সহকারী শিক্ষক
১৪ নভেম্বর, ২০২৫ ০৭:০৫ পূর্বাহ্ণ
সহকারী শিক্ষক
৫৬ : ৮১
اَفَبِهٰذَا الۡحَدِیۡثِ اَنۡتُمۡ مُّدۡهِنُوۡنَ
৮১. তবুও কি তোমরা এ বাণীকে তুচ্ছ গণ্য করছ?(১)
(১) আয়াতে مُدْهِنُونَ শব্দটি শৈথিল্য প্রদর্শন করা ও কপটতা করা, তুচ্ছ জ্ঞান করা, খোশামোদ ও তোয়াজ করার নীতি গ্ৰহণ করা, গুরুত্ব না দেয়া এবং যথাযোগ্য মনোযোগের উপযুক্ত মনে না করার অর্থে ব্যবহৃত হয়। এখানেও কুরআনী আয়াতের ব্যাপারে কপটতা, মিথ্যারোপ, গুরুত্বহীন ও তুচ্ছ জ্ঞান করার অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে। [কুরতুবী]
তাফসীরে জাকারিয়া(৮১) তবুও কি তোমরা এই বাণীকে তুচ্ছজ্ঞান করবে? [1]
[1] حَدِيث থেকে কুরআন কারীম উদ্দেশ্য। مُدَاهَنَةٌ বলা হয় এমন নম্রতা ও শৈথিল্য ভাবকে, যা বিরোধীর বিপক্ষে অবলম্বন করা হয়। (এখানে সম্বোধন মুশরিক ও মুনাফিকদেরকে করা হয়েছে, বলা হয়েছে তোমরা কি এই কুরআনকে মানতে তোষামোদ, চাটুবৃত্তি ও মোসাহেবির পথ অবলম্বন করবে অথবা তা মিথ্যা ও তুচ্ছজ্ঞান করবে?) অথবা মু’মিনদেরকে সম্বোধন করে বলা হচ্ছে যে, তোমরা কি এই কুরআনকে মানতে কাফের ও মুনাফিকদের বিপক্ষে নম্রতা ও শৈথিল্য ভাব প্রকাশ করবে? অথচ প্রয়োজন হল তাদের বিরুদ্ধে চরম কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করার। অর্থাৎ, এই কুরআনকে অবলম্বন করার ব্যাপারে সমস্ত কাফেরদেরকে সন্তুষ্ট করার জন্য নরম ভাব ও বিমুখতার পথ অবলম্বন করছ। অথচ এই কুরআন যা উল্লিখিত গুণাবলীর অধিকারী, তা এই দাবী রাখে যে, তাকে সানন্দে (গর্বের সাথে) অবলম্বন করা হোক।
তাফসীরে আহসানুল বায়ান৫৬ : ৮২
وَ تَجۡعَلُوۡنَ رِزۡقَكُمۡ اَنَّكُمۡ تُكَذِّبُوۡنَ ﴿۸۲﴾
-আল-বায়ান
-তাইসিরুল
-মুজিবুর রহমান
-Sahih International
৮২. আর তোমরা মিথ্যারোপকেই তোমাদের রিযিক করে নিয়োছ!(১)
(১) অর্থাৎ আল্লাহর নেয়ামতকে দেখেও তোমরা সেগুলোকে অস্বীকার করে যাচ্ছ। তোমরা কৃতজ্ঞ হওয়ার পরিবর্তে কৃতঘ্ন হচ্ছ। তোমরা আল্লাহর নেয়ামতকে অন্যের দিকে সম্বন্ধযুক্ত করছ। তোমরা শুকরিয়া আদায়ের জায়গায় কুফরী করছ। [ফাতহুল কাদীর]। হাদীসে এসেছে, যায়েদ ইবন খালেদ আল-জুহানী রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আমাদেরকে নিয়ে হুদাইবিয়াতে ফজরের সালাত আদায় করেন। তার আগের রাত্রিতে বৃষ্টি হয়েছিল। সালাত শেষ করে রাসূল মানুষের দিকে ফিরে বললেন, তোমরা কি জান তোমাদের রব কি বলেছেন? সাহাবাগণ বললেন, আল্লাহ ও তাঁর রাসূল ভাল জানেন। তিনি বললেন, আল্লাহ বলেছেন, আমার বান্দাদের মধ্যে কেউ ঈমানদার আর কেউ কাফের এ দু'ভাগ হয়ে গেছে। যারা বলেছে আমরা আল্লাহর রহমতে বৃষ্টি লাভ করেছি তারা আমার উপর ঈমান এনেছে নক্ষত্রপুঞ্জের প্রভাব অস্বীকার করেছে। আর যারা বলেছে আমরা ওমুক ওমুক নক্ষত্রের নিকটবর্তী হওয়ার কারণে বৃষ্টি লাভ করেছি তারা আমার সাথে কুফরী করেছে এবং নক্ষত্রপুঞ্জের উপর ঈমান এনেছে। [বুখারী: ১০৩৮, মুসলিম: ৭১]
তাফসীরে জাকারিয়া(৮২) এবং তোমরা মিথ্যাজ্ঞানকেই তোমাদের উপজীব্য করে নেবে?
