Loading..

ব্লগ

রিসেট

১৩ নভেম্বর, ২০২৫ ০৭:০০ পূর্বাহ্ণ

আল্লাহ তা'আলা বলেন তোমরা যে আগুন জ্বালাও সে সম্পর্কে কি তোমরা চিন্তা করে দেখেছ

৫৬ : ৭১

 

اَفَرَءَیۡتُمُ النَّارَ الَّتِیۡ تُوۡرُوۡنَ ﴿ؕ۷۱﴾ 

افرءیتم النار التی تورون ﴿۷۱﴾
তোমরা যে আগুন জ্বালাও সে ব্যাপারে আমাকে বল,

-আল-বায়ান

তোমরা যে আগুন জ্বালাও সে সম্পর্কে কি তোমরা চিন্তা করে দেখেছ?

-তাইসিরুল

তোমরা যে অগ্নি প্রজ্জ্বলিত কর তা লক্ষ্য করে দেখেছ কি?

-মুজিবুর রহমান

And have you seen the fire that you ignite?

-Sahih International

৭১. তোমরা যে আগুন প্ৰজ্বলিত কর সে ব্যাপারে আমাকে বল—

-

তাফসীরে জাকারিয়া

(৭১) তোমরা যে আগুন জ্বালিয়ে থাক, তা লক্ষ্য করে দেখেছ কি?

-

তাফসীরে আহসানুল বায়ান
শেয়ার লিঙ্ক কপি হয়েছে!

৫৬ : ৭২

 

ءَاَنۡتُمۡ اَنۡشَاۡتُمۡ شَجَرَتَهَاۤ اَمۡ نَحۡنُ الۡمُنۡشِـُٔوۡنَ ﴿۷۲﴾ 

ءانتم انشاتم شجرتها ام نحن المنشـٔون ﴿۷۲﴾
তোমরাই কি এর (লাকড়ির গাছ) উৎপাদন কর, না আমি করি?

-আল-বায়ান

তার (জ্বালানোর) গাছ (অর্থাৎ কাঠ) কি তোমরাই বানিয়েছ, নাকি আমিই বানিয়েছি?

-তাইসিরুল

তোমরাই কি ওর বৃক্ষ সৃষ্টি কর, না আমি সৃষ্টি করি?

-মুজিবুর রহমান

Is it you who produced its tree, or are We the producer?

-Sahih International

৭২. তোমরাই কি এর গাছ সৃষ্টি কর, না আমরা সৃষ্টি করি?

-

তাফসীরে জাকারিয়া

(৭২) তোমরাই কি ওর বৃক্ষ সৃষ্টি কর, না আমি সৃষ্টি করি? [1]

[1] বলা হয় যে, আরবে দুটি গাছ আছে, ‘মার্খ্’ ও ‘আফার’। এই দু’টি গাছের ডাল নিয়ে যদি পরস্পরের সাথে ঘষা হয়, তবে তা থেকে আগুনের ফুলকি বের হয়।

তাফসীরে আহসানুল বায়ান
শেয়ার লিঙ্ক কপি হয়েছে!

৫৬ : ৭৩

 

نَحۡنُ جَعَلۡنٰهَا تَذۡكِرَۃً وَّ مَتَاعًا لِّلۡمُقۡوِیۡنَ ﴿ۚ۷۳﴾ 

نحن جعلنها تذكرۃ و متاعا للمقوین ﴿۷۳﴾
একে আমি করেছি এক স্মারক ও মরুবাসীর প্রয়োজনীয় বস্তু।

-আল-বায়ান

আমি তাকে (অর্থাৎ আগুনকে) করেছি স্মারক (যা জাহান্নামের আগুনের কথা স্মরণ করিয়ে দেয়) আর মরুর অধিবাসীদের জন্য দরকারী ও আরামের বস্তু।

-তাইসিরুল

আমি একে করেছি নিদর্শন এবং মরুচারীদের প্রয়োজনীয় বস্তু।

-মুজিবুর রহমান

We have made it a reminder and provision for the travelers,

-Sahih International

৭৩. আমরা এটাকে করেছি স্মারক(১) এবং মরুচারীদের প্রয়োজনীয় বস্তু।(২)

