Loading..

ব্লগ

রিসেট

২১ নভেম্বর, ২০২৫ ০৬:১৬ পূর্বাহ্ণ

সেদিন মুনাফিক পুরুষ ও মুনাফিক নারীগণ ঈমানদারদের বলবে তোমরা আমাদের জন্য অপেক্ষা কর তোমাদের নূর থেকে আমরা একটু নিয়ে নেই

৫৭ : ১৩

 

یَوۡمَ یَقُوۡلُ الۡمُنٰفِقُوۡنَ وَ الۡمُنٰفِقٰتُ لِلَّذِیۡنَ اٰمَنُوا انۡظُرُوۡنَا نَقۡتَبِسۡ مِنۡ نُّوۡرِكُمۡ ۚ قِیۡلَ ارۡجِعُوۡا وَرَآءَكُمۡ فَالۡتَمِسُوۡا نُوۡرًا ؕ فَضُرِبَ بَیۡنَهُمۡ بِسُوۡرٍ لَّهٗ بَابٌ ؕ بَاطِنُهٗ فِیۡهِ الرَّحۡمَۃُ وَ ظَاهِرُهٗ مِنۡ قِبَلِهِ الۡعَذَابُ ﴿ؕ۱۳﴾ 

یوم یقول المنفقون و المنفقت للذین امنوا انظرونا نقتبس من نوركم قیل ارجعوا ورآءكم فالتمسوا نورا فضرب بینهم بسور لهٗ باب باطنهٗ فیه الرحمۃ و ظاهرهٗ من قبله العذاب ﴿۱۳﴾
সেদিন মুনাফিক পুরুষ ও মুনাফিক নারীগণ ঈমানদারদের বলবে, ‘তোমরা আমাদের জন্য অপেক্ষা কর, তোমাদের নূর থেকে আমরা একটু নিয়ে নেই’, বলা হবে, ‘তোমরা তোমাদের পিছনে ফিরে যাও এবং নূরের সন্ধান কর,’ তারপর তাদের মাঝখানে একটি প্রাচীর স্থাপন করে দেয়া হবে, যাতে একটি দরজা থাকবে। তার ভিতরভাগে থাকবে রহমত এবং তার বহির্ভাগে থাকবে আযাব।

-আল-বায়ান

সেদিন মুনাফিক পুরুষ ও মুনাফিক নারীরা মু’মিনদেরকে বলবে- ‘তোমরা আমাদের জন্য অপেক্ষা কর, তোমাদের জ্যোতি থেকে আমরা কিছুটা নিয়ে নেই।’ তাদেরকে বলা হবে- ‘তোমরা তোমাদের পেছনে ফিরে যাও, ‘আর আলোর খোঁজ কর।’ তখন তাদের মাঝে একটি আড়াল খাড়া করে দেয়া হবে যার থাকবে একটি দরজা। তার ভিতর ভাগে থাকবে রহমত আর বহির্ভাগের সর্বত্র থাকবে ‘আযাব।

-তাইসিরুল

সেদিন মুনাফিক নর ও নারী মু’মিনদের বলবেঃ তোমরা আমাদের জন্য একটু থাম, যাতে আমরা তোমাদের জ্যোতির কিছু গ্রহণ করতে পারি। বলা হবেঃ তোমরা তোমাদের পিছনে ফিরে যাও এবং আলোর সন্ধান কর। অতঃপর উভয়ের মাঝে স্থাপিত হবে একটি প্রাচীর যাতে একটি দরযা থাকবে, ওর অভ্যন্তরে থাকবে রাহমাত এবং বহির্ভাগে থাকবে শাস্তি।

-মুজিবুর রহমান

On the [same] Day the hypocrite men and hypocrite women will say to those who believed, "Wait for us that we may acquire some of your light." It will be said, "Go back behind you and seek light." And a wall will be placed between them with a door, its interior containing mercy, but on the outside of it is torment.

-Sahih International

১৩. সেদিন মুনাফিক পুরুষ ও মুনাফিক নারীরা যারা ঈমান এনেছে তাদেরকে বলবে, ‘তোমরা আমাদের জন্য একটু থাম, যাতে আমরা তোমাদের নূরের কিছু গ্ৰহণ করতে পারি। বলা হবে, তোমরা তোমাদের পিছনে ফিরে যাও ও নূরের সন্ধান কর। তারপর উভয়ের মাঝামাঝি স্থাপিত হবে একটি প্রাচীর যাতে একটি দরজা থাকবে, যার ভিতরে থাকবে রহমত এবং বাইরে থাকবে শাস্তি।(১)