-
তাফসীরে আহসানুল বায়ান৫৬ : ৮৩
فَلَوۡ لَاۤ اِذَا بَلَغَتِ الۡحُلۡقُوۡمَ ﴿ۙ۸۳﴾
-আল-বায়ান
-তাইসিরুল
-মুজিবুর রহমান
-Sahih International
৮৩. সুতরাং কেন নয়—প্ৰাণ যখন কণ্ঠাগত হয়(১)
(১) অর্থাৎ যদি তোমরা নিজেদেরকে সর্বেসর্বা মনে করে থাক তবে কেন পার না তোমাদের প্ৰাণকে তোমাদের শরীরে রেখে দিতে? [ফাতহুল কাদীর]
তাফসীরে জাকারিয়া(৮৩) পরন্তু কেন নয়, প্রাণ যখন কণ্ঠাগত হয়।
-
তাফসীরে আহসানুল বায়ান৫৬ : ৮৪
وَ اَنۡتُمۡ حِیۡنَئِذٍ تَنۡظُرُوۡنَ ﴿ۙ۸۴﴾
-আল-বায়ান
-তাইসিরুল
-মুজিবুর রহমান
-Sahih International
৮৪. এবং তখন তোমরা তাকিয়ে থাক,
-
তাফসীরে জাকারিয়া(৮৪) এবং তখন তোমরা তাকিয়ে থাক।[1]
[1] অর্থাৎ, আত্মাকে বের হতে দেখ, কিন্তু তা রোধ করার অথবা কোন উপকার করার ক্ষমতা রাখ না।
তাফসীরে আহসানুল বায়ান৫৬ : ৮৫
وَ نَحۡنُ اَقۡرَبُ اِلَیۡهِ مِنۡكُمۡ وَ لٰكِنۡ لَّا تُبۡصِرُوۡنَ ﴿۸۵﴾
-আল-বায়ান
-তাইসিরুল
-মুজিবুর রহমান
-Sahih International
৮৫. আর আমরা তোমাদের চেয়ে তার কাছাকাছি, কিন্তু তোমরা দেখতে পাও না।(১)
(১) অর্থাৎ এমতাবস্থায়ও আমরা আমাদের ফেরেশতাদের নিয়ে তোমাদের নিকটেই থাকি। এখানে ফেরেশতাগণ বান্দার নিকটে থাকার কথা বলা হয়েছে। এমতটিই সবচেয়ে সঠিক মত। ইবনে কাসীর এটাই গ্ৰহণ করেছেন। তিনি এর প্রমাণস্বরূপ বলছেন যে, এর পরে বলা হয়েছে, “কিন্তু তোমরা দেখতে পাও না”। কারণ, ফেরেশতাদেরকে দেখতে পাওয়া যায় না। যেমন অন্য আয়াতে বলা হয়েছে, (وَهُوَ الْقَاهِرُ فَوْقَ عِبَادِهِ وَيُرْسِلُ عَلَيْكُمْ حَفَظَةً حَتَّىٰ إِذَا جَاءَ أَحَدَكُمُ الْمَوْتُ تَوَفَّتْهُ رُسُلُنَا وَهُمْ لَا يُفَرِّطُونَ ٭ ثُمَّ رُدُّوا إِلَى اللَّهِ مَوْلَاهُمُ الْحَقِّ أَلَا لَهُ الْحُكْمُ وَهُوَ أَسْرَعُ الْحَاسِبِينَ) “তিনিই স্বীয় বান্দাদের উপর পরাক্রমশালী এবং তিনিই রক্ষক পাঠান। অবশেষে যখন তোমাদের কারো মৃত্যু উপস্থিত হয় তখন আমার পাঠানোরা তার মৃত্যু ঘটায় এবং তারা কোন ভুল করে না। তারপর তাদের প্রকৃত প্রতিপালক আল্লাহর দিকে তারা ফিরে আসে। দেখুন, কর্তৃত্ব তো তাঁরই এবং হিসেব গ্রহনে তিনিই সবচেয়ে তৎপর।” [সূরা আল আন’আম: ৬১–৬২] সেখানে যেভাবে ফেরেশতা পাঠানোর কথা বলা হয়েছে এখানেও এটাই উদ্দেশ্য। [ইবন কাসীর]
