Loading..

ব্লগ

রিসেট

২৪ নভেম্বর, ২০২৫ ০৮:০৫ পূর্বাহ্ণ

স্থিতিস্থাপকতা (Elasticity): লোহা কেন রাবারের চেয়ে বেশি স্থিতিস্থাপক?


আমরা অনেকেই ভাবি রাবার বুঝি সবচেয়ে স্থিতিস্থাপক। কিন্তু পদার্থবিজ্ঞানের ভাষায়, একটি লোহার দণ্ড রাবারের চেয়ে অনেক বেশি স্থিতিস্থাপক! 


চলো, আজ 'স্থিতিস্থাপকতা' (Elasticity) বিষয়টি সহজভাবে বুঝি।

স্থিতিস্থাপকতা হলো পদার্থের এমন একটি ধর্ম, যার কারণে কোনো বস্তুর ওপর বল প্রয়োগ করে তার আকার পরিবর্তন করার পর, বলটি সরিয়ে নিলে বস্তুটি আবার তার আগের আকার বা অবস্থায় ফিরে আসে।


লোহা কেন বেশি স্থিতিস্থাপক? সহজে টেনে লম্বা করা গেলেই তা বেশি স্থিতিস্থাপক হয় না। মূল ব্যাপারটি হলো—যে বস্তু তার আকার পরিবর্তনে যত বেশি বাধা দেয় এবং বাধা সরানোর পর আগের অবস্থায় ফিরতে পারে, সে তত বেশি স্থিতিস্থাপক। লোহা তার আকার পরিবর্তনে রাবারের চেয়ে হাজার গুণ বেশি বাধা দেয়, তাই লোহা অনেক বেশি স্থিতিস্থাপক।


কয়েকটি জরুরি ধারণা:

পীড়ন (Stress): যখন বস্তুকে বিকৃত (যেমন—টানা বা বাঁকানো) করার চেষ্টা করা হয়, তখন বস্তুর ভেতরের অণুগুলো এই পরিবর্তনের বিরুদ্ধে যে অভ্যন্তরীণ বাধা সৃষ্টি করে, তাকেই 'পীড়ন' বলে।

বিকৃতি (Strain): বাইরে থেকে বল প্রয়োগের ফলে বস্তুর আকারের যে আপেক্ষিক পরিবর্তন (যেমন—কতটা লম্বা হলো) ঘটে, তাকে 'বিকৃতি' বলে।


স্থিতিস্থাপক সীমা (Elastic Limit): এটি হলো পীড়নের সেই সর্বোচ্চ সীমা, যে পর্যন্ত বল প্রয়োগ করলে বস্তুটি তার আগের অবস্থায় পুরোপুরি ফিরে আসে।


নমনীয়তা (Plasticity): যদি বল প্রয়োগে এই 'স্থিতিস্থাপক সীমা' পার হয়ে যায়, তবে বল সরানোর পরেও বস্তুটি আর আগের অবস্থায় ফেরে না, বরং স্থায়ীভাবে বেঁকে বা বিকৃত হয়ে যায়।

অসহ পীড়ন (Unbearable Stress): যখন পীড়নের মান এত বেড়ে যায় যে বস্তুটি একসময় ছিঁড়ে বা ভেঙে যায়।


এর পেছনের মূল বিজ্ঞান হলো পদার্থের অণুগুলোর মধ্যকার আন্তঃআণবিক বল, যা সর্বদা বস্তুকে তার স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরিয়ে আনতে চায়।

মন্তব্য করুন