সহকারী শিক্ষক
১২ নভেম্বর, ২০২৫ ০৭:০০ পূর্বাহ্ণ
সহকারী শিক্ষক
৫৬ : ৬১
عَلٰۤی اَنۡ نُّبَدِّلَ اَمۡثَالَكُمۡ وَ نُنۡشِئَكُمۡ فِیۡ مَا لَا تَعۡلَمُوۡنَ ﴿۶۱﴾
-আল-বায়ান
-তাইসিরুল
-মুজিবুর রহমান
-Sahih International
৬১. তোমাদের স্থলে তোমাদের সদৃশ আনয়ন করতে এবং তোমাদেরকে এমন এক আকৃতিতে সৃষ্টি করতে যা তোমরা জান না।(১)
(১) অর্থাৎ কেউ আমার ইচ্ছাকে ডিঙ্গিয়ে যেতে পারে না। আমি এই মুহুর্তেও যা চাই, তাই করতে পারি। তোমাদের স্থলে তোমাদেরই মত অন্য কোন জাতি নিয়ে আসতে পারি। [কুরতুবী] এমনকি তোমাদের এমন আকৃতি করে দিতে পারি, যা তোমরা জান না। [মুয়াস্সার]
তাফসীরে জাকারিয়া(৬১) তোমাদের স্থলে তোমাদের অনুরূপ আনয়ন করতে এবং তোমাদেরকে এমন এক আকৃতি দান করতে, যা তোমরা জান না।[1]
[1] অর্থাৎ, তোমাদের আকৃতির বিকৃতি ঘটিয়ে তোমাদেরকে বানর ও শূকরে পরিণত করতে পারি এবং তোমাদের স্থলে তোমাদেরই মত আকার-আকৃতির অন্য জাতি নিয়ে আসতে পারি।
তাফসীরে আহসানুল বায়ান৫৬ : ৬২
وَ لَقَدۡ عَلِمۡتُمُ النَّشۡاَۃَ الۡاُوۡلٰی فَلَوۡ لَا تَذَكَّرُوۡنَ ﴿۶۲﴾
-আল-বায়ান
-তাইসিরুল
-মুজিবুর রহমান
-Sahih International
৬২. আর অবশ্যই তোমরা অবগত হয়েছ প্রথম সৃষ্টি সম্পর্কে, তবে তোমরা উপদেশ গ্ৰহণ করা না কেন?(১)
(১) অর্থাৎ কিভাবে তোমাদেরকে সৃষ্টি করা হয়েছিল তা তোমরা অবশ্যই জান। যে শুক্র দ্বারা তোমাদের অস্তিত্বের সূচনা হয়েছে তা পিতার মেরুদণ্ড থেকে কিভাবে স্থানান্তরিত হয়েছিল, মায়ের গর্ভাশয় যা কবরের অন্ধকার থেকে কোন অংশে কম অন্ধকারাচ্ছন্ন ছিল না তার মধ্যে কিভাবে পর্যায়ক্রমে তোমাদের বিকাশ ঘটিয়ে জীবিত মানুষে রূপান্তরিত করা হয়েছে। [কুরতুবী] কিভাবে একটি অতি ক্ষুদ্র পরমাণু সদৃশ কোষের প্রবৃদ্ধি ও বিকাশ সাধন করে এই মন-মগজ, এই চোখ কান ও এই হাত পা সৃষ্টি করা হয়েছে এবং বুদ্ধি ও অনুভূতি, জ্ঞান ও প্রজ্ঞা, শিল্প জ্ঞান ও উদ্ভাবনী শক্তি, ব্যবস্থাপনা ও অধীনস্ত করে নেয়ার মত বিস্ময়কর যোগ্যতাসমূহ দান করা হয়েছে? [দেখুন: ইবন কাসীর] এটা কি মৃতদের জীবিত করে উঠানোর চেয়ে কম অলৌকিক ও কম বিস্ময়কর? অতএব, তা থেকে এ শিক্ষা কেন গ্ৰহণ করছে না যে, আল্লাহর যে অসীম শক্তিতে দিন রাত এসব আশ্চর্য বিষয়াদি সংঘটিত হচ্ছে তার ক্ষমতায়ই মৃত্যুর পরের জীবন, হাশর নাশার এবং জান্নাত ও জাহান্নামের মত বিষয়াদি সংঘটিত হতে পারে? [দেখুন: মুয়াস্সার]