(১) মুজাহিদ বলেন, এর অর্থ, আমরা এ আগুনকে স্মরণিকা করেছি, এ আগুন আখেরাতের আগুনকে স্মরণ করিয়ে দিবে। হাদীসে এসেছে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, “তোমাদের এ আগুন যা তোমরা জালিয়ে থাক তা জাহান্নামের আগুনের সত্তর ভাগের একভাগ। সাগর দিয়ে দু’বার এটাকে ঠাণ্ডা করা হয়েছে। যদি তা না হতো তবে তা থেকে কেউ উপকৃত হতে পারত না। [মুসনাদে আহমাদ ২/২৪৪, সহীহ ইবনে হিব্বান ৭৪৬৩, মুসনাদে হুমাইদী ১১২৯, অনুরূপ বর্ণনা বুখারী ৩২৬৫, মুসলিম: ২৮৪৩]

(২) উপসংহারে সবগুলোর সার-সংক্ষেপ এরূপ বৰ্ণিত হয়েছে যে, “আমরা এটাকে করেছি স্মারক এবং পথচারীদের জন্য উপভোগ্য”। আয়াতে مُقْوِينَ শব্দ ব্যবহার করা হয়েছে। ভাষাভিজ্ঞ পণ্ডিতগণ এর বিভিন্ন অর্থ বর্ণনা করেছেন। কেউ কেউ এর অর্থ করেছেন মরুভূমিতে উপনীত মুসাফির বা পথচারী। কেউ কেউ এর অর্থ করেছেন ক্ষুধার্ত মানুষ। কারো কারো মতে এর অর্থ হচ্ছে, সেসব মানুষ যারা প্রান্তরে অবস্থান করে খাবার পাকানো, আলো পাওয়া কিংবা তা গ্ৰহণ করার কাজে আগুন ব্যবহার করে সে সমস্ত মুসাফিরদেরকে বোঝানো হয়েছে। কারণ এ সমস্ত মরুচারী ও মুসাফিররা খাবারের জন্য যেমন আগুনের প্রয়োজন বোধ করে তেমনি নিজের শরীরের তাপমাত্ৰা ঠিক রাখার জন্যও আগুনের প্রতি বেশী মুখাপেক্ষী। আয়াতের উদ্দেশ্য এই যে, এসব সৃষ্টি আমার শক্তি-সামর্থ্যের ফসল। সুতরাং তোমরা ভেবে দেখা কার গুণ-গান করবে। [কুরতুবী]

তাফসীরে জাকারিয়া

(৭৩) আমি একে করেছি উপদেশের বিষয়[1] এবং মরুচারীদের প্রয়োজনীয় বস্তু। [2]

[1] এইভাবে যে, এর প্রভাব ও উপকারিতা বিস্ময়কর ব্যাপার। পৃথিবীর অসংখ্য জিনিস প্রস্তুত করণে এর প্রয়োজনীয়তার কথা অনস্বীকার্য। এটা আমার অসীম ক্ষমতার একটি নিদর্শন। তাছাড়া যেভাবে আমি পৃথিবীতে আগুন সৃষ্টি করেছি, অনুরূপ পরকালেও সৃষ্টি করার ক্ষমতা আমি রাখি। আর সেই আগুনের তাপ পৃথিবীর আগুনের তুলনায় ৬৯ গুণ বেশী হবে। যেমন এ কথা হাদীসে বর্ণিত হয়েছে।

[2] مُقْوِيْنَ হল مُقْوِيْ এর বহুবচন। অর্থঃ قَوَآءٌ অর্থাৎ নির্জন মরুভূমিতে প্রবেশকারী। উদ্দেশ্য মুসাফির। অর্থাৎ, মুসাফির মরুভূমি এবং বন-জঙ্গলে এই গাছগুলো দ্বারা উপকৃত হয়। এ থেকে আলো ও তাপ গ্রহণ করে এবং ইন্ধন হিসাবেও কাজে লাগায়। কেউ কেউ مُقْوِين বলতে বুঝিয়েছেন এমন সব দরিদ্র মানুষকে, যাদের পেট ক্ষুধার কারণে খালি থাকে। কেউ কেউ এর অর্থ করেছেন, مُسْتَمْتِعِيْنَ (উপকারিতা অর্জনকারী)। এতে ধনী, গরীব, গৃহবাসী ও মুসাফির সবাই এসে যায়। আর সবাই আগুন থেকে উপকৃত হয়। এই জন্যই হাদীসে যে তিনটি জিনিসকে সার্বজনীন রাখার ও তা থেকে কাউকে বাধা না দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, সেগুলোর মধ্যে পানি ও ঘাস সহ আগুনও বটে। (আবূ দাউদঃ ক্রয়-বিক্রয় অধ্যায়, ইবনে মাজাহ) ইমাম ইবনে কাসীর এই মতটিকেই বেশী পছন্দ করেছেন।

তাফসীরে আহসানুল বায়ান
শেয়ার লিঙ্ক কপি হয়েছে!

