সহকারী শিক্ষক
১৮ নভেম্বর, ২০২৫ ০৫:২৮ পূর্বাহ্ণ
সহকারী শিক্ষক
দেয়াঙ পাহাড়ে উন্মোচিত হতে যাচ্ছে হাজার বছরের চাপা পড়া ইতিহাস।
দেয়াঙ পাহাড়ে শুরু হয়েছে প্রত্নতাত্ত্বিক খনন।
চট্টগ্রামের কর্ণফুলী উপজেলার বড় উঠান ইউনিয়নের বিশ্বমুড়া এলাকায় দেয়াঙ পাহাড়ে খনন কার্য শুরু হয়েছে। চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগ প্রত্নতত্ত্ব দপ্তর যৌথভাবে খনন কার্য পরিচালনা করছে।
গত ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৩ থেকে এ কার্যক্রম আরম্ভ লাভ করে। ইতোমধ্যে সেখানে 'ইটের দেয়াল ও মেঝেসদৃশ স্থাপনার অবয়ব' এর সন্ধান পাওয়া গেছে।
মহাস্থানগড়ে কাজ করা প্রত্নতাত্ত্বিক খননে দক্ষ শ্রমিকদের দ্বারা এ খনন চালানো হচ্ছে।
জনশ্রুতি আছে, চট্টগ্রামের কর্ণফুলী উপজেলার বড় উঠান ইউনিয়নের বিশ্বমুড়া এলাকায় আরাকান রাজা বিক্রমের প্রাসাদ রয়েছে। দেয়াঙ পাহাড়ের এই স্থাপনা রাজা বিক্রমের প্রাসাদের একটা অংশ।
এছাড়াও একটা কিংবদন্তি প্রচলিত আছে যে, এখানে পণ্ডিত বিহার নামে একটি আন্তর্জাতিক বিশ্ববিদ্যালয় ছিল।
সপ্তম-অষ্টম শতকেও বা ধর্মপালের আমলেও পণ্ডিত বিহার নামে এ জ্ঞানচর্চা কেন্দ্রের অস্তিত্ব ছিল বলে ধারণা করা হয়।
চর্যাপদের ভাষায় চট্টগ্রামী ভাষার প্রভাব দেখে অনেকে মনে করেন চট্টগ্রামের কোন এক বিহারে বসেই চর্যাপদ রচয়িতাদের কেউ কেউ পদ রচনা করেন।
তবে ষোড়শ শতকের পরে এতদাঞ্চল হতে কালের গর্বে তা হারিয়ে যায়।
খনন কাজ চলাকালীন এ সময়ে দেয়াঙ পাহাড়ের এ স্থানে ধ্বংসপ্রাপ্ত ভবনের দেয়াল, মেঝেসদৃশ স্থাপনা পাওয়া গেলেও ধ্বংসপ্রাপ্ত অবকাঠামো আসলে কোন ধরণের স্থাপনা কিংবা কোন সময়কার তা জানা যায়নি।
আরেকটা কথা বলা জরুরী যে, উপমহাদেশের প্রখ্যাত লেখক, সাংবাদিক ও রাজনীতিক, ভাষা আন্দোলনের প্রেরণার বাতিঘর মাওলানা মনিরুজ্জমান ইসলামাবাদীর আজীবন স্বপ্ন ছিল কর্ণফুলীর তীরবর্তী দেয়াঙ পাহাড়ে একটি জাতীয় আরবি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা। ১৯১৫ সালে তিনি সেই লক্ষ্যে সরকার থেকে ৬০০ বিঘা জমি ও ওই এলাকার জমিদার আলী খান থেকে ৫০০ কানি ভূমি রেজিস্ট্রি মূলে বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য গ্রহণ করেছিলেন। মুসলিম রাজনীতিক ও শিক্ষাবিদ মাওলানা শওকত আলী আরবি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিত্তি স্থাপন করেন। দেয়াং পাহাড়ের বিশ্ববিদ্যালয়ের ওই স্থান পরিদর্শনে এসে মুগ্ধতা প্রকাশ করেন মাওলানা আবুল কালাম আজাদ, মওলানা আকরম খাঁ, মুন্সী রিয়াজ উদ্দিন আহমদ, মাওলানা মোহাম্মদ আলী, মাওলানা শওকত আলী। কিন্তু দুর্ভাগ্যক্রমে বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বপ্ন বাস্তবায়িত করা সম্ভব হয়নি তার পক্ষে।
আমি আশা করবো দেয়াঙ পাহাড়ের এই খনন কার্যের ফলে আমাদের গৌরবান্বিত অতীত, সোনার আত্মপরিচয় উন্মোচিত হবে, উদ্ধার হবে হাজার বছরের চাপা পড়া ইতিহাস।
৭০
১৪৪ মন্তব্য