প্রভাষক
০১ ডিসেম্বর, ২০২৫ ০৩:৪০ অপরাহ্ণ
বাংলাদেশের শিক্ষাক্রমের ধারাবাহিক ইতিহাস।।
বাংলাদেশের শিক্ষাক্রমের ধারাবাহিক ইতিহাস ১৯৪৭ সালে ব্রিটিশ শাসনের অবসানের পর থেকে শুরু হয় এবং বিভিন্ন সময়ে শিক্ষা কমিশন ও কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতে বিবর্তিত হয়েছে।
এই বিবর্তনের প্রধান ধাপগুলো নিচে উল্লেখ করা হলো:
১৯৪৭-১৯৭১: পাকিস্তান আমল
মৌলিক শিক্ষা রিপোর্ট (১৯৫২): এই সময়ে ড. ইত্তিরাত হোসাইন জুবেরীর নেতৃত্বে গঠিত কমিটি শিক্ষা ব্যবস্থার সংস্কারের জন্য কিছু সুপারিশ করেছিল।
শরীফ শিক্ষা কমিশন (১৯৫৯): এই কমিশনটি গঠিত হয়েছিল এবং এটি একটি বিস্তৃত শিক্ষা পরিকল্পনা পেশ করেছিল, যদিও তা পুরোপুরি বাস্তবায়িত হয়নি। এই কমিশনের রিপোর্টে ধর্মীয় শিক্ষার পাশাপাশি বিজ্ঞান ও কারিগরি শিক্ষার ওপর জোর দেওয়া হয়।
১৯৭১ পরবর্তী: স্বাধীন বাংলাদেশ
কুদরাত-এ-খুদা শিক্ষা কমিশন (১৯৭২-৭৪): স্বাধীনতার পরপরই জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ড. মুহাম্মদ কুদরাত-এ-খুদার নেতৃত্বে একটি শিক্ষা কমিশন গঠন করেন। এই কমিশন ১৯৭৪ সালে তাদের রিপোর্ট পেশ করে, যেখানে বিজ্ঞানভিত্তিক, ধর্মনিরপেক্ষ এবং গণমুখী শিক্ষার সুপারিশ করা হয়। এটি ছিল স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম পূর্ণাঙ্গ শিক্ষা পরিকল্পনা।
মজিদ খান শিক্ষা কমিশন (১৯৮৩): সামরিক সরকারের সময় এই কমিশন গঠিত হয় এবং একটি নতুন শিক্ষানীতি প্রস্তাব করে, যদিও তা ছাত্র আন্দোলনের মুখে পুরোপুরি আলোর মুখ দেখেনি।
জাতীয় শিক্ষানীতি (১৯৯৭): অধ্যাপক শামসুল হক-এর নেতৃত্বে একটি কমিশন গঠিত হয় এবং তারা একটি শিক্ষানীতি পেশ করে।
জাতীয় শিক্ষানীতি (২০০৯): অধ্যাপক কবীর চৌধুরী-এর নেতৃত্বে আরেকটি কমিশন গঠিত হয়।
জাতীয় শিক্ষানীতি (২০১০): এটি বাংলাদেশের জন্য একটি যুগান্তকারী পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হয়। অধ্যাপক কবীর চৌধুরীর কমিশনের সুপারিশের ভিত্তিতে প্রণীত এই নীতিতে প্রাক-প্রাথমিক থেকে উচ্চশিক্ষা পর্যন্ত সকল স্তরের শিক্ষার মানোন্নয়ন এবং আধুনিকীকরণের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।
জাতীয় শিক্ষাক্রম রূপরেখা (২০২১): সর্বশেষ এই রূপরেখাটি আধুনিক বিশ্বের চাহিদা এবং চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় প্রণয়ন করা হয়েছে। এর মূল লক্ষ্য হলো মুখস্থনির্ভর শিক্ষা থেকে বেরিয়ে এসে শিক্ষার্থীদের মধ্যে দক্ষতা, সমস্যা সমাধানের ক্ষমতা এবং জীবনমুখী জ্ঞান তৈরি করা। এই রূপরেখা অনুযায়ী বর্তমানে ধাপে ধাপে নতুন শিক্ষাক্রম বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।
৫
৫ মন্তব্য