৫৬ : ৭৪

 

فَسَبِّحۡ بِاسۡمِ رَبِّكَ الۡعَظِیۡمِ ﴿ؓ۷۴﴾ 

فسبح باسم ربك العظیم ﴿۷۴﴾
অতএব তোমার মহান রবের নামে তাসবীহ পাঠ কর।

-আল-বায়ান

কাজেই (হে নবী!) তুমি তোমার মহান প্রতিপালকের মহিমা ও গৌরব ঘোষণা কর।

-তাইসিরুল

সুতরাং তুমি তোমার মহান রবের নামের পবিত্রতা ও মহিমা ঘোষণা কর।

-মুজিবুর রহমান

So exalt the name of your Lord, the Most Great.

-Sahih International

৭৪. কাজেই আপনি আপনার মহান রবের নামের পবিত্রতা ও মহিমা ঘোষণা করুন।(১)

(১) পূর্ববর্তী যে সমস্ত নেয়ামতের কথা উল্লেখ হলো এবং এটা স্পষ্ট হলো যে, এগুলো একমাত্ৰ মহান আল্লাহই সম্পন্ন করে থাকেন। এর অবশ্যম্ভাবী ও যুক্তিভিত্তিক পরিণতি এই যে, মানুষ আল্লাহ তা'আলার অপার শক্তি ও তৌহীদে বিশ্বাস স্থাপন করবে এবং মহান পালনকর্তার নামের পবিত্ৰতা ঘোষণা করবে। সুতরাং হে নবী! আপনি সে পবিত্র নাম নিয়ে ঘোষণা করে দিন যে, কাফের ও মুশরিকরা যেসব দোষত্রুটি, অপূর্ণতা ও দুর্বলতা তাঁর ওপর আরোপ করে তা থেকে পবিত্র এবং কুফর ও শির্কমূলক সমস্ত আকীদা ও আখেরাত অস্বীকারকারীদের প্রতিটি যুক্তি তর্কে যা প্রচ্ছন্ন আছে তা থেকেও মহান আল্লাহ সম্পূর্ণরূপে পবিত্র। [দেখুন: কুরতুবী; ইবন কাসীর]

তাফসীরে জাকারিয়া

(৭৪) সুতরাং তুমি তোমার মহান প্রতিপালকের নামের পবিত্রতা ও মহিমা ঘোষণা কর।

-

তাফসীরে আহসানুল বায়ান
শেয়ার লিঙ্ক কপি হয়েছে!

৫৬ : ৭৫

 

فَلَاۤ اُقۡسِمُ بِمَوٰقِعِ النُّجُوۡمِ ﴿ۙ۷۵﴾ 

فلا اقسم بموقع النجوم ﴿۷۵﴾
সুতরাং আমি কসম করছি নক্ষত্ররাজির অস্তাচলের,

-আল-বায়ান

উপরন্তু আমি শপথ করছি তারকারাজির অস্তাচলের।

-তাইসিরুল

আমি শপথ করছি নক্ষত্র রাজির অস্তাচলের!