তাফসীরে জাকারিয়া(৮৫) আর আমি তোমাদের অপেক্ষা তার অধিক নিকটতর, [1] কিন্তু তোমরা দেখতে পাও না। [2]
[1] অর্থাৎ, আমি স্বীয় জ্ঞান, ক্ষমতা ও দর্শন করার দিক দিয়ে তোমাদের চাইতেও বেশী মৃতের নিকটবর্তী। অথবা نحن (আমরা) বলতে আল্লাহর কর্মীবৃন্দ তথা মৃত্যুর ফিরিশতাদেরকে বুঝানো হয়েছে, যাঁরা মানুষের জান কবজ করেন।
[2] অর্থাৎ, অজ্ঞতার কারণে তোমাদের এই বোধটুকুও নেই যে, আল্লাহ তোমাদের গ্রীবাস্থিত ধমনী (ঘাড়ের শিরা) অপেক্ষাও বেশী নিকটে। অথবা জান কবযকারী ফিরিশতাকে তোমরা দেখতে পাও না।
তাফসীরে আহসানুল বায়ান৫৬ : ৮৬
فَلَوۡ لَاۤ اِنۡ كُنۡتُمۡ غَیۡرَ مَدِیۡنِیۡنَ ﴿ۙ۸۶﴾
-আল-বায়ান
-তাইসিরুল
-মুজিবুর রহমান
-Sahih International
৮৬. অতঃপর যদি তোমরা হিসাব নিকাশ ও প্রতিফলের সম্মুখীন না হও(১),
(১) مَدِينِينَ শব্দের এক অর্থ হিসাব নিকাশের অধীন। কারণ, তারা মৃত্যুর পর হিসাব দেয়ার বিষয়টি অস্বীকার করত। [তাবারী] অপর অর্থ, পুনরুত্থিত হওয়া। যদি তোমরা পুনরুত্থিত না হওয়ার থাক, তবে রূহ ফেরত নিয়ে আস না কেন? [তাবারী] অপর অর্থ, প্রতিফল দেয়া। অর্থাৎ যদি তোমাদেরকে তোমাদের কাজের প্রতিফল না দিতে হয়, তবে তোমাদের রূহকে ফিরিয়ে নিয়ে আস না কেন? এ অর্থকে ইমাম তাবারী প্রাধান্য দিয়েছেন। কারও অধীন থাকা। অর্থাৎ যদি তোমরা কারও অধীন না থাক, কারও কর্তৃত্ব যদি তোমাদের উপর কার্যকর না থাকে, তবে তোমরা কেন তোমাদের রূহকে দেহে ফিরিয়ে আনতে সক্ষম হও না? [ইবন কাসীর; ফাতহুল কাদীর]
তাফসীরে জাকারিয়া(৮৬) তোমরা যদি কর্তৃত্বাধীন না হও,
-
তাফসীরে আহসানুল বায়ান৫৬ : ৮৭
تَرۡجِعُوۡنَهَاۤ اِنۡ كُنۡتُمۡ صٰدِقِیۡنَ ﴿۸۷﴾
-আল-বায়ান
-তাইসিরুল
-মুজিবুর রহমান
-Sahih International
৮৭. তবে তোমরা ওটা(১) ফিরাও না কেন? যদি তোমরা সত্যবাদী হও!
