গ্যালভানিক কোষ হলো এমন একটি তড়িৎ-রাসায়নিক যন্ত্র যা স্বতঃস্ফূর্ত রাসায়নিক বিক্রিয়ার মাধ্যমে রাসায়নিক শক্তিকে বিদ্যুৎ শক্তিতে রূপান্তরিত করে। এর গঠন হলো দুটি অর্ধ-কোষ, যেখানে প্রতিটি অর্ধ-কোষে একটি ধাতব ইলেকট্রোড একটি তড়িৎ-বিশ্লেষ্য দ্রবণে ডোবানো থাকে এবং একটি লবণ সেতু দিয়ে সংযুক্ত থাকে। কার্যপ্রণালীতে, অ্যানোডে জারণ ঘটে এবং ক্যাথোডে বিজারণ ঘটে, যা বাহ্যিক বর্তনীতে ইলেকট্রনের প্রবাহ তৈরি করে এবং বিদ্যুৎ উৎপন্ন করে।
গঠন (Construction)
অর্ধ-কোষ (Half-cells):
দুটি পৃথক অর্ধ-কোষ থাকে, যেখানে প্রতিটি একটি নির্দিষ্ট ধাতব ইলেকট্রোডকে (যেমন, জিঙ্ক বা কপার) তার নিজের আয়নের দ্রবণে ডুবিয়ে রাখা হয় (যেমন, জিঙ্ক সালফেট বা কপার সালফেট)।
ইলেকট্রোড (Electrodes):
একটি অর্ধ-কোষে অ্যানোড (ধনাত্মক আধানযুক্ত) এবং অন্যটিতে ক্যাথোড (ঋণাত্মক আধানযুক্ত) থাকে।
অ্যানোড: যে অর্ধ-কোষে জারণ ঘটে, তাকে অ্যানোড বলে। এটি একটি ঋণাত্মক ইলেকট্রোড।
ক্যাথোড: যে অর্ধ-কোষে বিজারণ ঘটে, তাকে ক্যাথোড বলে। এটি একটি ধনাত্মক ইলেকট্রোড।
লবণ সেতু (Salt Bridge):
একটি U-আকৃতির কাঁচের নল, যা একটি নিষ্ক্রিয় ইলেক্ট্রোলাইট (যেমন,
) এবং আগার-আগারের ঘন দ্রবণ দিয়ে পূর্ণ থাকে। এটি দুটি অর্ধ-কোষের মধ্যে আয়নের আদান-প্রদান সহজ করে এবং বর্তনী সম্পন্ন করে।
বাহ্যিক বর্তনী (External Circuit):
উভয় ইলেকট্রোডকে একটি তার দিয়ে সংযুক্ত করা হয়, যেখানে একটি ভোল্টমিটার এবং একটি সুইচ থাকে।
১
১ মন্তব্য