-মুজিবুর রহমান

Then I swear by the setting of the stars,

-Sahih International

৭৫. অতঃপর(১) আমি শপথ করছি নক্ষত্ররাজির অস্তাচলের(২),

(১) বাক্যের শুরুতে এখানে একটি لا ব্যবহৃত হয়েছে। যার অর্থ, ‘না’। কোন কোন মুফাস্‌সির এটাকে অতিরিক্ত বলেছেন। কিন্তু এ মতটি সঠিক নয়। পবিত্র কুরআনে অতিরিক্ত কিছু নেই। বরং এটি আরবদের একটি সাধারণ বাকপদ্ধতি। যেমন বলা হয় لا والله এরূপ বাকপদ্ধতি আরবদের নিকট সুবিদিত। এরূপ স্থলে لا সম্বোধিত ব্যক্তির ধারণা খণ্ডনের জন্যে ব্যবহৃত হয়। অর্থাৎ তোমরা যা মনে করে বসে আছো ব্যাপার তা নয়। কুরআন যে আল্লাহর পক্ষ থেকে সে বিষয়ে কসম খাওয়ার আগে এখানে لا শব্দের ব্যবহার করায় আপনা থেকেই একথা প্ৰকাশ পায় যে, এই পবিত্ৰ গ্ৰন্থ সম্পর্কে মানুষ মনগড়া কিছু কথাবার্তা বলছিলো। সেসব কথার প্রতিবাদ করার জন্যই এ কসম খাওয়া হচ্ছে। [ফাতহুল কাদীর; কুরতুবী]

(২) مواقع শব্দটি موقع এর বহুবচন। এর এক অর্থ তারকারাজি ও গ্রহসমূহের অবস্থানস্থল, তাদের মনযিল ও তাদের কক্ষপথসমূহ। অন্য অর্থ নক্ষত্রের অস্তাচল অথবা অস্তের সময়, বা চোখের আড়ালে চলে যাওয়া। [ফাতহুল কাদীর] এ আয়াতে নক্ষত্রের অস্ত যাওয়ার সময়ের শপথ করা হয়েছে; যেমন সূরা নজমেও (وَالنَّجْمِ إِذَا هَوَىٰ) বলে তাই করা হয়েছে।

তাফসীরে জাকারিয়া

(৭৫) আমি শপথ করছি নক্ষত্র রাজির অস্তাচলের। [1]

[1] فَلاَ أُقْسِمُ তে لا অক্ষরটি অতিরিক্ত। এটা তাকীদ স্বরূপ এসেছে। অথবা এটা অতিরিক্ত নয়, বরং পূর্বের কোন জিনিসের অস্বীকৃতি জ্ঞাপনের জন্য এসেছে। অর্থাৎ, এই কুরআন জ্যোতিষ বা কাব্যগ্রন্থ নয়। বরং আমি তারকারাজির অস্তাচলের শপথ করে বলছি যে, এই কুরআন সম্মানিত---। مَوَاقِعُ النُّجُوْمِ থেকে উদ্দেশ্য তারকারাজির উদয়াচল ও অস্তাচল এবং তাদের গন্তব্যস্থল ও কক্ষপথ। কেউ কেউ অনুবাদ করেছেন, ‘‘শপথ করছি আয়াতসমূহের অবতরণের পয়গম্বরদের অন্তরে।’’ (মুঅয্যিহুল কুরআন) অর্থাৎ, نجوم এর অর্থ কুরআনের আয়াতসমূহ এবং مواقع এর অর্থ, নবীদের অন্তর। আবার কেউ কেউ এর অর্থ নিয়েছেন, কুরআন মাজীদের ধীরে ধীরে পর্যায়ক্রমে অবতীর্ণ হওয়া। কেউ বলেছেন, এর অর্থ হল, কিয়ামতের দিন তারকারাজির ঝরে পড়া। (ইবনে কাসীর)

তাফসীরে আহসানুল বায়ান
শেয়ার লিঙ্ক কপি হয়েছে!

৫৬ : ৭৬

 

وَ اِنَّهٗ لَقَسَمٌ لَّوۡ تَعۡلَمُوۡنَ عَظِیۡمٌ ﴿ۙ۷۶﴾ 

و انهٗ لقسم لو تعلمون عظیم ﴿۷۶﴾
আর নিশ্চয় এটি এক মহাকসম, যদি তোমরা জানতে,

-আল-বায়ান

তা অবশ্যই অতি বড় শপথ যদি তোমরা জানতে!

-তাইসিরুল

অবশ্যই এটা এক মহা শপথ, যদি তোমরা জানতে।

-মুজিবুর রহমান

And indeed, it is an oath - if you could know - [most] great.

-Sahih International

৭৬. আর নিশ্চয় এটা এক মহাশপথ, যদি তোমরা জানতে—

-

তাফসীরে জাকারিয়া

(৭৬) অবশ্যই এটা এক মহা শপথ, যদি তোমরা জানতে।[1]

[1] (এ বিশাল বিশ্বের কত দূর দূরান্তে যে তারকারাজি ছড়িয়ে আছে, তা কি মানুষের জানা সম্ভব? সত্যিই এ শপথ, মহাশপথ!)