তাফসীরে জাকারিয়া(৬২) তোমরা তো অবগত হয়েছ প্রথম সৃষ্টি সম্বন্ধে। তবে তোমরা উপদেশ গ্রহণ কর না কেন? [1]
[1] অর্থাৎ, তোমরা এ কথা কেন বুঝো না যে, যেভাবে তিনি তোমাদেরকে প্রথমবার সৃষ্টি করেছেন (যা তোমরা জান), তিনি তোমাদেরকে পুনরায় সৃষ্টি করতে পারেন।
তাফসীরে আহসানুল বায়ান৫৬ : ৬৩
اَفَرَءَیۡتُمۡ مَّا تَحۡرُثُوۡنَ ﴿ؕ۶۳﴾
-আল-বায়ান
-তাইসিরুল
-মুজিবুর রহমান
-Sahih International
৬৩. তোমরা যে বীজ বপন কর সে সম্পর্কে চিন্তা করেছ কি?(১)
(১) মানব সৃষ্টির গুঢ়তত্ত্ব উদঘাটিত করার পর এখন এই খাদ্যের স্বরূপ সম্পর্কে প্রশ্ন রাখা হয়েছেঃ তোমরা যে বীজ বপন কর, সে সম্পর্কে ভেবে দেখেছি কি? এই বীজ থেকে অংকুর বের করার ব্যাপারে তোমাদের কাজের কতটুকু দখল আছে? চিন্তা করলে এছাড়া জওয়াব নেই, কৃষক ক্ষেতে লাঙ্গল চালিয়ে সার দিয়ে মাটি নরম করেছে মাত্র, যাতে দুর্বল অংকুর মাটি ভেদ করে সহজেই গজিয়ে উঠতে পারে। বীজ বপনকারী কৃষকের সমগ্র প্রচেষ্টা এই এক বিন্দুতেই সীমাবদ্ধ। চারা গজিয়ে উঠার পর সে তার হেফাযতে লেগে যায়। কিন্তু একটি বীজের মধ্য থেকে চারা বের করে আনার সাধ্য তার নেই। সে চারাটি তৈরি করেছে বলে দাবিও করতে পারে না। কাজেই প্রশ্ন দেখা দেয় যে, সুবিশাল মটির স্তুপে পতিত বীজের মধ্য থেকে এই সুন্দর ও মহোপকারী বৃক্ষ কে তৈরি করল? জওয়াব এটাই যে, সেই পরম প্ৰভু অপার শক্তিধর আল্লাহ তা'আলার অত্যাশ্চর্য কারিগরিই এর প্রস্তুতকারক। [দেখুন: আদওয়াউল-বায়ান]
তাফসীরে জাকারিয়া(৬৩) তোমরা যে বীজ বপন কর, সে সম্পর্কে চিন্তা করেছ কি?
-
তাফসীরে আহসানুল বায়ান৫৬ : ৬৪
ءَاَنۡتُمۡ تَزۡرَعُوۡنَهٗۤ اَمۡ نَحۡنُ الزّٰرِعُوۡنَ ﴿۶۴﴾
-আল-বায়ান
-তাইসিরুল
-মুজিবুর রহমান
-Sahih International
৬৪. তোমরা কি সেটাকে অংকুরিত কর, না আমরা অংকুরিত করি?