(১) অর্থাৎ সেদিন স্মরণীয়, যেদিন আপনি মুমিন পুরুষ ও মুমিন নারীদেরকে দেখবেন যে, তাদের নূর তাদের অগ্রে ও ডানদিকে ছুটোছুটি করবে। ‘সেদিন’ বলে কেয়ামতের দিন বোঝানো হয়েছে। নূর দেয়ার ব্যাপারটি পুলসিরাতে চলার কিছু পূর্বে ঘটবে। এ আয়াতের একটি তাফসীর আবু উমামা বাহেলী রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু থেকে বর্ণিত হয়েছে। তিনি একদিন দামেশকে এক জানাযায় শরীক হন। জানাযা শেষে উপস্থিত লোকদেরকে মৃত্যু ও আখেরাত স্মরণ করিয়ে দেয়ার জন্যে তিনি মৃত্যু, কবর ও হাশরের কিছু অবস্থা বর্ণনা করেন। নিম্নে তার বক্তব্যের কিছু অংশ পেশ করা হলঃ

“অতঃপর তোমরা কবর থেকে হাশরের ময়দানে স্থানান্তরিত হবে। হাশরের বিভিন্ন মনযিল ও স্থান অতিক্রম করতে হবে। এক মনযিলে আল্লাহ তা'আলার নির্দেশে কিছু মুখমণ্ডলকে সাদা ও উজ্জ্বল করে দেয়া হবে এবং কিছু মুখমণ্ডলকে গাঢ় কৃষ্ণবৰ্ণ করে দেয়া হবে। অপর এক মনাযিলে সমবেত সব মুমিন ও কাফেরকে গভীর অন্ধকার আচ্ছন্ন করে ফেলবে। কিছুই দৃষ্টিগোচর হবে না। এরপর নূর বণ্টন করা হবে। প্রত্যেক মুমিনকে নূর দেয়া হবে। মুনাফিক ও কাফেরকে নূর ব্যতীত অন্ধকারেই রেখে দেয়া হবে। আর এ উদাহরণই আল্লাহ তাঁর কুরআনে পেশ করেছেন। তিনি বলেছেন, “অথবা তাদের কাজ গভীর সাগরের তলের অন্ধকারের মত, যাকে আচ্ছন্ন করে তরঙ্গের উপর তরঙ্গ, যার ঊর্ধ্বে মেঘপুঞ্জ, অন্ধকারপুঞ্জ স্তরের উপর স্তর, এমনকি সে হাত বের করলে তা আদৌ দেখতে পাবে না। আল্লাহ যাকে নূর দান করেন না তার জন্য কোন নূরই নেই।” [সূরা আন-নূর: ৪০]

অত:পর যেভাবে অন্ধ ব্যক্তি চক্ষুষ্মান ব্যক্তির চোখ দ্বারা দেখতে পায় না তেমনি কাফের ও মুনাফিক ঈমানদারের নুর দ্বারা আলোকিত হতে পারবে না। মুনাফিকরা ঈমানদারদের বলবে, “তোমরা আমাদের জন্য একটু থাম, যাতে আমরা তোমাদের নূরের কিছু গ্ৰহণ করতে পারি।” এভাবে আল্লাহ্ মুনাফিকদেরকে ধোঁকাগ্ৰস্থ করবেন। যেমন আল্লাহ বলেছেন, “তারা আল্লাহকে ধোঁকা দেয় আর আল্লাহ্ তাদেরকে ধোঁকা দিবেন।” [সূরা আন নিসা: ১৪২] তারপর তারা যেখানে নূর বন্টন হয়েছিল সেখানে ফিরে যাবে, কিন্তু উভয়ের মাঝামাঝি স্থাপিত হবে একটি প্রাচীর যাতে একটি দরজা থাকবে, ওটার ভিতরে থাকবে রহমত এবং বাইরে থাকবে শাস্তি। এভাবেই মুনাফিক ধোঁকাগ্ৰস্ত হতে থাকবে। আর মুমিনদের মাঝে নূর বন্টিত হয়ে যাবে। [ইবনে কাসীর]

আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত আছে, প্রত্যেক মুমিনকে তার আমল পরিমাণে নূর দেয়া হবে। ফলে কারও নূর পর্বতসম, কারও খর্জুর বৃক্ষসম এবং কারও মানবদেহসম হবে। সর্বাপেক্ষা কম নূর সেই ব্যক্তির হবে, যার কেবল বৃদ্ধাঙ্গুলিতে নূর থাকবে; তাও আবার কখনও জ্বলে উঠবে এবং কখনও নিভে যাবে। [ইবনে কাসীর]