তাফসীরে আহসানুল বায়ান
শেয়ার লিঙ্ক কপি হয়েছে!

৫৬ : ৭৭

 

اِنَّهٗ لَقُرۡاٰنٌ كَرِیۡمٌ ﴿ۙ۷۷﴾ 

انهٗ لقران كریم ﴿۷۷﴾
নিশ্চয় এটি মহিমান্বিত কুরআন,

-আল-বায়ান

অবশ্যই তা সম্মানিত কুরআন,

-তাইসিরুল

নিশ্চয়ই এটা সম্মানিত কুরআন –

-মুজিবুর রহমান

Indeed, it is a noble Qur'an

-Sahih International

৭৭. নিশ্চয় এটা মহিমান্বিত কুরআন(১),

(১) কুরআনের মহা সম্মানিত গ্ৰন্থ হওয়া সম্পর্কে ঐগুলোর শপথ করার অর্থ হচ্ছে ঊর্ধ্ব জগতে সৌরজগতের ব্যবস্থাপনা যত সুসংবদ্ধ ও মজবুত এই বাণীও ততটাই সুসংবদ্ধ ও মজবুত। [দেখুন, কুরতুবী]

তাফসীরে জাকারিয়া

(৭৭) নিশ্চয়ই এটা সম্মানিত কুরআন। [1]

[1] এটা কসমের জবাব।

তাফসীরে আহসানুল বায়ান
শেয়ার লিঙ্ক কপি হয়েছে!

৫৬ : ৭৮

 

فِیۡ كِتٰبٍ مَّكۡنُوۡنٍ ﴿ۙ۷۸﴾ 

فی كتب مكنون ﴿۷۸﴾
যা আছে সুরক্ষিত কিতাবে,

-আল-বায়ান

(যা লিখিত আছে) সুরক্ষিত কিতাবে,

-তাইসিরুল

যা আছে সুরক্ষিত কিতাবে,

-মুজিবুর রহমান

In a Register well-protected;

-Sahih International

৭৮. যা আছে সুরক্ষিত কিতাবে।(১)

(১) অর্থাৎ সুরক্ষিত বা গোপন কিতাব। একথা বলে এখানে লাওহে-মাহফুয বোঝানো হয়েছে। এর অর্থ এমন লিখিত বস্তু যা গোপন করে রাখা হয়েছে। অর্থাৎ যা কারো ধরা ছোয়ার বাইরে। [কুরতুবী]

তাফসীরে জাকারিয়া

(৭৮) যা আছে সুরক্ষিত কিতাবে।[1]

[1] অর্থাৎ, ‘লওহে মাহফূয’এ।

তাফসীরে আহসানুল বায়ান
শেয়ার লিঙ্ক কপি হয়েছে!

৫৬ : ৭৯

 

لَّا یَمَسُّهٗۤ اِلَّا الۡمُطَهَّرُوۡنَ ﴿ؕ۷۹﴾ 

لا یمسهٗ الا المطهرون ﴿۷۹﴾
কেউ তা স্পর্শ করবে না পবিত্রগণ ছাড়া।

-আল-বায়ান

পূত-পবিত্র (ফেরেশতা) ছাড়া (শয়ত্বানেরা) তা স্পর্শ করতে পারে না,

-তাইসিরুল

যারা পুতঃ পবিত্র তারা ব্যতীত অন্য কেহ তা স্পর্শ করেনা।

-মুজিবুর রহমান

None touch it except the purified.

-Sahih International

৭৯. যারা সম্পূর্ণ পবিত্র তারা ছাড়া অন্য কেউ তা স্পর্শ করে না।(১)

