Loading..

ব্লগ

রিসেট

২১ নভেম্বর, ২০২৫ ০৪:৩৬ অপরাহ্ণ

কোরআনে দুই পূর্ব’ ও ‘দুই পশ্চিম’-এর রহস্য এবং আধুনিক বিজ্ঞান



​আমরা সচরাচর জানি পূর্ব দিক একটি এবং পশ্চিম দিক একটি। কিন্তু পবিত্র কোরআনের সূরা আর-রাহমানে আল্লাহ তায়ালা ‘দুই পূর্ব’ এবং ‘দুই পশ্চিম’-এর কথা উল্লেখ করেছেন। ১৪০০ বছর আগে নাযিল হওয়া এই আয়াতে কি কোনো বৈজ্ঞানিক ইঙ্গিত লুকিয়ে আছে? আল্লাহ তায়ালা সেখানে নিজেকে ‘দুই পূর্ব’ এবং ‘দুই পশ্চিম’-এর রব বলে ঘোষণা দিচ্ছেন।

​১৪০০ বছর আগের আয়াতে বর্ণিত ‘দুই পূর্ব ও দুই পশ্চিম’-এর রহস্য এবং এর পেছনের বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যাটি চলুন একটু তলিয়ে দেখি।


​📖 মহাগ্রন্থ আল-কুরআনের সেই আয়াত:

আল্লাহ তায়ালা সূরা আর-রাহমানের ১৭ নম্বর আয়াতে বলেন:

​رَبُّ الْمَشْرِقَيْنِ وَرَبُّ الْمَغْرِبَيْنِ

​অর্থ: “তিনি দুই উদয়াচলের (পূর্ব) রব এবং দুই অস্তাচলের (পশ্চিম) রব।”


​🔍 আরবি ব্যাকরণ ও শাব্দিক বিশ্লেষণ:

এই আয়াতের সৌন্দর্য বুঝতে হলে আমাদের একটু আরবি ডিকশনারি বা লুগাতের সাহায্য নিতে হবে।

​১. আল-মাশরিকাইনি (الْمَشْرِقَيْنِ): শব্দটির মূলধাতু বা Root হলো (ش ر ق) - যার অর্থ আলোকিত হওয়া। আর ব্যাকরণগতভাবে এটি ‘ইসমে জরাফ’ (স্থানবাচক বিশেষ্য)। অর্থাৎ শব্দটি দিয়ে সাধারণ ‘পূর্ব দিক’ বোঝায় না, বরং স্পেসিফিক ‘সূর্য ওঠার স্থান’ বোঝায়। আর এখানে ‘المشرقون’ (একবচন) ব্যবহার না করে ‘الْمَشْرِقَيْنِ’ (দ্বিবচন/তাসনিয়া) ব্যবহার করা হয়েছে। মানে সুনির্দিষ্ট দুটি উদয়স্থল। 

(সূত্র: লিসানুল আরব, ভলিউম ১০, পৃষ্ঠা ১৫৫)

​২. আল-মাগরিবাইনি (الْمَغْرِبَيْنِ): একইভাবে এর মূলধাতু (غ ر ب) - অর্থ অদৃশ্য হওয়া বা ডুবে যাওয়া। এখানেও দ্বিবচন ব্যবহার করে সুনির্দিষ্ট ‘দুটি অস্ত যাওয়ার স্থান’ বোঝানো হয়েছে। 

(সূত্র: আল-মুজাম আল-ওয়াসিত)

​📚 তাফসির কি বলে?

এই আয়াতের ব্যাখ্যায় ইমাম ইবনে কাসির (রহ.) চমৎকার এবং যৌক্তিক সমাধান দিয়েছেন। তিনি বলেন, এর দ্বারা মূলত গ্রীষ্মকালের উদয়স্থল ও শীতকালের উদয়স্থল এবং একইভাবে দুই ঋতুর দুই অস্তস্থলকে বোঝানো হয়েছে। (তাফসির ইবনে কাসির)

✅আধুনিক বিজ্ঞানের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণতা:

আজকের আধুনিক জ্যোতির্বিজ্ঞান (Astronomy) আমাদের জানাচ্ছে, পৃথিবী তার অক্ষের ওপর ২৩.৫ ডিগ্রি হেলে ঘোরার কারণে সারা বছর সূর্য একই জায়গা দিয়ে ওঠে না।

​আমরা যদি সারা বছরের সূর্যের গতিপথ লক্ষ্য করি, দেখব:

​২১ জুন (গ্রীষ্মকালীন অয়নান্ত): সূর্য দিগন্তের একদম উত্তর-পূর্ব কোণ দিয়ে ওঠে (এটি ১ম পূর্ব) এবং উত্তর-পশ্চিমে ডোবে।

​২১ ডিসেম্বর (শীতকালীন অয়নান্ত): সূর্য দিগন্তের একদম দক্ষিণ-পূর্ব কোণ দিয়ে ওঠে (এটি ২য় পূর্ব) এবং দক্ষিণ-পশ্চিমে ডোবে।

​এই দুই চরম সীমার (Extreme Points) মাঝখান দিয়েই সূর্য সারা বছর আসা-যাওয়া করে। আজ থেকে ১৪০০ বছর আগে যখন কোনো কম্পাস, জিপিএস বা টেলিস্কোপ ছিল না, তখন কোরআন মাজিদ সূর্যের এই উদয়-অস্তের সুনির্দিষ্ট ‘প্রান্তসীমা’ বা লিমিটের কথা কতটা নিখুঁতভাবে তুলে ধরেছে!

​আল্লাহ তায়ালা মূলত এই আয়াতে মহাবিশ্বের ওপর তাঁর পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ এবং এই নিখুঁত সিস্টেমের দিকেই ইঙ্গিত করেছেন। বিজ্ঞান আজ যা কষ্ট করে আবিষ্কার করছে, ওহীর জ্ঞানে তা ১৪০০ বছর আগেই জানিয়ে দেওয়া হয়েছে।

মন্তব্য করুন

ব্লগ