-
তাফসীরে জাকারিয়া(৬৪) তোমরা কি ওকে অঙ্কুরিত কর, না আমি অঙ্কুরিত করি? [1]
[1] অর্থাৎ, জমিতে তোমরা যে বীজ বপন কর, তা থেকে একটি গাছ যমীনের উপর উঠে দাঁড়ায়। নির্জীব এক শস্যদানাকে বিদীর্ণ করে এবং মৃত্তিকার বক্ষ ভেদ করে এইভাবে বৃক্ষ উদগত কে করে? এটাও বীর্য-বিন্দু থেকে মানব সৃষ্টি করার ন্যায় আমারই কুদরতের কৃতিত্ব, না তোমাদের কোন দক্ষতা বা জাদু-মন্ত্রের ফল?
তাফসীরে আহসানুল বায়ান৫৬ : ৬৫
لَوۡ نَشَآءُ لَجَعَلۡنٰهُ حُطَامًا فَظَلۡتُمۡ تَفَكَّهُوۡنَ ﴿۶۵﴾
-আল-বায়ান
-তাইসিরুল
-মুজিবুর রহমান
-Sahih International
৬৫. আমরা ইচ্ছে করলে এটাকে খড় কুটোয় পরিণত করতে পারি, তখন হতবুদ্ধি হয়ে পড়বে তোমরা;
-
তাফসীরে জাকারিয়া(৬৫) আমি ইচ্ছা করলে অবশ্যই একে টুকরা-টুকরা (খড়-কুটায়) পরিণত করতে পারি, তখন হতবুদ্ধি হয়ে পড়বে তোমরা। [1]
[1] ক্ষেতের ফসলকে সবুজ-শ্যামল বানানোর পর যখন তা পাকার উপক্রম হয়, তখন আমি ইচ্ছা করলে তাকে শুকিয়ে খড়-কুটায় পরিণত করে দিতে পারি, যখন তোমরা বিস্ময়ে তা দেখতেই থেকে যাবে। تَفَكُّهٌ শব্দটি ‘আয্বদাদ’ (বিপরীতমুখী অর্থবোধক) শব্দসমূহের অন্তর্ভুক্ত। যার অর্থ, নিয়ামত ও সচ্ছলতাও বটে, আবার দুঃখ ও নিরাশাও বটে। এখানে দ্বিতীয় অর্থেই ব্যবহার হয়েছে। এর বিভিন্ন অর্থ বর্ণনা করা হয়েছে। যেমন, হতবুদ্ধি, হতবাক, বিস্মিত, দুঃখিত হওয়া ইত্যাদি। ظَلَلْتُمْ এর অর্থ صِرْتُمْ এবং تَفَكَّهُوْنَ আসলে ছিল تَتَفَكَّهُوْنَ ।
তাফসীরে আহসানুল বায়ান৫৬ : ৬৬
اِنَّا لَمُغۡرَمُوۡنَ ﴿ۙ۶۶﴾
-আল-বায়ান
-তাইসিরুল
-মুজিবুর রহমান
-Sahih International
৬৬. (এই বলে) ‘নিশ্চয় আমরা দায়গ্ৰস্ত হয়ে পড়েছি,
-
তাফসীরে জাকারিয়া(৬৬) (বলবে,) ‘নিশ্চয় আমরা সর্বনাশগ্রস্ত!
