সহকারী শিক্ষক
১৮ নভেম্বর, ২০২৫ ০৬:৪২ পূর্বাহ্ণ
নারীদের মধ্যে বিষণ্নতা (depression)
গবেষণায় দেখা গেছে—নারীদের মধ্যে বিষণ্নতার (depression) সঙ্গে যুক্ত জিনের সংখ্যা পুরুষদের তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ। এই আবিষ্কার ব্যাখ্যা দিচ্ছে কেন মানসিক বিষণ্নতা দুই লিঙ্গে ভিন্নভাবে প্রভাব ফেলে।
এই গবেষণাটি পরিচালনা করেছে অস্ট্রেলিয়ার Berghofer Medical Research Institute। তারা প্রায় ২ লক্ষ বিষণ্নতা-নির্ণীত ব্যক্তির ডিএনএ বিশ্লেষণ করে দেখেছেন, নারীদের ক্ষেত্রে বিষণ্নতার সঙ্গে সম্পর্কিত প্রায় ১৩,০০০টি জিনগত মার্কার (genetic marker) পাওয়া গেছে—যেখানে পুরুষদের মধ্যে এই সংখ্যা প্রায় ৭,০০০।
এই “জিনগত পতাকাগুলো” আসলে ডিএনএর ক্ষুদ্র পরিবর্তন, যা নির্ধারণ করে একজন ব্যক্তির বিষণ্নতায় আক্রান্ত হওয়ার প্রবণতা কতটা হতে পারে। ফলাফলটি দেখায়, বিষণ্নতায় জৈবিক লিঙ্গ (biological sex) পূর্বের ধারণার চেয়েও অনেক বড় ভূমিকা রাখে।
গবেষক ড. জোডি থমাস ব্যাখ্যা করেছেন, নারীদের ক্ষেত্রে বিষণ্নতার জিনগত উপাদান অনেক বেশি শক্তিশালী। তিনি বলেন, “যদি আমরা এমন জিনগুলো আলাদা করতে পারি যেগুলো দুই লিঙ্গে সাধারণ, আর যেগুলো একেক লিঙ্গে আলাদা, তাহলে ভবিষ্যতে লিঙ্গভিত্তিক চিকিৎসা পদ্ধতি তৈরি করা সম্ভব হবে।”
দীর্ঘদিন ধরেই জানা ছিল, নারীরা পুরুষদের তুলনায় বিষণ্নতায় বেশি আক্রান্ত হন। কিন্তু এর জৈবিক কারণগুলো এতটা স্পষ্ট ছিল না। নতুন গবেষণায় দেখা গেছে, নারীদের মধ্যে বিষণ্নতার সঙ্গে সম্পর্কিত কিছু জিন হরমোন ও বিপাক (metabolism) নিয়ন্ত্রণের সঙ্গে যুক্ত। সম্ভবত এ কারণেই নারীরা বিষণ্ন থাকলে প্রায়ই ওজন পরিবর্তন, ক্লান্তি বা শক্তি হ্রাসের মতো উপসর্গ অনুভব করেন।
অন্যদিকে, আগের বেশিরভাগ বিষণ্নতা গবেষণা পুরুষ বা পুরুষ-অংশগ্রহণকারীদের ওপর ভিত্তি করে করা হয়েছিল। ফলে নারীদের বিষণ্নতা কীভাবে আলাদা রূপে কাজ করে, তা বোঝা কঠিন হয়ে পড়েছিল। এর প্রভাব পড়েছে চিকিৎসাতেও—কারণ অনেক অ্যান্টিডিপ্রেসেন্ট ওষুধ নারীর শরীরের জৈবিক গঠনের কথা মাথায় রেখে তৈরি হয়নি।
১৩
১৮ মন্তব্য