Loading..

ব্লগ

রিসেট

১৩ নভেম্বর, ২০২৫ ০৮:৫৩ পূর্বাহ্ণ

শিক্ষার গুণগত মান উন্নয়নে কমিশনের দায়িত্ব অপরিহার্য।

শিক্ষা একটি জাতির উন্নয়নের প্রধান হাতিয়ার। প্রতিটি দেশের আর্থ-সামাজিক অগ্রগতির পেছনে শিক্ষার ভূমিকা অপরিসীম। উন্নয়নের ধারাকে ত্বরান্বিত করতে একটি দেশের নাগরিকদের গুণগত শিক্ষা অর্জন করা গুরুত্বপূর্ণ। বর্তমান সময়ে প্রযুক্তির দ্রুত পরিবর্তন এবং অর্থনৈতিক প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে হলে শিক্ষার গুণগত মান নিশ্চিত করা অপরিহার্য। এছাড়া উচ্চ মানসম্পন্ন শিক্ষার প্রতিও গুরুত্ব দিতে হবে। বিশেষ করে বাংলাদেশের মতো উন্নয়নশীল দেশে শিক্ষার গুণগত মান উন্নয়ন নিশ্চিত করতে একটি গবেষণাধর্মী ও কাঠামোবদ্ধ এবং দক্ষ শিক্ষা কমিশন গঠন করা অনস্বীকার্য। কেননা একটি দেশের শিক্ষা ব্যবস্থা পরিচালনার ভার সাধারণত শিক্ষা কমিশনের উপরে ন্যস্ত থাকে।

বর্তমানে দেশের শিক্ষা কমিশনের গুরুত্ব নিয়ে আলোচনা করা হচ্ছে এ কারণে যে বর্তমানে বাংলাদেশে কোনো স্থায়ী বা নির্দিষ্ট শিক্ষা কমিশন নেই যা নিয়মিত কাজ করছে। তবে বিভিন্ন সময়ে শিক্ষানীতি ও কারিকুলাম উন্নয়নের জন্য সরকার বিশেষ কমিশন বা কমিটি গঠন করে। সাম্প্রতিক সময়ে ২০২০ সালের “জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (NCTB)” নতুন কারিকুলাম প্রণয়নের জন্য কাজ করেছে। এ ধরনের বিশেষায়িত সংস্থা ও কমিটিগুলো নির্দিষ্ট উদ্দেশ্য নিয়ে কাজ করে, কিন্তু স্থায়ী শিক্ষা কমিশন হিসাবে কাজ করে না। বাংলাদেশে কার্যকর শিক্ষা কমিশন না থাকলে শিক্ষাব্যবস্থায় কয়েকটি বড় সমস্যা দেখা দিতে পারে। প্রথমত, শিক্ষানীতির প্রয়োজনীয় পরিবর্তন বা সংস্কার সঠিকভাবে করা সম্ভব হবে না, ফলে শিক্ষার্থীরা আধুনিক জ্ঞান ও দক্ষতার সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলতে পারবে না। দ্বিতীয়ত, যুগোপযোগী কারিকুলাম প্রণয়নের অভাবে শিক্ষার্থীরা চাকরি বাজারে প্রতিযোগিতামূলক দক্ষতা অর্জন করতে ব্যর্থ হবে। তৃতীয়ত, মানসম্মত শিক্ষার ক্ষেত্রে অঞ্চলভেদে বা স্কুলভেদে বৈষম্য বেড়ে যেতে পারে। এছাড়া, নতুন প্রযুক্তি ও বৈশ্বিক পরিবর্তনের সঙ্গে শিক্ষা ব্যবস্থার সমন্বয় করা কঠিন হয়ে পড়বে, যা দেশের সামগ্রিক উন্নয়নকে বাধাগ্রস্ত করতে পারে।

মন্তব্য করুন

ব্লগ