(১) অর্থাৎ আত্মা কণ্ঠাগত হওয়ার পর তোমরা যখন দেখতে পাচ্ছ যে, তোমাদের সেখানে কোনও করণীয় নেই, তখন তোমাদের জন্য উচিত হবে ঈমান আনা। কিন্তু যদি তা না কর, তাহলে যুক্তির কথা হচ্ছে, তোমরা রূহটাকে ফেরৎ নিয়ে আস, যেন মৃত্যুই না আসে। কিন্তু তোমরা সেটাকে ফেরৎ আনতে সমর্থ নও। [জালালাইন; সা’দী; মুয়াসসার]
তাফসীরে জাকারিয়া(৮৭) তাহলে তোমরা তা ফিরাও না কেন? যদি তোমরা সত্যবাদী হও। [1]
[1] دَانَ يَدِيْنُ এর অর্থ অধীনস্থ হওয়া। দ্বিতীয় অর্থ হল, প্রতিদান বা শাস্তি দেওয়া। অর্থাৎ, তোমরা যদি তোমাদের এই কথায় সত্যবাদী হও যে, তোমাদের এমন কোন প্রভু ও মালিক নেই, তোমরা যাঁর আজ্ঞাবহ দাস ও কর্তৃত্বাধীন, অথবা প্রতিদান ও শাস্তির কোন দিন আসবে না, তাহলে কবয করা ঐ আত্মাকে ফিরিয়ে আন তো দেখি। আর যদি তোমরা এমন করতে না পার, তাহলে তার পরিষ্কার অর্থ হল, তোমাদের ধারণা মিথ্যা। অবশ্যই তোমাদের একজন প্রভু আছেন এবং এমন একদিন অবশ্যই আসবে, যেদিন সেই প্রভু প্রত্যেককে তার কৃতকর্মের প্রতিদান ও শাস্তি দেবেন।
তাফসীরে আহসানুল বায়ান৫৬ : ৮৮
فَاَمَّاۤ اِنۡ كَانَ مِنَ الۡمُقَرَّبِیۡنَ ﴿ۙ۸۸﴾
-আল-বায়ান
-তাইসিরুল
-মুজিবুর রহমান
-Sahih International
৮৮. অতঃপর যদি সে নৈকট্যপ্ৰাপ্তদের একজন হয়,
-
তাফসীরে জাকারিয়া(৮৮) সুতরাং যদি সে নৈকট্যপ্রাপ্তদের একজন হয়, [1]
[1] সূরার শুরুতে নিজ নিজ কর্ম হিসাবে মানুষের যে তিনটি শ্রেণী উল্লেখ করা হয়েছে, তারই পুনরাবৃত্তি করা হচ্ছে। আলোচ্য আয়াতে তার প্রথম শ্রেণীর কথা বলা হচ্ছে, যাদেরকে ‘নৈকট্যপ্রাপ্ত’ ছাড়া অগ্রবর্তীও বলা হয়। কেননা তারা নেকী ও পুণ্যের প্রত্যেক কাজে সর্বদা আগে আগে থাকে এবং ঈমান গ্রহণ করার ব্যাপারেও তারা সবার অগ্রণী হয়। আর এই সদগুণের জন্যই তারা আল্লাহর নৈকট্যপ্রাপ্ত গণ্য হবে।
তাফসীরে আহসানুল বায়ান৫৬ : ৮৯
فَرَوۡحٌ وَّ رَیۡحَانٌ ۬ۙ وَّ جَنَّتُ نَعِیۡمٍ ﴿۸۹﴾
-আল-বায়ান
-তাইসিরুল
-মুজিবুর রহমান
-Sahih International
৮৯. তবে তার জন্য রয়েছে আরাম, উত্তম জীবনোপকরণ ও সুখদ উদ্যান(১),
(১) হাদীসে এসেছে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, “মুমিনের প্রাণ তো জান্নাতের গাছে পাখির আকারে থাকবে, পুনরুত্থান দিবসে তার প্রাণকে তার শরীরে ফেরৎ দেয়া পর্যন্ত এভাবেই সে থাকবে”। [মুসনাদে আহমাদ: ৩/৪৫৫, ইবনে মাজাহঃ ৪২৭১, মুয়াত্তা ইমাম মালেক: ৪৯]
তাফসীরে জাকারিয়া(৮৯) তাহলে (তার জন্য রয়েছে) আরাম উত্তম রুযী ও সুখময় জান্নাত;
-
তাফসীরে আহসানুল বায়ান৫৬ : ৯০
وَ اَمَّاۤ اِنۡ كَانَ مِنۡ اَصۡحٰبِ الۡیَمِیۡنِ ﴿ۙ۹۰﴾
-আল-বায়ান
-তাইসিরুল
-মুজিবুর রহমান
-Sahih International
৯০. আর যদি সে ডান দিকের একজন হয়,
-
তাফসীরে জাকারিয়া(৯০) আর যদি সে ডান হাত-ওয়ালাদের একজন হয়, [1]
[1] এরা দ্বিতীয় শ্রেণীর সাধারণ মু’মিন। এরাও জাহান্নাম থেকে মুক্তি পেয়ে জান্নাতে যাবে। তবে মর্যাদায় অগ্রবর্তীদের তুলনায় কম হবে। মৃত্যুর সময় ফিরিশতারা এদেরকেও নিরাপত্তার সুসংবাদ দিয়ে থাকেন।
১৪
২৪ মন্তব্য