সহকারী শিক্ষক
০৩ ডিসেম্বর, ২০২৫ ০২:০০ অপরাহ্ণ
সহকারী শিক্ষক
পৃথিবীতে অসংখ্য বিচিত্র ছোট বড় প্রাণী বাস করে। এদের মধ্যে রয়েছে নানারকম মিল ও অমিল। এ বৈচিত্র্যময় প্রাণিকূলে রয়েছে আণুবীক্ষণিক প্রাণী অ্যামিবা থেকে শুরু করে বিশাল আকারের তিমি। প্রাণীর বিভিন্নতা নির্ভর করে পরিবেশের বৈচিত্রের উপর। ভিন্ন ভিন্ন পরিবেশ ও বাসস্থানে প্রাণিবৈচিত্র্য ভিন্ন রকম হয়। বিশাল এই প্রাণিজগৎ সম্পর্কে জানা অত্যন্ত কষ্টসাধ্য। সহজে সুশৃঙ্খলভাবে বিশাল প্রাণিজগৎকে জানার জন্য এর বিন্যস্তকরণ প্রয়োজন, আর বিন্যস্ত করার পদ্ধতিকে শ্রেণিবিন্যাস বলে। শ্রেণিবিন্যাস প্রাণিজগৎকে জানার পথ সহজ করে দিয়েছে।
পৃথিবীতে এ রকম বৈচিত্র্যপূর্ণ প্রাণীর সংখ্যা আমাদের সঠিক জানা নেই। আজ পর্যন্ত প্রায় ১৫ লক্ষ প্রজাতির প্রাণী আবিস্কৃত হয়েছে এবং প্রতিনিয়ত এদের সংখ্যা বেড়েই চলেছে। বিপুল সংখ্যক প্রাণীর পঠন ও প্রকৃতি সম্বন্দ্বে জ্ঞান অর্জনের সহজ উপায় হলো শ্রেণিবিন্যাস। প্রাণিদেহে বিদ্যমান বিভিন্ন বৈশিষ্ট্য ও বিভিন্ন প্রাণীর মধ্যে মিল, অমিল ও পরস্পরের মধ্যে যে সম্পর্ক রয়েছে তার উপর ভিত্তি করে শ্রেণিবিন্যাস করা হয়। এদের বৈশিষ্ট্য অনুযায়ী বিভিন্ন স্তর বা ধাপে সাজানো হয়। জীবজগৎকে ধাপে ধাপে বিন্যস্ত করার এই পদ্ধতিকে শ্রেণিবিন্যাস বলে। প্রয়োজনের তাগিদে বর্তমানে জীববিজ্ঞানের একটি স্বতন্ত্র শাখা গড়ে উঠেছে। এর নাম শ্রেণিবিন্যাসবিদ্যা (Taxonomy) |
প্রজাতি হলো শ্রেণিবিন্যাসের সবচেয়ে নিচের ধাপ বা একক। যেমন- মানুষ, কুনোব্যাঙ, কবুতর ইত্যাদি এক একটি প্রজাতি। কোনো প্রাণীর শ্রেণিবিন্যাস করতে হলে সেই প্রাণীকে বৈশিষ্ট্য অনুযায়ী ধাপে ধাপে সাজাতে হয়। এই সকল ধাপের প্রত্যেকটিকে যথাযথভাবে বিন্যস্ত করতে হয়। শ্রেণিবিন্যাসের ইতিহাসে অ্যারিস্টটল, জন রে ও ক্যারোলাস লিনিয়াসের নাম উল্লেখযোগ্য। প্রকৃতিবিজ্ঞানী ক্যারোলাস লিনিয়াসকে শ্রেণিবিন্যাসের জনক বলা হয়। তিনিই সর্বপ্রথম প্রজাতির বৈশিষ্ট্য চিহ্নিত করেন এবং দ্বিপদ বা দুই অংশ বিশিষ্ট নামকরণ প্রথা প্রবর্তন করেন। একটি জীবের বৈজ্ঞানিক নাম দুই অংশ বা পদবিশিষ্ট হয়। এই নামকরণকে দ্বিপদ নামকরণ বা বৈজ্ঞানিক নামকরণ বলে। যেমন- মানুষের বৈজ্ঞানিক নাম - Homo sapiens। বৈজ্ঞানিক নাম ল্যাটিন অথবা ইংরেজি ভাষায় লিখতে হয়।
