সহকারী শিক্ষক
১২ নভেম্বর, ২০২৫ ১১:৫৫ পূর্বাহ্ণ
সহকারী শিক্ষক
নিশ্
বিশ্ব শান্তি, মানবাধিকার, উন্নয়ন ও সহযোগিতার প্রতীক হলো জাতিসংঘ (United Nations)। এটি এমন এক আন্তর্জাতিক সংস্থা, যার মাধ্যমে বিশ্বের দেশগুলো পারস্পরিক সমস্যা সমাধান ও উন্নয়নের জন্য একত্রিত হয়। বাংলাদেশ জাতিসংঘের একজন সক্রিয় সদস্য রাষ্ট্র হিসেবে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে চলেছে।
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের ধ্বংসযজ্ঞের পর ১৯৪৫ সালের ২৪ অক্টোবর জাতিসংঘ প্রতিষ্ঠিত হয়। প্রতিষ্ঠার মূল উদ্দেশ্য ছিল—
বর্তমানে জাতিসংঘের সদস্য সংখ্যা ১৯৩টি, যার মধ্যে বাংলাদেশ একটি গুরুত্বপূর্ণ সদস্য।
বাংলাদেশ স্বাধীনতার পর ১৯৭১ সালে জাতিসংঘের সদস্যপদ লাভের চেষ্টা করে, কিন্তু চীন তখন ভেটো প্রদান করায় তা সম্ভব হয়নি। পরবর্তীতে ১৯৭৪ সালের ১৭ সেপ্টেম্বর, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে বাংলাদেশ জাতিসংঘের পূর্ণ সদস্যপদ লাভ করে।
এই দিনটি বাংলাদেশের কূটনৈতিক ইতিহাসে এক মাইলফলক হিসেবে চিহ্নিত।
বাংলাদেশ স্বাধীনতার পর থেকে জাতিসংঘের বিভিন্ন কর্মসূচিতে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো—
শান্তিরক্ষা মিশন:
বাংলাদেশ বিশ্বের অন্যতম বৃহত্তম শান্তিরক্ষী বাহিনী প্রেরণকারী দেশ। কঙ্গো, সুদান, হাইতি, লেবাননসহ বহু দেশে বাংলাদেশি সেনা ও পুলিশ সদস্যরা জাতিসংঘের শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে অবদান রাখছে।
মানবাধিকার ও উন্নয়ন:
বাংলাদেশ জাতিসংঘের টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (SDGs) বাস্তবায়নে অগ্রণী ভূমিকা রাখছে। দারিদ্র্য হ্রাস, শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও নারীর ক্ষমতায়নে জাতিসংঘের সহযোগিতা বাংলাদেশের উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
রোহিঙ্গা ইস্যু:
রোহিঙ্গা শরণার্থী সংকট সমাধানে জাতিসংঘ বাংলাদেশের পাশে রয়েছে। জাতিসংঘের মানবাধিকার কমিশন ও শরণার্থী সংস্থা (UNHCR) বাংলাদেশে সহায়তা প্রদান করছে।
জলবায়ু পরিবর্তন:
জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষতিকর প্রভাব মোকাবেলায় বাংলাদেশ জাতিসংঘের জলবায়ু সম্মেলনগুলোতে সক্রিয়ভাবে অংশ নিচ্ছে এবং বৈশ্বিক ন্যায়বিচারের দাবি জানাচ্ছে।
জাতিসংঘ বাংলাদেশের কূটনীতি, অর্থনীতি ও মানবিক উন্নয়নে এক অবিচ্ছেদ্য অংশীদার।
জাতিসংঘ বাংলাদেশের উন্নয়ন যাত্রার এক নির্ভরযোগ্য সহযোগী। একই সঙ্গে বাংলাদেশও জাতিসংঘের শান্তি, মানবতা ও অগ্রগতির লক্ষ্যে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে চলেছে। ভবিষ্যতেও এই সহযোগিতা বিশ্ব শান্তি ও টেকসই উন্নয়নের পথকে আরও সুদৃঢ় করবে।
০
০ মন্তব্য