সহকারী শিক্ষক
২৬ নভেম্বর, ২০২৫ ১০:৩৯ পূর্বাহ্ণ
সহকারী শিক্ষক
২৭৫ বছর আগে ঠিক আজকের দিনে জন্মগ্রহণ করেছিলেন পৃথিবীর ইতিহাসের অন্যতম বীর ফতেহ আলী সাহাব টিপু বা টিপু সুলতান। যিনি বলেছিলেন 'সিংহের একদিনের জীবন শিয়ালের শত বছরের জীবনের চেয়ে উত্তম।’
ইংরেজদের সাথে যে শেষ যুদ্ধ হয়েছিল, টিপু সুলতান চাইলে যুদ্ধক্ষেত্র থেকে পালিয়ে যেতে পারতেন। কিন্তু তিনি তার সেনাবাহিনীর সাহস গড়ে তুলতে যুদ্ধে যোগ দিয়েছিলেন। একপর্যায়ে আহত হন টিপু। তিনি দুর্গের ফটকের দিকে এগোতে গেলেই একটি বুলেট তার বাম বুক ফুঁড়ে বেরিয়ে যায়। তার ঘোড়াও মারা পড়ে।
তার সৈন্যরা তাকে যুদ্ধক্ষেত্র থেকে পালকি করে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেছিল, কিন্তু সেটি ব্যর্থ হয়। ব্রিটিশরা তাকে আত্মসমর্পণ করতে বললেও তিনি ব্রিটিশদের হাতে বন্দি না হয়ে মৃত্যুর পথ বেছে নেন। এই যুদ্ধে সাধারণ সৈন্যদের মতো পায়ে হেঁটে বেশিরভাগ সময় যুদ্ধ করেছেন তিনি। কিন্তু যখন তার সৈন্যদের সাহস ভাঙতে শুরু করে, তখন তিনি ঘোড়ায় চড়ে তাদের সাহস বাড়ানোর চেষ্টা শুরু করেন। তখন কিছু ব্রিটিশ সৈন্য দুর্গের ভেতরের গেট দিয়ে প্রবেশ করে এবং তাদের একজন টিপুর তলোয়ার ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করে।
মৃত্যুর আগ মুহূর্ত পর্যন্ত তলোয়ার চালিয়ে গিয়েছেন টিপু সুলতান।
বিভিন্ন বর্ণনায় পাওয়া গেছে, মৃত্যুর আগ মুহূর্ত পর্যন্ত তলোয়ার চালিয়ে গিয়েছেন টিপু সুলতান। ততক্ষণে প্রচুর রক্তক্ষরণের কারণে টিপুর প্রায় অজ্ঞান হওয়ার অবস্থা। তারপরও তিনি তার তরবারি দিয়ে সেই সৈনিককে আক্রমণ করেন। তারপর একই তলোয়ার দিয়ে আরেক ব্রিটিশ সৈন্যের মাথায় আঘাত করেন। এক পর্যায়ে টিপু সুলতান মারা যান। মৃত্যুর পরও টিপু সুলতানের চোখ ছিল খোলা। সারারাত তার মরদেহ দরবার হলে রাখা হয়। পরদিন সন্ধ্যায় টিপুর ব্যক্তিগত কর্মচারীরা তার মরদেহ রাজপ্রাসাদ থেকে বের করে আনে এবং জানাজা ও দাফন সম্পন্ন করেন।
অষ্টাদশ শতাব্দীর শেষ দিকে ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের কাছে টিপুর নাম ছিলো এক বিভীষিকা। ইউরোপে তখন নেপোলিয়নের জয়জয়কার। ব্রিটিশ সাম্রাজ্যবাদীদের ভয় ছিলো, টিপু সুলতান নেপোলিয়নের সঙ্গে হাত মিলিয়ে ভারতকে ব্রিটিশমুক্ত করবেন। আশঙ্কা একেবারে অমূলকও নয়। অটোমান এবং ফরাসি সাম্রাজ্যের প্রধানদের কাছে চিঠি পাঠিয়ে সাহায্য চেয়েছিলেনও টিপু সুলতান।
১৭৯৯ সালে শ্রীরঙ্গপত্তমে টিপুর মৃত্যু ছিলো তাদের কাছে হাঁফ ছেড়ে বাঁচার মতো। ভারতের মাটিতে তো বটেই, টিপুর মৃত্যুর খবর পৌঁছানোর পর ব্রিটেনের মাটিতেও উৎসবের ঢেউ লাগে। টিপু সুলতানের শেষ যুদ্ধকে কেন্দ্র করে ইউরোপীয় নামকরা চিত্রকরদের কাজগুলো দেখলে তা সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যায়। টিপুর মৃত্যুর পর তাঁর রাজধানী শ্রীরঙ্গপত্তমে লুটতরাজের এক মহোৎসব শুরু হয়।
এআইএমআইএম নেতৃত্ব, কংগ্রেস এবং সিপিএম টিপুর জন্মবার্ষিকী পালন করে থাকে। তাঁকে দেশের 'প্রথম স্বাধীনতা সংগ্রামী', 'দেশের নায়কদের অন্যতম' আখ্যা দেয়া হয়। বিজেপি এবং অন্যান্য ডানপন্থী সংগঠনগুলো মহীশূরের ১৭ শতকের শাসককে 'মৌলবাদী' এবং 'হিন্দু ও কন্নড় বিরোধী' আখ্যা দিয়েছে। বিজেপি ও হিন্দুত্ববাদী সংগঠনের কতিপয় হিংসুক নেতা ছাড়া গোটা ভারতবর্ষ এখনও টিপু সুলতানকে ইংরেজ বিরোধী শ্রেষ্ঠ বীর বলেই স্বীকার করেন।
২০০ বছরেরও বেশি সময় আগে মারা যাওয়া এই বীরকে নিয়ে এ পর্যন্ত অন্তত ১০ হাজার টুইট হয়েছে।
জন্মদিনে গভীর শ্রদ্ধা।
১
১ মন্তব্য