আধুনিক শ্রেণিবিন্যাসে সকল প্রাণী অ্যানিম্যালিয়া (Animalia) জগতের (kingdom) অন্তর্ভুক্ত। এই শ্রেণিবিন্যাসে পূর্বের প্রোটোজোয়া পর্বটি প্রোটিস্টা (Protista) জগতে একটি আলাদা উপজগৎ (Subkingdom) হিসেবে স্থান পেয়েছে।
অ্যানিম্যালিয়া জগতের প্রাণীদের নয়টি পর্বে ভাগ করা হয়েছে। এই নয়টি পর্বের প্রথম আটটি পর্বের প্রাণীরা অমেরুদণ্ডী এবং শেষ পর্বের প্রাণীরা মেরুদণ্ডী।
স্বভাব ও বাসস্থান: পরিফেরা পর্বের প্রাণীরা সাধারণভাবে স্পঞ্জ নামে পরিচিত। পৃথিবীর সর্বত্রই এদের পাওয়া যার। এদের অধিকাংশ প্রজাতি সামুদ্রিক। তবে কিছু কিছু প্রাণী স্বাদু পানিতে বাস করে। এরা সাধারণত দলবদ্ধ হয়ে বসবাস করে। এদের সাধারণ বৈশিষ্ট্য হল:
এই পর্ব ইতোপূর্বে সিলেন্টারেটা নামে পরিচিত ছিল।
স্বভাব ও বাসস্থান: পৃথিবীর প্রায় সকল অঞ্চলে এই পর্বের প্রাণী দেখা যায়। এদের অধিকাংশ প্রজাতি সামুদ্রিক। তবে অনেক প্রজাতি খাল, বিল, নদী, হ্রদ, ঝরনা ইত্যাদিতে দেখা যায়। এই পর্বের প্রাণীগুলো বিচিত্র বর্ণ ও আকার-আকৃতির হয়। এদের কিছু প্রজাতি এককভাবে আবার কিছু প্রজাতি দলবদ্ধভাবে কলোনি গঠন করে বাস করে। এরা সাধারণত পানিতে ভাসমান কাঠ, পাতা বা অন্য কোনো কিছুর সঙ্গে - দেহকে আটকে রেখে বা মুক্তভাবে সাঁতার কাটে। এদের সাধারণ বৈশিষ্ট্য হল:
হাইড্রা নামকরণের তাৎপর্য: হাইড্রা একটি বহুমস্তক বিশিষ্ট কাল্পনিক দৈত্যের নাম। দৈত্যের মাথা কাটলে তার বদলে দুই বা ততোধিক মাথা গজাত। হাইড্রা ঐ দৈত্যের মত হারানো বা ক্ষতিগ্রস্ত অংশ পুনরায় সৃষ্টি করতে পারে, তাই অনেক সময় বহু মাথাওয়ালা সদস্য আবির্ভূত হয়।
স্বভাব ও বাসস্থান : এই পর্বের প্রাণীদের জীবনযাত্রা বেশ বৈচিত্র্যময়। এই পর্বের বহু প্রজাতি বহিঃপরজীবী বা অন্তঃপরজীবী হিসেবে অন্য জীবদেহের বাইরে বা ভিতরে তবে কিছু প্রজাতি মুক্তজীবী হিসেবে স্বাদু পানিতে আবার কিছু প্রজাতি লবণাক্ত পানিতে বাস করে। এই পর্বের কোনো কোনো প্রাণী ভেজা ও স্যাঁতসেঁতে মাটিতে বাস করে। এদের সাধারণ বৈশিষ্ট্য হল:
অনেকে একে নেমাথেলমিনথেস বলে।
স্বভাব ও বাসস্থান: নেমাটোড পর্বের প্রাণীগুলো সুতাকৃমি বা গোলকৃমি নামে পরিচিত। এই পর্বের অনেক প্রাণী অন্তঃপরজীবী হিসেবে প্রাণীর অন্ত্র ও রক্তে বসবাস করে। এসব পরজীবী বিভিন্ন প্রাণী ও মানবদেহে বাস করে নানারকম ক্ষতি সাধন করে। তবে অনেক প্রাণীই মুক্তজীবী, যারা পানি ও মাটিতে বাস করে। এদের সাধারণ বৈশিষ্ট্য হল:
স্বভাব ও বাসস্থান: পৃথিবীর প্রায় সকল নাতিশীতোষ্ণ ও উষ্ণমণ্ডলীয় অঞ্চলে এই পর্বের প্রাণীদের পাওয়া যায়। এদের বহু প্রজাতি স্বাদু পানিতে এবং কিছু প্রজাতি অগভীর সমুদ্রে বাস করে। এই পর্বের বহু প্রাণী সেঁতসেঁতে মাটিতে বসবাস করে। কিছু প্রজাতি পাথর ও মাটিতে গর্ত খুঁড়ে বসবাস করে। এদের সাধারণ বৈশিষ্ট্য হল:
কেঁচোকে প্রাকৃতিক লাঙ্গল বলা হয় কেন: লাঙ্গলের দ্বারা মাটিকে আলগা করা হয় যাতে মাটির ভিতর বায়ু প্রবেশ করতে পারে। কেঁচো মাটিকে আলগা করে মাটির ভিতর বায়ু প্রবেশের সহায়তা করে বলে একে প্রাকৃতিক লাঙ্গল বলে।
স্বভাব ও বাসস্থান: এই পর্বটি প্রাণিজগতের সবচেয়ে বৃহত্তম পর্ব। এরা পৃথিবীর প্রায় সর্বত্র সকল পরিবেশে বাস করতে সক্ষম। এদের বহু প্রজাতি অন্তঃপরজীবী ও বহিঃপরজীবী হিসেবে বাস করে। বহু প্রাণী স্থলে, স্বাদু পানিতে ও সমুদ্রে বাস করে। এ পর্বের অনেক প্রজাতির প্রাণী ডানার সাহায্যে উড়তে পারে। এদের সাধারণ বৈশিষ্ট্য হল:
জীবন্ত জীবাশ্ম : যে সমস্ত জীব সুদূর অতীতে উত্পত্তি লাভ করেও কোনোরকম পরিবর্তন ছাড়াই এখনও পৃথিবীতে টিকে আছে, অথচ তাদের সমসাময়িক জীবদের অবলুপ্তি ঘটেছে, সেই সকল জীবদের জীবন্ত জীবাশ্ম বলে । ব বাংলাদেশের এমন একটি জীবন্ত জীবাশ্মের নাম হলো: রাজ কাঁকড়া । তাছাড়া Cycas (উদ্ভিদ), প্লাটিপাস ও বাংলাদেশের জীবন্ত জীবাশ্মের উদাহরণ ।
