ডেমোনেস্ট্রেটর
১১ নভেম্বর, ২০২৫ ১১:৪২ অপরাহ্ণ
ডেমোনেস্ট্রেটর
এআই-এর যুগে শিক্ষার্থীদের দক্ষতাঃ সময়ের দাবি ও
বর্তমান বিশ্ব প্রযুক্তির অভূতপূর্ব অগ্রগতির মধ্য দিয়ে এগিয়ে চলেছে, যার
কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই। একসময় যে প্রযুক্তিকে কল্পবিজ্ঞান
মনে হতো, আজ তা আমাদের দৈনন্দিন জীবনের অংশ হয়ে উঠেছে। এই পরিবর্তনের ঢেউ শুধু
শিল্প-বাণিজ্য বা স্বাস্থ্যখাতে নয়, শিক্ষাক্ষেত্রেও গভীর প্রভাব ফেলছে। ফলে প্রশ্ন
জাগে—এই এআই-নির্ভর যুগে একজন শিক্ষার্থীর কী ধরনের দক্ষতা থাকা উচিত?
১. কেবল তথ্য নয়, বিশ্লেষণ করার সক্ষমতাঃ ইন্টারনেটে তথ্যের অভাব নেই। এখন গুগল বা
এআই টুল ব্যবহার করেই মুহূর্তে উত্তর পাওয়া যায়। কিন্তু শিক্ষার্থীর মূল কাজ এখন তথ্য
মুখস্থ করা নয়, বরং সেই তথ্য বিশ্লেষণ করা, যাচাই করা এবং তা থেকে সিদ্ধান্ত নেওয়া।
তারা যেন ‘চিন্তাশীল ভোক্তা’ হয়, কেবল তথ্য গ্রাসকারী নয়।
২. প্রযুক্তিগত সাক্ষরতা (Digital Literacy): এআই ব্যবহার করার জন্য প্রযুক্তি বুঝতে
হবে। শুধু সোশ্যাল মিডিয়া চালানো নয়, বরং শিক্ষার্থীদের শেখাতে হবে প্রোগ্রামিং-এর
বুনিয়াদি, ডেটা বিশ্লেষণ, এবং এআই-ভিত্তিক অ্যাপ্লিকেশন কীভাবে কাজ করে। যারা
প্রযুক্তির সাথে তাল মেলাতে পারবে না, তারা ভবিষ্যতের কর্মজীবনে পিছিয়ে পড়বে।
৩. সৃজনশীলতা ও মানবিকত-এআই যা দিতে পারে নাঃ যেখানে এআই কাজ করবে নিয়ম মেনে,
সেখানে মানুষের বড় সম্পদ হবে সৃজনশীল চিন্তা, নৈতিকতা, সহানুভূতি ও কল্পনা। একাধিক
সম্ভাবনার মধ্যে নতুন কিছু তৈরি করা, কল্পনায় রঙ মিশিয়ে বাস্তব গড়া-এআই এখনও
সেখানে দুর্বল। শিক্ষার্থীদের ভেতর এই মানবিক ও সৃজনশীল গুণগুলো জাগিয়ে তুলতে হবে।
৪. জীবনব্যাপী শেখার মানসিকতা (Lifelong Learning): এআই প্রযুক্তি দ্রুত বদলে দিচ্ছে
কাজের ধরন। আজ যে দক্ষতা প্রাসঙ্গিক, কাল তা পুরোনো হয়ে যেতে পারে। তাই
শিক্ষার্থীদের শেখাতে হবে নতুন শেখার প্রতি আগ্রহ, আত্ম-উন্নয়ন এবং নিজের দক্ষতা
নিয়মিত হালনাগাদ করার প্রবণতা।
৫. সহযোগিতা ও আন্তঃব্যক্তিক যোগাযোগঃ এআই হয়তো অনেক কিছু করতে পারবে, কিন্তু
মানুষের মাঝে সহযোগিতা, দলগত কাজ ও নেতৃত্বের গুণাবলি অমূল্য। শিক্ষার্থীদের শুধু একা
ভালো ফল করা নয়, বরং একসঙ্গে কাজ করার মানসিকতা গড়ে তুলতে হবে।
৬. এথিক্স ও দায়িত্ববোধঃ এআই পরিচালিত সমাজে ভুল সিদ্ধান্ত ভয়াবহ হতে পারে। তাই
প্রযুক্তি ব্যবহারের আগে শিক্ষার্থীদের শেখাতে হবে নৈতিকতা, দায়িত্বশীলতা এবং
প্রযুক্তির সঠিক ব্যবহার। তারা যেন বোঝে, প্রযুক্তি হাতিয়ার—কিন্তু কোন দিকে তাক করা
হবে, সেই সিদ্ধান্ত মানুষের।
এআই যুগে টিকে থাকার জন্য শিক্ষার্থীদের শুধু ভালো গ্রেড নয়, স্মার্ট, নৈতিক, প্রযুক্তি-
সক্ষম ও সৃজনশীল মানুষ হিসেবে গড়ে তুলতে হবে। এখন সময় এসেছে পাঠ্যবইয়ের সীমা
ছাড়িয়ে ভবিষ্যতের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় প্রস্তুত হওয়ার।
যে শিক্ষার্থী নিজের চিন্তাভাবনাকে প্রযুক্তির সাথে মেলাতে শিখবে, সেই হবে আগামীর
পথপ্রদর্শক। আর এআই তখন শুধু তার সহকারী, নেতা নয়।
ভবিষ্যতের প্রস্তুতি
সবুজ ভট্টাচার্য্য
প্রদর্শক (কম্পিউটার)
এমবিএ, বিএড, এমএড
রাউজান আর্যমৈত্রেয় ইনস্টিটিউশন, রাউজান, চট্টগ্রাম।
৬৪
১০০ মন্তব্য