তাফসীরে জাকারিয়া

(১৩) সেদিন মুনাফিক (কপট) পুরুষ ও মুনাফিক নারী বিশ্বাসীদেরকে বলবে, ‘তোমরা আমাদের জন্য একটু থাম, যাতে আমরা তোমাদের আলো কিছু গ্রহণ করতে পারি।’[1] বলা হবে, ‘তোমরা তোমাদের পিছনে ফিরে যাও[2] ও আলোর সন্ধান কর।’ অতঃপর উভয়ের মাঝামাঝি[3] স্থাপিত হবে একটি প্রাচীর যাতে একটি দরজা থাকবে, ওর অভ্যন্তরে থাকবে করুণা[4] এবং বহির্ভাগে থাকবে শাস্তি। [5]

[1] মুনাফিকরা কিছু দূর পর্যন্ত ঈমানদারদের সাথে তাদের আলোতে চলবে। অতঃপর মহান আল্লাহ মুনাফিকদের জন্য তাদের পথ অন্ধকারাচ্ছন্ন করে দেবেন। তখন তারা মু’মিনদেরকে এ কথা বলবে।

[2] এর অর্থ হল, দুনিয়াতে গিয়ে এই ধরনের ঈমান ও সৎকর্মের পুঁজি নিয়ে এসো, যেমন আমরা নিয়ে এসেছি। অথবা বিদ্রূপের ছলে ঈমানদাররা বলবে যে, পিছনে যেখান থেকে আমরা এই জ্যোতি নিয়ে এসেছি, সেখানে গিয়ে তোমরাও তার খোঁজ কর।

[3] অর্থাৎ, মু’মিন ও মুনাফিকদের মাঝামাঝি।

[4] অর্থাৎ, জান্নাত; যেখানে ঈমানদারগণ প্রবেশ করবেন।

[5] অর্থাৎ, জাহান্নাম থাকবে।

তাফসীরে আহসানুল বায়ান
শেয়ার লিঙ্ক কপি হয়েছে!

৫৭ : ১৪

 

یُنَادُوۡنَهُمۡ اَلَمۡ نَكُنۡ مَّعَكُمۡ ؕ قَالُوۡا بَلٰی وَ لٰكِنَّكُمۡ فَتَنۡتُمۡ اَنۡفُسَكُمۡ وَ تَرَبَّصۡتُمۡ وَ ارۡتَبۡتُمۡ وَ غَرَّتۡكُمُ الۡاَمَانِیُّ حَتّٰی جَآءَ اَمۡرُ اللّٰهِ وَ غَرَّكُمۡ بِاللّٰهِ الۡغَرُوۡرُ ﴿۱۴﴾ 

ینادونهم الم نكن معكم قالوا بلی و لكنكم فتنتم انفسكم و تربصتم و ارتبتم و غرتكم الامانی حتی جآء امر الله و غركم بالله الغرور ﴿۱۴﴾
মুনাফিকরা মুমিনদেরকে ডেকে বলবে, ‘আমরা কি তোমাদের সাথে ছিলাম না? তারা বলবে ‘হ্যাঁ, কিন্তু তোমরা নিজেরাই নিজদেরকে বিপদগ্রস্ত করেছ। আর তোমরা অপেক্ষা করেছিলে* এবং সন্দেহ পোষণ করেছিলে এবং আকাঙ্ক্ষা তোমাদেরকে প্রতারিত করেছিল, অবশেষে আল্লাহর নির্দেশ এসে গেল। আর মহা প্রতারক** তোমাদেরকে আল্লাহ সম্পর্কে প্রতারিত করেছিল।

-আল-বায়ান

তারা মু’মিনদেরকে ডেকে বলবে- ‘আমরা কি তোমাদের সঙ্গে ছিলাম না?’ তারা উত্তর দিবে, ‘হাঁ, কিন্তু তোমরা নিজেরাই নিজেদেরকে বিপদে ফেলে দিয়েছ, তোমরা অপেক্ষা করেছিলে (আমাদের ধ্বংসের জন্য), তোমরা সন্দেহে পতিত ছিলে, আর মিথ্যে আশা আকাঙ্ক্ষা তোমাদেরকে প্রতারিত করেছিল। শেষ পর্যন্ত আল্লাহর হুকুম এসে গেল, আর বড় প্রতারক (শাইত্বন) তোমাদেরকে আল্লাহর ব্যাপারে প্রতারিত করল।