মাকড়সা অমেরুদন্ডী প্রাণী । এটি একটি আর্থ্রোপোডা পর্বের শিকারী কীট বিশেষ। এদের শরীর মাথা ও ধড় দুটি অংশে বিভক্ত, আটটি পা আছে কিন্তু ডানা নেই। মাকড়সার একটি বিশেষ গুণ হল, এরা আঠালো জাল তৈরি করে এবং সেই জালে অন্যান্য কীট-পতঙ্গ ইত্যাদিকে বন্দি করে শিকার করে। অনেক রকম মাকড়সা হয়, কেউ জাল বোনে, কেউ লাফিয়ে শিকার ধরে। সব মাকড়সার একজোড়া বিষগ্রন্থি আছে। মাকড়সা প্রথমে শিকারকে জালবন্দি করে, তারপর বিষাক্ত দাঁড়া দিয়ে নিহত করে। জালবোনা মাকড়সারা অপেক্ষাকৃত অর্বাচীন। কয়েকটি বিখ্যাত বিষাক্ত মাকড়শা হলো : টারান্টুলা (বিষ মানুষের ক্ষতি করেনা) , ব্ল্যাক উইডো মাকড়সা । মাকড়সা কে ভয় পাওয়া হলো এক ধরনের ফোবিয়া,আ্যরাকনিডাফোবিয়া।
সবচেয়ে বড় পর্ব হলো আর্থ্রোপোডা । সকল কীটপতঙ্গ ও এর অন্তর্ভুক্ত। ক্ষতিকারক পতঙ্গকে পেস্ট বলে। কয়েকটি ক্ষতিকারক পতঙ্গের নাম হলো : ধানের হলুদ মাজরা পোকা, ধানের পামরী পোকা, পাটের বিছাপোকা, পাটের চেলে পোকা। শুককীট ও পূর্ণাঙ্গ পামরী পোকা ধানপাতার সবুজ অংশ খেয়ে ফেলে। এতে পাতা শুকিয়ে সাদা হয়ে যায়। ফলে সালোকসংশ্লেষণের অভাবে ধানের ফলন কমে যায়।
কয়েকটি উপকারী পতঙ্গের নাম হলো : রেশম মথ, মৌমাছি । একটি রাণী মৌমাছি ১,০০০ বার ডিম পাড়ে । প্রতি চাকে একটি রাণী মৌমাছি এবং কয়েকটি পুরুষ মৌমাছি থাকে। স্ত্রী মৌমাছিদের মধ্যে যেগুলো বন্ধ্যা সেগুলোকে কর্মী মৌমাছি বলে । প্রত্যেকটি মৌচাকে কমপক্ষে ২০,০০০- ৮০,০০০ বন্ধ্যা স্ত্রী মৌমাছি থাকে । কর্মী মৌমাছিদের কাজ মূলত মৌচাককে পরিষ্কার রাখা, অন্য কলোনির মৌমাছিদের আক্রমণ থেকে রক্ষা করা, শাবকদের লালন-পালন, এবং রাণীর সেবা করা। কর্মী মৌমাছি ফুল থেকে পুষ্পসার বা নেক্টার সংগ্রহ করে। মৌমাছিদের পাকস্থলীতে এ রস থেকে পানি অপসারিত হয়ে মধুতে পরিণত হয়। কর্মী মৌমাছিগুলো মধু সংগ্রহ করে সেগুলো মৌচাকে জমা করে রাখে। কর্মী মৌমাছির দেহে অবস্থিত মোম গ্রন্থি থেকে নিঃসৃত পদার্থ থেকে মোম তৈরি হয়। উন্নত জাতের দুটি রেশম পোকার নাম হচ্ছে বিপুল ও সোনালী ।
স্বভাব ও বাসস্থান : এই পর্বের প্রাণীদের দেহ নরম, সাধারণত শক্ত খোলক দ্বারা আবৃত । এদের গঠন, বাসস্থান ও স্বভাব বৈচিত্র্যপূর্ণ। এরা পৃথিবীর প্রায় সকল পরিবেশে বাস করে। প্রায় সবাই সামুদ্রিক এবং সাগরের বিভিন্ন স্তরে বাস করে। কিছু কিছু প্রজাতি পাহাড়ি অঞ্চলে, বনেজঙ্গলে ও স্বাদু পানিতে বাস করে। এদের সাধারণ বৈশিষ্ট্য হল:
