Loading..

ব্লগ

রিসেট

১৬ নভেম্বর, ২০২৫ ০৬:৫৭ পূর্বাহ্ণ

চীনের পারমাণবিক প্রযুক্তিতে এক যুগান্তকারী অগ্রগতি: থোরিয়াম চুল্লির বাস্তবায়ন



চীনের গোবি মরুভূমিতে শুরু হয়েছে এমন এক পরীক্ষা, যা হয়তো ভবিষ্যতের জ্বালানির মানচিত্রই বদলে দেবে। তারা সফলভাবে চালু করেছে একটি ২ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন থোরিয়াম মল্টেন সল্ট রিঅ্যাক্টর (TMSR)—এখন পর্যন্ত পৃথিবীর একমাত্র সচল চুল্লি, যেটি তরল অবস্থায় থোরিয়াম ব্যবহার করে।


২০২৩ সালের অক্টোবরে চালু হওয়া এই চুল্লিটি প্রথমবারের মতো পরীক্ষামূলকভাবে থোরিয়াম-২৩২ কে ইউরেনিয়াম-২৩৩ তে রূপান্তর করেছে, যা থোরিয়াম-ভিত্তিক জ্বালানির বাস্তব কার্যকারিতা প্রমাণ করে। এটি শুধু চীন নয়, গোটা পারমাণবিক জ্বালানি গবেষণার জগতে এক যুগান্তকারী ঘটনা।


কেন থোরিয়াম?


থোরিয়াম ইউরেনিয়ামের তুলনায়:


✅ অনেক সহজলভ্য (বিশ্বজুড়ে প্রচুর পরিমাণে মজুদ রয়েছে)


✅ খনি থেকে তুলতে ও প্রক্রিয়াজাত করতে অপেক্ষাকৃত সহজ


✅ কম পারমাণবিক বর্জ্য তৈরি করে


✅ বর্জ্য কম তেজস্ক্রিয় এবং দ্রুত নিরাপদ হয়ে পড়ে


চীনের অভ্যন্তরীণ মঙ্গোলিয়ার একটি খনিতে এমন বিপুল পরিমাণ থোরিয়াম আছে যে, তা দিয়ে পুরো দেশকে ১,০০০ বছরের জন্য বিদ্যুৎ সরবরাহ করা সম্ভব।


কীভাবে আলাদা এই চুল্লি?


🔹 এটি তরল জ্বালানি ব্যবহার করে— ফলে চুল্লি বন্ধ না করেই জ্বালানি যোগ বা বর্জ্য অপসারণ করা যায়।

🔹 এর শীতলকরণ মাধ্যম গলিত লবণ, তাই পানি লাগেনা—যে কারণে মরুভূমি বা দুর্গম এলাকায় চুল্লি বসানো সম্ভব।

🔹 প্রচলিত ইউরেনিয়াম চুল্লিতে যেমন বড়সড় কাঠামো ও নিরাপত্তা প্রয়োজন হয়, এখানে সে জটিলতা অনেকটাই কম।


ভবিষ্যতের লক্ষ্য


এই সাফল্যের ভিত্তিতে চীন এখন ১০০ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন বাণিজ্যিক চুল্লি নির্মাণে কাজ করছে। পরিকল্পনা অনুযায়ী, ২০৩৫ সালের মধ্যে তারা এই প্রযুক্তিকে বাণিজ্যিকভাবে পুরোপুরি প্রস্তুত করতে চায়।


এর সফল বাস্তবায়ন হলে:


চীনের জ্বালানি নিরাপত্তা আরও দৃঢ় হবে


বিশ্বে কার্বন-মুক্ত শক্তি উৎপাদনে এক নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে


থোরিয়াম হতে পারে নবায়নযোগ্য জ্বালানির টেকসই উত্তরাধিকার


🔬 ভবিষ্যতের পরিচ্ছন্ন পারমাণবিক শক্তির ইতিহাসে এই চুল্লির নাম লেখা থাকবে অগ্রদূতের মতো।



মন্তব্য করুন

ব্লগ