-তাইসিরুল

মুনাফিকরা মু’মিনদেরকে ডেকে জিজ্ঞেস করবেঃ আমরা কি তোমাদের সঙ্গে ছিলামনা? তারা বলবেঃ হ্যাঁ, কিন্তু তোমরা নিজেরাই নিজেদেরকে বিপদগ্রস্ত করেছ; তোমরা প্রতীক্ষা করেছিলে, সন্দেহ পোষণ করেছিলে এবং অলীক আকাংখা তোমাদেরকে মোহাচ্ছন্ন করে রেখেছিল আল্লাহর হুকুম আসা পর্যন্ত, আর মহা প্রতারক তোমাদেরকে প্রতারিত করেছিল আল্লাহ সম্পর্কে।

-মুজিবুর রহমান

The hypocrites will call to the believers, "Were we not with you?" They will say, "Yes, but you afflicted yourselves and awaited [misfortune for us] and doubted, and wishful thinking deluded you until there came the command of Allah. And the Deceiver deceived you concerning Allah.

-Sahih International

* আমাদের অমঙ্গলের।
** শয়তান।

১৪. মুনাফিকরা মুমিনদেরকে ডেকে জিজ্ঞেস করবে, আমরা কি তোমাদের সঙ্গে ছিলাম না? তারা বলবে, হ্যাঁ, কিন্তু তোমরা নিজেরাই নিজেদেরকে বিপদগ্ৰস্ত করেছ। আর তোমরা প্ৰতীক্ষা করেছিলে, সন্দেহ পোষণ করেছিলে এবং অলীক আকাংখা তোমাদেরকে মোহাচ্ছন্ন করে রেখেছিল, অবশেষে আল্লাহর হুকুম আসল।(১) আর মহাপ্ৰতারক(২) তোমাদেরকে প্ৰতারিত করেছিল আল্লাহ সম্পর্কে।

(১) এর দুটি অর্থ হতে পারে। একটি হচ্ছে, সেটিই তোমাদের জন্য উপযুক্ত জায়গা। আরেকটি অর্থ হচ্ছে, তোমরা তো আল্লাহকে তোমাদের অভিভাবক বানাওনি যে, তিনি তোমাদের তত্ত্বাবধান করবেন। এখন জাহান্নাম তোমাদের অভিভাবক। সে-ই তোমাদের যথোপযুক্ত তত্ত্বাবধান করবে। [কুরতুবী; ফাতহুল কাদীর]

(২) অর্থাৎ শয়তান। [কুরতুবী; ফাতহুল কাদীর]

তাফসীরে জাকারিয়া

(১৪) মুনাফিকরা বিশ্বাসীদেরকে ডেকে জিজ্ঞাসা করবে, ‘আমরা কি (দুনিয়ায়) তোমাদের সঙ্গে ছিলাম না?’[1] তারা বলবে, ‘অবশ্যই, কিন্তু তোমরা নিজেরাই নিজেদেরকে বিপদগ্রস্ত করেছ,[2] তোমরা প্রতীক্ষা করেছিলে,[3] সন্দেহ পোষণ করেছিলে[4] এবং আল্লাহর হুকুম (মৃত্যু) আসা[5] পর্যন্ত অলীক আশা তোমাদেরকে মোহাচ্ছন্ন করে রেখেছিল;[6] আর আল্লাহ সম্পর্কে মহাপ্রতারক (শয়তান) তোমাদেরকে প্রতারিত করেছিল। [7]

[1] অর্থাৎ, প্রাচীর খাড়া হয়ে যাওয়ার পর মুনাফিকরা মু’মিনদেরকে বলবে, ‘দুনিয়ায় কি আমরা তোমাদের সাথে নামায পড়তাম না এবং জিহাদ ইত্যাদিতে অংশ গ্রহণ করতাম না?’

[2] তোমরা তোমাদের অন্তরে কুফরী ও মুনাফিক্বী গুপ্ত রেখেছিলে।

[3] যে, মুসলিমরা কোন আপদ-বিপদের সম্মুখীন হোক।

[4] দ্বীনের ব্যাপারসমূহে। তাই তোমরা না কুরআনকে মেনেছ, আর না দলীলাদি ও মু’জিযাকে।

[5] অর্থাৎ, তোমাদের মৃত্যু আসা পর্যন্ত। অথবা শেষ পর্যন্ত মুসলিমরাই জয়ী থাকল এবং তোমাদের আশার বাসা ভেঙ্গে চূর্ণ হয়ে গেল।

[6] যাতে শয়তান তোমাদেরকে মোহাচ্ছন্ন করে রেখেছিল।

[7] অর্থাৎ, আল্লাহর সহিষ্ণুতা ও তাঁর অবকাশদানের নীতির ফলে শয়তান তোমাদেরকে প্রতারণায় ফেলে রেখেছিল।

মন্তব্য করুন