স্বভাব ও বাসস্থান: এই পর্বের সকল প্রাণী সামুদ্রিক। পৃথিবীর সকল মহাসাগরে এবং সকল গভীরতায় এদের বসবাস করতে দেখা যায়। এদের স্থলে বা মিঠা পানিতে পাওয়া যায় না। এরা অধিকাংশ মুক্তজীবী। এদের সাধারণ বৈশিষ্ট্য হল:
স্বভাব ও বাসস্থান : এরা পৃথিবীর সকল পরিবেশে বাস করে। এদের বহু প্রজাতি ডালায় বাস করে। জলচর কর্ডাটাদের মধ্যে বহু প্রজাতি স্বাদু পানিতে অথবা সমুদ্রে বাস করে। বহু প্রজাতি বৃক্ষবাসী, মরুবাসী, মেজুবাসী, গুহাবাসী ও খেচর। কর্ডাটা পর্বের বহু প্রাণী বহিঃপরজীবী হিসেবে অন্য প্রাণীর দেহে সংলগ্ন হয়ে জীবনযাপন করে। এদের সাধারণ বৈশিষ্ট্য হল:
এদের মধ্যে সর্বভুক প্রাণীর উদাহরণ হল আরশোলা, কুকুর, বিড়াল, মানুষ, কাক ইত্যাদি। কর্ডাটা পর্বকে তিনটি উপপর্বে ভাগ করা যায়। যথা-
সাধারণ বৈশিষ্ট্য :
সাধারণ বৈশিষ্ট্য :
এই উপ-পর্বের প্রাণীরাই মেরুদণ্ডী প্রাণী হিসেবে পরিচিত। গঠন ও বৈশিষ্ট্যের ভিত্তিতে মেরুদন্ডী প্রাণীদের ৭টি শ্রেণিতে ভাগ করা হয়েছে।
সাধারণ বৈশিষ্ট্য :
সাধারণ বৈশিষ্ট্য :
সাধারণ বৈশিষ্ট্য :
মেরুদণ্ডী প্রাণীর মধ্যে যারা জীবনের প্রথম অবস্থায় সাধারণত পানিতে থাকে এবং মাছের মতো বিশেষ ফুলকার সাহায্যে শ্বাসকার্য চালায়, পরিণত বয়সে ডাঙ্গায় বাস করে তারাই উভচর ।
সাধারণ বৈশিষ্ট্য :
সাধারণ বৈশিষ্ট্য :
সবচেয়ে বেশি বাঁচে কচ্ছপ। (৫০০ বছর পর্যন্ত)
সাধারণ বৈশিষ্ট্য :
সর্ববৃহৎ স্তন্যপায়ী প্রাণী নীল তিমি । প্লাটিপাস একটি স্তন্যপায়ী জীব তবে ডিম দেয় । বাদুড় স্তন্যপায়ী প্রাণী হলে ও এটি উড়তে পারে ।এদের সাধারণ সাধারণ বৈশিষ্ট্য :
বাংলাদেশের জাতীয় পশু: বাংলাদেশের জাতীয় পশু সুন্দরবনের রয়েল বেঙ্গল টাইগারের খ্যাতি বিশ্বজোড়া। বাঘের আটটি উপ-প্রজাতির মধ্যে সুন্দরতম ও রাজকীয় এটি। বাঘ (tiger) বিড়াল পরিবারের বৃহত্তম সদস্য। বৈজ্ঞানিক নাম প্যানথেরা ট্রাইগ্রিস (Panthera tigris)। কালো ডোরাযুক্ত হরিদ্রা বর্ণের বাঘের চোখ উজ্জ্বল, মাথা গোলাকার, শরীর ১.৪ থেকে ২.৮ মিটার এবং লেজ ৬০ থেকে ৯০ সেন্টিমিটার লম্বা। প্রায় ৯০ সেন্টিমিটার উঁচু বাঘ ১৮০-২৬০ কেজি হয়।
৭১
১৪৫ মন্তব্য