাই গরমে ভেতর কয়দিন দিলাম না।


কেস স্টাডি -৩:

আমারই এক শিক্ষার্থী কয়েকদিন মাদরাসায় আসেনি। জিজ্ঞেস করলাম আসে নি কেন? বলে, ম্যাম আমার শরীরে অনেক দাদ দেখা দিল। চুলকায়। ডাক্তার বলছে, ঘাম জমলে বেশি হবে, পরিস্কার রাখতে, আর এটা নাকি ছোঁয়াচে তাই আসিনি। এসেও চলে গেছে ছুটি নিয়ে। আমি ওকে আটকাই কী করে? 


কেস স্টাডি-৪:

আমারই নিয়মিত  একটা শিক্ষার্থী কয়েকদিন আসেনি। একদিন ওর মা নিয়ে আসলো, বোরকার ভেতর ঘামে স্কিন ডিজিজ দেখা দিল। ওকে যেন প্রতিদিন লেইজারে ছুটি দেই। অভিভাবকের অনুরোধ কিভাবে উপেক্ষা করি?


ক্লাস টিচার হয়ে প্রতিষ্ঠানের কাছেও জবাবদিহি করতে হয়, আপনার ক্লাসে শিক্ষার্থী লেইজারের পর কমে যায়!


এমনি অনেক,,,,,তাই ভাববার প্রয়োজন।

মন্তব্য করুন

ব্লগ