-
তাফসীরে আহসানুল বায়ান৫৬ : ৬৭
بَلۡ نَحۡنُ مَحۡرُوۡمُوۡنَ ﴿۶۷﴾
-আল-বায়ান
-তাইসিরুল
-মুজিবুর রহমান
-Sahih International
৬৭. বরং আমরা হৃত-সর্বস্ব হয়ে পড়েছি।
-
তাফসীরে জাকারিয়া(৬৭) বরং আমরা হৃতসর্বস্ব।[1]
[1] অর্থাৎ, আমরাই প্রথমে জমিতে হাল চালিয়ে তাকে ঠিক-ঠাক করে তাতে বীজ ফেললাম। অতঃপর সেচন করতে থাকলাম। কিন্তু যখন ফসল পাকার সময় হল, তখন তা শুকিয়ে গেল এবং আমরা তা থেকে কিছুই পেলাম না। অর্থাৎ, এ সমস্ত খরচাদি এবং মেহনত-পরিশ্রম এক ধরনের জরিমানার মত অনর্থক চলে গেল, যা আমাদেরকে বহন করতে হল। জরিমানার অর্থ এটাই হয় যে, মানুষ তার অর্থ বা পরিশ্রমের প্রতিদান পায় না। বরং তা অনর্থক নষ্ট হয়ে যায়। অথবা জোরপূর্বক তার কাছ থেকে কিছু নিয়ে নেওয়া হয় এবং তার বিনিময়ে তাকে কিছু দেওয়া হয় না।
তাফসীরে আহসানুল বায়ান৫৬ : ৬৮
اَفَرَءَیۡتُمُ الۡمَآءَ الَّذِیۡ تَشۡرَبُوۡنَ ﴿ؕ۶۸﴾
-আল-বায়ান
-তাইসিরুল
-মুজিবুর রহমান
-Sahih International
৬৮. তোমরা যে পানি পান কর তা সম্পর্কে আমাকে জানাও(১)
(১) অর্থাৎ শুধু তোমাদের ক্ষুধা নিবারণের ব্যবস্থাই নয় তোমাদের পিপাসা মেটানোর ব্যবস্থাও আমিই করেছি। তোমাদের জীবন ধারণের জন্য যে পানি খাদ্যের চেয়েও অধিক প্রয়োজনীয় তার ব্যবস্থা তোমরা নিজেরা কর নাই। আমিই তা সরবরাহ করে থাকি। [দেখুন: ফাতহুল কাদীর]। আমি তোমাদেরকে শুধু অস্তিত্ব দান করেই বসে নাই। তোমাদের প্রতিপালনের এত সব ব্যবস্থাও আমি করছি যা না থাকলে তোমরা বেঁচেই থাকতে পারতে না। [আদওয়াউল-বায়ান]
তাফসীরে জাকারিয়া(৬৮) তোমরা যে পানি পান কর, সে সম্পর্কে তোমরা চিন্তা করেছ কি?
-
তাফসীরে আহসানুল বায়ান৫৬ : ৬৯
ءَاَنۡتُمۡ اَنۡزَلۡتُمُوۡهُ مِنَ الۡمُزۡنِ اَمۡ نَحۡنُ الۡمُنۡزِلُوۡنَ ﴿۶۹﴾
-আল-বায়ান
-তাইসিরুল
-মুজিবুর রহমান
-Sahih International
৬৯. তোমরা কি সেটা মেঘ হতে নামিয়ে আন, না আমরা সেটা বর্ষণ করি?
-
তাফসীরে জাকারিয়া(৬৯) তোমরাই কি তা মেঘ হতে বর্ষণ কর, না আমি বর্ষণ করি?
-
তাফসীরে আহসানুল বায়ান৫৬ : ৭০
لَوۡ نَشَآءُ جَعَلۡنٰهُ اُجَاجًا فَلَوۡ لَا تَشۡكُرُوۡنَ ﴿۷۰﴾
-আল-বায়ান
-তাইসিরুল
-মুজিবুর রহমান
-Sahih International
৭০. আমরা ইচ্ছে করলে তা লবণাক্ত করে দিতে পারি। তবুও কেন তোমরা কৃতজ্ঞতা প্রকাশ কর না?
-
তাফসীরে জাকারিয়া(৭০) আমি ইচ্ছা করলে ওটা লবণাক্ত করে দিতে পারি। তবুও তোমরা কৃতজ্ঞতা প্রকাশ কর না কেন? [1]
[1] অর্থাৎ, এই অনুগ্রহের জন্য আমার আনুগত্য করে আমার কর্মগত কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন কর না কেন?
১৪
২৪ মন্তব্য