(১) ব্যাকরণিক দিক দিয়ে এই বাক্যের দ্বিবিধ অর্থ হতে পারে। প্রথম এই যে, এটা কিতাব অর্থাৎ ‘লওহে-মাহফুযের’ই দ্বিতীয় বিশেষণ এবং لَا يَمَسُّهُ এর সর্বনাম দ্বারা লওহে মাহফুযই বোঝানো হয়েছে। আয়াতের অর্থ এই যে, সংরক্ষিত বা গোপন কিতাব অর্থাৎ লওহে-মাহফুযাকে সম্পূর্ণ পাক-পবিত্র লোকগণ ব্যতীত কেউ স্পর্শ করতে পারে না। এমতাবস্থায় مُطَهَّرُونَ অর্থাৎ পাক-পবিত্ৰ লোকগণ-এর অর্থ ফেরেশতাগণই হতে পারে, যারা ‘লওহে-মাহফুয’ পর্যন্ত পৌছতে সক্ষম। ফেরেশতাদের জন্য পবিত্ৰ কথাটি ব্যবহার করার তাৎপর্য হলো মহান আল্লাহ তাদেরকে সব রকমের অপবিত্ৰ আবেগ অনুভূতি এবং ইচ্ছা আকাংখা থেকে পবিত্র রেখেছেন। [কুরতুবী] আয়াতের এ তাফসীরটি সবচেয়ে বেশী গ্রহণযোগ্য; কারণ এর সমর্থনে আমরা অন্যত্র আয়াত দেখতে পাই, যেখানে বলা হয়েছে, “ওটা আছে মর্যাদা সম্পন্ন লিপিসমূহে, যা উন্নত, পবিত্র, মহান, পবিত্র লেখকদের হাতে।” [সূরা আবাসাঃ ১৩–১৬]

এ আয়াতে ‘পবিত্র’ বলে ফেরেশতাদের বোঝানো হয়েছে বলে সবাই একমত। উপরোক্ত তাফসীর অনুযায়ী কাফেররা কুরআনের বিরুদ্ধে যেসব অভিযোগ আরোপ করতো এটা তার জবাব হিসেবে বিবেচিত হবে। তারা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে গণক আখ্যায়িত করে বলতো, জিন ও শয়তানরা তাকে এসব কথা শিখিয়ে দেয়। কুরআন মজীদের কয়েকটি স্থানে এর জবাব দেয়া হয়েছে। যেমন এক স্থানে বলা হয়েছে, “শয়তানরা এ বাণী নিয়ে আসেনি। এটা তাদের জন্য সাজেও না। আর তারা এটা করতেও পারে না। এ বাণী শোনার সুযোগ থেকেও তাদেরকে দূরে রাখা হয়েছে।” [সূরা আশ-শু'আরা: ২১০-২১২] এ বিষয়টিই এখানে এ ভাষায় বর্ণনা করা হয়েছে যে, “পবিত্ৰ সত্তা ছাড়া কেউ তা স্পর্শ করতে পারে না।”

দ্বিতীয় সম্ভাব্য অর্থ এই যে, (لَا يَمَسُّهُ إِلَّا الْمُطَهَّرُونَ) এ বাক্যটি (إِنَّهُ لَقُرْآنٌ كَرِيمٌ) বাক্যের বিশেষণ। এমতাবস্থায় (لَا يَمَسُّهُ) এর সর্বনাম দ্বারা কুরআন বোঝানো হবে। [কুরতুবী] আয়াতের উদ্দেশ্য এই যে, এটাকে এমন লোক, যারা ‘হাদসে-আসগর’ ও ‘হাদসে আকবর’ থেকে পবিত্র তারা ব্যতীত কেউ যেন স্পর্শ না করে। (বে-ওযু অবস্থাকে হাদসে-আসগর’ বলা হয়। ওযু করলে এই অবস্থা দূর হয়ে যায়। পক্ষান্তরে বীর্যস্খলনের কিংবা স্ত্রীসহবাসের পরবর্তী অবস্থা এবং হায়েয এবং নেফাসের অবস্থাকে ‘হাদসে-আকবর’ বলা হয় ) কিন্তু আয়াত থেকে এর সপক্ষে দলীল নেয়া খুব শক্তিশালী মত নয়। কিন্তু বিভিন্ন হাদীস থেকে এ মতের পক্ষে দলীল পাওয়া যায়। যেমন, “রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কুরআন সাথে নিয়ে কাফের দেশে সফর করতে নিষেধ করেছেন; যাতে তা কাফেরদের হাতে না পড়ে।” [বুখারী: ২৯৯০, মুসলিম: ১৮৬৯]

