প্রভাষক
১২ নভেম্বর, ২০২৫ ০৩:৪১ অপরাহ্ণ
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা কি ধ্বংস ডেকে আনবে?
বিজ্ঞানের এক চরম উন্নতির যুগে আমরা বাস করছি। আমাদের জীবনকে সহজ, আরামদায়ক এবং শান্তিময় করার জন্য আবিষ্কার করছি বিভিন্ন ধরনের যন্ত্রপাতি, ডিভাইস। যেগুলো আগে আবিষ্কৃত হয়েছে সেগুলোর আরো উৎকর্ষ সাধনের জন্য চলছে অবিরাম গবেষণা ও প্রচেষ্টা। এসব করে আমরা কোনো কোনো সময় নিজেদের তৈরি যন্ত্রপাতির কাছে আমাদের প্রাকৃতিক বুদ্ধিমত্তাকে হার মানাচ্ছি। ইদানীংকালে কয়েকটি বহুল আলোচিত বিষয়ের মধ্যে ‘কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা’ কিংবা আর্টিফিসিয়াল ইনটেলিজেন্সের কথা শুনতে পাচ্ছি চারদিকে। বিষয়টি যদিও কম্পিউটারের সাথে সম্পর্কিত, তারপরেও মানুষকে ভাবিয়ে তুলছে ‘কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা’ কী মানুষের চিন্তাধারাকে, মানুষের কাজকে প্রতিস্থাপন করবে? কেউ কেউ বিষয়টি নিয়ে খুবই চিন্তিত কারণ তা হলে অফিসে, ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে, ব্যাংকে, ব্যক্তিগত প্রতিষ্ঠানে সর্বত্রই মানুষের স্থান ‘কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা’ দিয়ে তৈরি যন্ত্রপাতি দখল করবে। মানুষ বেকার হয়ে পড়বে। যে কোনো প্রতিষ্ঠান বা কোম্পানি চায় কম লোকবল খাটিয়ে বেশি লাভ, বেশি পুঁজির কিছু করতে। বিশ পঞ্চাশ কিংবা একশ বা হাজার হাজার মানুষের কাজ একটি মেশিন যেহেতু করতে পারে, কাজেই হাজার হাজার লাখ লাখ মানুষ বেকার হয়ে যাওয়ার কথা। বিষয়টি কী তা-ই হতে যাচ্ছে?
আবার কেউ কেউ বলছেন ব্যাপারটি নিয়ে চিন্তার তেমন কিছু নেই। মানুষ তার প্রয়োজন, উপকার এবং সুবিধার জন্যই ‘কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা’ ব্যবহার করবে। সেটি কোনক্রমেই মানুষের বুদ্ধিকে ছাড়িয়ে যাবে না। মানুষের নিয়ন্ত্রণ থাকবেই। কম্পিউটার মানুষের সৃষ্টি, মানুষের বুদ্ধি খাটিয়ে তৈরি করা হয়েছে কিন্তু তা মানুষের চেয়ে দ্রুতগতিতে এবং নির্ভুলভাবে কোনো হিসাব দ্রুততম সময়ে বের করে দেয়। একইভাবে ‘আর্টিফিসিয়াল ইন্টেলিজেন্স’ মানুষের কল্যাণে ব্যবহার করা হবে, মানুষের বিরুদ্ধে যাবে না। আবার কেউ কেউ বলেছেন, বিভিন্ন ধরনের অস্ত্র, ডিনামাইট মানববুদ্ধি খাটিয়ে তৈরি করা হয়েছে, সেটি মানুষ ব্যবহার করছে নিয়ন্ত্রণে রেখে; কিন্তু সামান্য কারণে মানুষ বিগড়ে গেলে, বা মানুষ ভুল করলে যন্ত্র বিগড়ে যায়, কিংবা মানুষ রাগান্বিত হলে সেটি ব্যবহার করে প্রতিপক্ষকে ধবংস করার জন্য, নিশ্চিহ্ন করার জন্য যেখানে কোনো ধরনের মানবতা পরিলক্ষিত হয় না। ‘আর্টিফিসিয়াল ইন্টেলিজেন্সে’র ক্ষেত্রেও কী সেরকম হবে; না আরো ভয়ংকর কিছু হবে বিষয়টি মানুষকে ভাবিয়ে তুলছে। ‘কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা’ মানবসভ্যতার ধবংস ডেকে আনবে না তো?
এ বিশ্বের সবকিছুই মানুষের জন্য। মানুষই সৃষ্টি করেছে সমাজ, সভ্যতা, বিজ্ঞান এবং বিজ্ঞানে সাধন করেছে চরম উৎকর্ষ। আজ মানুষের বুদ্ধি যদি সেই মানুষকেই অপ্রয়োজনীয় করে ফেলে তাহলে সেই ইন্টেলিজেন্স বা বুদ্ধিমত্তা সবকিছুতে ব্যবহার করা কতটা যুক্তিযুক্ত বা যুক্তিসঙ্গত সেটি গভীরভাবে ভেবে দেখতে হবে। টেস্টটিউব বাচ্চা বিষয়টি কোনো সমাজই সেভাবে আগ্রহ নিয়ে এগিয়ে আসেনি, কারণ ওই পদ্ধতিতে সন্তান নিলে মানবসভ্যতায় ধস নামতে পারে। গোটা মানবসমাজে দেখা দিতে পারে এক বিরূপ প্রতিক্রিয়া। তাই এটিকে লালন করা কিংবা জনপ্রিয় করা হয়নি। খোদ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রেও সেটিকে উৎসাহ প্রদান করা হয়নি বরং পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে রাখতে বলা হয়েছে এবং শুধু যেসব দম্পতি বাচ্চা উৎপাদনে একেবারেই অক্ষম, কেবল তাদের জন্য বিষয়টি ব্যবহার করা যেতে পারে। আর্টিফিসিয়াল ইন্টেলিজেন্স ব্যাপারটির ক্ষেত্রেও একই কথা প্রযোজ্য হবে।
২
২ মন্তব্য