Loading..

ব্লগ

রিসেট

০২ ডিসেম্বর, ২০২৫ ১২:২০ অপরাহ্ণ

ইলেক্ট্রন কি লাটিমের মত ঘুরে?

ইলেকট্রনের মতো অতিপারমাণবিক কণার কি লাটিমের মতো ঘোরা খুবই জরুরি?

জরুরি হতো, যদি রাদারফোর্ড পরমাণু মডেল ঠিকঠাক হতো। রাদারফোর্ডের মডেলে ইলেকট্রনগুলোকে ঠিকমতো কক্ষপথে থাকতে হয়, তাহলে নিউক্লিয়াসকে কেন্দ্র করে এগুলোকে ঘুরতে হতো। ইলেকট্রন আর নিউক্লিয়াসের মধ্যে পারস্পরিক আকষ৴ণ বজায় রাখাটাই তখন আসল উদ্দেশ্য। এই ভারসাম্যের ষোলো আনা পূর্ণ করতে ইলেকট্রনের আরেকটি ঘূর্ণনও জরুরি। সেটি নিজ অক্ষের ওপর ঘোরা। ঠিক যেমন পৃথিবী নিজের অক্ষের ওপর ঘোরে। কিংবা একটি লাটিম যেমন এর ভেতরে থাকা পেরেকের ওপর ভর দিয়ে ঘোরে, ইলেকট্রনের ঘূর্ণনটা হতো তেমন।

পৃথিবী আর লাটিম এভাবে ঘুরতে বাধ্য, কারণ এগুলো নিয়ন্ত্রিত হয় মহাকর্ষ বলের প্রভাবে। মহাকর্ষ বল নিউটনের বলবিদ্যার উৎস। যেমন একটি গাড়ির চাকার ঘূর্ণন বেশ কিছু বিষয়ের ওপর নির্ভরশীল, কিন্তু মূল প্রভাবক ওই মহাকর্ষ বল। ঘর্ষণ বল বলুন বা ইঞ্জিন থেকে আসা যান্ত্রিক বল—সবই ওই মহাকর্ষ বলের আলাদা রূপভেদ। আর কে না জানে, নিউটনীয় গতিবিদ্যায় কোনো সিস্টেমের অতীত, বর্তমান ও ভবিষ্যৎ অঙ্ক কষে বলে দেওয়া সম্ভব।

তাই বস্তুর আচরণ ও বৈশিষ্ট্য ইত্যাদি ব্যাখ্যা করা যায় সাধারণ কাণ্ডজ্ঞান দিয়ে। কিন্তু খুদে কণাগুলোর জগৎ, যেখানে চলে না নিউটন-আইনস্টাইনের ক্লাসিক্যাল বলবিদ্যার বাহাদুরি, সেখানে এত সহজে সাধারণ কাণ্ডজ্ঞান দিয়ে বিচার করলে আপনার কাণ্ডজ্ঞান প্রতারিত হবে নিশ্চিত।

তাহলে ইলেকট্রনের যে স্পিন, সেটি কেমন?

এখানেই আসলে ভুলটা রয়ে গেছে।

ইলেকট্রন-কোয়ার্কের মতো কণার ভর আছে, এগুলোকে আমরা গোলকের মতো চিন্তা করি। আসলেই কি এগুলো গোলক কিংবা বলের মতো?

ইলেকট্রন গোলক কিংবা বল কোনোটার মতোই নয়। এগুলো আসলে বিন্দু কণা, কোয়ান্টাম জগতে বিন্দুকণা জ্যামিতির সাধারণ বিন্দুর মতো কিছুটা, তবে বেশির ভাগটা আবার বিন্দুর সঙ্গে মেলেও না। কোয়ান্টাম জগতে সাধারণ কাণ্ডজ্ঞান অচল, তাই চাইলেই আপনি সেই বিন্দুকে নিজের কল্পনাশক্তি দিয়ে বোঝার চেষ্টা করতে পারবেন না পুরোপুরি। ভাসা-ভাসা সেই জ্ঞানটাই ঝালাই করা যেতে পারে।

মন্তব্য করুন