অন্য হাদীসে এসেছে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আমর ইবনে হাযমের কাছে লিখে পাঠিয়েছিলেন যে, “কুরআনকে যেন পবিত্র ব্যক্তি ছাড়া কেউ স্পর্শ না করে।” [মুয়াত্তা মালেক: ১/২৯৯, মুহাদ্দিসগণ আবু বকর ইবনে হাযমের কাছে লিখা চিঠিটি বিশুদ্ধ বলে মত প্ৰকাশ করেছেন। দেখুন: আলবানী: ইরাওয়াউল গালীল ১২২]

তাছাড়া এ ব্যাপারে আলেমগণ একমত যে, ‘হাদসে আকবর’ অবস্থায় কোনভাবেই কুরআন স্পর্শ করা যাবে না। তবে ‘হাদসে আসগর’ অবস্থায় কোন কোন আলেমের মতে স্পর্শ করা জায়েয আছে। তারা এ আয়াতে বর্ণিত مُطَهَّرُونَ দ্বারা ফেরেশতা উদ্দেশ্য নিয়েছেন। আর উপরোক্ত প্রথম হাদীসের নিষেধাজ্ঞার কারণ হিসেবে বলেছেন যে, কাফেরদের হাতে পড়লে কুরআনের অবমাননার সম্ভাবনা থাকায় নিষেধ করা হয়েছে। পক্ষান্তরে দ্বিতীয় হাদীসটি তাদের নিকট বিশুদ্ধ বলে প্রমাণিত হয়নি। তাছাড়া কোন কোন আলেম এ আয়াত থেকে তৃতীয় আরেকটি অর্থ নিয়েছেন। তাদের মতে এখানে مس শব্দ দ্বারা উপকৃত হওয়া বোঝানো হয়েছে। অর্থাৎ এ কুরআন থেকে কেবল ঐ সমস্ত লোকরাই উপকৃত হতে পারে যাদের অন্তর পবিত্র। [দেখুন: কুরতুবী]

তাফসীরে জাকারিয়া

(৭৯) পূত-পবিত্রগণ ব্যতীত অন্য কেউ তা স্পর্শ করে না। [1]

[1] لاَ يَمَسُّهُ তে هُ সর্বনামের বিশেষ্য হল, ‘লওহে মাহফূয’। আর ‘পবিত্রগণ’ বলতে ফিরিশতাগণকে বুঝানো হয়েছে। কেউ কেউ هُ এর বিশেষ্য বানিয়েছেন কুরআন কারীমকে। অর্থাৎ, এই কুরআনকে ফিরিশতারাই স্পর্শ করেন। অর্থাৎ, আসমানে ফিরিশতাগণ ছাড়া অন্য কেউ এই কুরআন পর্যন্ত পৌঁছতে পারে না। আসলে এখানে মুশরিকদের কথার খন্ডন করা হয়েছে। যারা বলত যে, কুরআন শয়তানরা নিয়ে অবতরণ করে। আল্লাহ বলেন, এটা কি করে সম্ভব? এই কুরআন তো শয়তানের প্রভাব থেকে একেবারে সুরক্ষিত। (অন্য মতে আয়াতের অর্থ হল, পবিত্র মুমিন ব্যক্তি ছাড়া কোন অপবিত্র ব্যক্তি যেন কুরআন স্পর্শ না করে। আর আল্লাহই অধিক জানেন।)

তাফসীরে আহসানুল বায়ান
শেয়ার লিঙ্ক কপি হয়েছে!

৫৬ : ৮০

 

تَنۡزِیۡلٌ مِّنۡ رَّبِّ الۡعٰلَمِیۡنَ ﴿۸۰﴾ 

تنزیل من رب العلمین ﴿۸۰﴾
তা সৃষ্টিকুলের রবের কাছ থেকে নাযিলকৃত।

-আল-বায়ান

জগৎ সমূহের প্রতিপালকের নিকট থেকে অবতীর্ণ,

-তাইসিরুল

ইহা জগতসমূহের রবের নিকট হতে অবতীর্ণ।

-মুজিবুর রহমান

[It is] a revelation from the Lord of the worlds.

-Sahih International

৮০. এটা সৃষ্টিকুলের রবের কাছ থেকে নাযিলকৃত।

-

তাফসীরে জাকারিয়া

(৮০) এটা বিশ্ব-জাহানের প্রতিপালকের নিকট হতে অবতীর্ণ।

মন্তব্য করুন

ব্লগ