Loading..

ব্লগ

রিসেট

১৭ নভেম্বর, ২০২৫ ১০:৫৩ পূর্বাহ্ণ

আমরা কি সত্যিই প্রাথমিক — তাই সব দিক দিয়েই প্রাথমিক?”

📜 রাষ্ট্রের উদ্দেশ্যে খোলা চিঠি


বিষয়: “আমরা কি সত্যিই প্রাথমিক — তাই সব দিক দিয়েই প্রাথমিক?”


হে রাষ্ট্র,

আপনার ব্যস্ত সময়ের এক ফাঁকে আমাদের এই চিঠিটা একটু পড়ে দেখবেন — আমরা সেই জাতির নির্মাতা, যাদের হাতেই জাতি গড়ে, অথচ যাদের পকেট এখনো সংস্কারহীন অবস্থায় পড়ে আছে।


আমরা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক।

নাম শুনে হয়তো আপনার মনে হয়েছে, “আচ্ছা, সহকারী শিক্ষক মানে সহকারী মর্যাদা তো আছেই!”

ঠিক ধরেছেন, সম্মানেও সহকারী, বেতনেও সহকারী, গ্রেডেও সহকারী — শুধু দায়িত্বে পূর্ণাঙ্গ শিক্ষক!


---


📚  মন্ত্রণালয়ের সিঁড়ি বেয়ে উঠতে গিয়ে—


আমরা দেখেছি, একই রাষ্ট্রে কেউ যদি মাধ্যমিক বা কলেজে ক্লাস নেন, তার গ্রেড হয় ৯ বা ১০;

আর আমরা, যারা শিশুর মুখে প্রথম ‘অ’ শেখাই, তাদের গ্রেড ১৩!

এ যেন, ভবিষ্যতের প্রধানমন্ত্রীকে “অ আ ক খ” শেখানোর পুরস্কার — এক কাপ চা আর তের নম্বর গ্রেড!


🏛️ হে রাষ্ট্রের নির্মাতা,


আপনি কি জানেন, জাতি গড়ার কারিগর শিক্ষকগণ যখন তাদের প্রাপ্য পারিশ্রমিক নিতে যান,

তখন আপনার উঁচু থেকে নিচু অফিসের কেরানি আর কর্তা বাবুদের দপ্তরে কত রকম হয়রানির শিকার হতে হয়?

কখনও “ফাইল আটকে আছে”, কখনও “সই হয়নি”, কখনও “একটু দেখি”— এইসব সরকারি সংস্কৃতির মধ্যেই একেকজন শিক্ষক হয়ে ওঠেন ধৈর্যের প্রতীক।

আর তার সঙ্গে যোগ হয় স্বজাতীয়দের দালালি,

যারা নিজেরাই শিক্ষক হয়েও অন্যের বেতন আটকে রাখায় আনন্দ খুঁজে পান — যেন এটা কোনো খেলাধুলা প্রতিযোগিতা!


💸 বেতন কাঠামোর মজার গণিত


আমরা মাসে যে বেতন পাই, তাতে যদি শিক্ষার্থীদের জন্য উপকরণ  কিনি, নিজের জন্য মোবাইল ডেটা নেই, আর একদিন পরিবারের জন্য একটু ভালো মন্দ খাই —

তাহলে মাসের শেষ সপ্তাহে শিক্ষক নয়, মহাজনের খাতার চরিত্র হয়ে যাই!


একটা প্রবাদ ছিল — “শিক্ষক জাতির বিবেক”।

এখন মনে হয় রাষ্ট্র নতুন প্রবাদ বানিয়েছে —

“বিবেক থাক, কিন্তু ব্যাংক ব্যালেন্স না থাক।”


---


⚖️ বৈষম্যের নাট্যরূপ


একজন সহকারী প্রকৌশলী, সহকারী সার্জন, সহকারী কমিশনার —

সবাই “সহকারী”, কিন্তু তাঁদের সহায়-সহচর হলো সরকারি মর্যাদা, গাড়ি, আর যথাযথ বেতন।

আর আমরা? আমরা সহকারী শিক্ষক — অর্থাৎ “সহ্যকারী শিক্ষক”!


---


🏫 স্কুলে বাস্তব চিত্র


প্রতিদিন সকালে স্কুলে ঢুকে আমরা যেভাবে ক্লাস, মিড ডে মিল, ডাটাবেস, প্রজেক্ট, রিপোর্ট, ট্যাব আপডেট, স্কুল পরিষ্কার, উপবৃত্তির তথ্য,,শিশু জরিপ, সভা—

সব সামলাই, তাতে মনে হয় আমরা শিক্ষক নই, একটি বহুমুখী সরকারি যন্ত্র!

তবুও মুখে হাসি রেখে বলি,


> “শিক্ষা জাতির মেরুদণ্ড।”

কিন্তু রাষ্ট্রের বাজেট নীতিতে দেখা যায় — এই মেরুদণ্ডটাই হয় সবচেয়ে চিকন!


---


✍️ আমাদের দাবি


আমরা রাজপথে নামতে চাই না, ব্যানার হাতে চিৎকারও করতে চাই না।

আমরা শুধু চাই —

১️⃣ ন্যায্য বেতন কাঠামো ও সমমর্যাদা,

২️⃣ ১১তম বা ১০ম গ্রেডে পুনঃবিন্যাস,

৩️⃣ “সহকারী” শব্দের মান যেন “অবমূল্যায়ন” না হয়।


---


হে রাষ্ট্র,

আমরা আপনার দেশের ভবিষ্যৎ প্রজন্মের চালক।

যদি চালকের স্টিয়ারিংটাই ঢিলে থাকে, তাহলে গন্তব্যে পৌঁছানো কষ্টসাধ্য।

তাই, দয়া করে আমাদের প্রতি দৃষ্টি দিন —

আমাদের শিক্ষার্থীদের নয়, আমাদেরকেও একটু “উন্নয়ন” শেখান!


শুভেচ্ছান্তে,

মো: বেলাল হোসেন 

একজন প্রাথমিক শিক্ষক

মন্তব্য করুন

ব্লগ