সহকারী শিক্ষক
০৪ ডিসেম্বর, ২০২৫ ০৯:০৬ অপরাহ্ণ
সহকারী শিক্ষক
বিদ্যাপতি ছিলেন পঞ্চদশ শতকের মৈথিলী কবি, যিনি রাধা-কৃষ্ণ প্রেমকাব্যের মাধ্যমে বাংলা ও মৈথিলী সাহিত্যে অমরত্ব লাভ করেছেন। তাঁর পদাবলী বৈষ্ণব সাহিত্যের অন্যতম শ্রেষ্ঠ সম্পদ।
জন্ম: ১৩৫২ সালে বিহারের মধুবনী জেলার বিসফী গ্রামে।
মৃত্যু: ১৪৪৮ সালে সমস্তিপুর জেলার বিদ্যাপতি নগরে।
তিনি ছিলেন এক বিদগ্ধ ব্রাহ্মণ পরিবারে জন্মগ্রহণকারী, যাদের বংশপরম্পরায় মিথিলার রাজকর্মচারী হিসেবে কাজ করার ঐতিহ্য ছিল।
তাঁর কৌলিক উপাধি ছিল ঠাকুর বা ঠক্কুর।
বিদ্যাপতি মৈথিলী, অবহট্ঠ, সংস্কৃত এবং ব্রজবুলি ভাষায় রচনা করেছেন।
তাঁর শ্রেষ্ঠ কীর্তি হলো রাধা-কৃষ্ণ বিষয়ক বৈষ্ণব পদাবলী, যা বাংলা সাহিত্যে বিশেষভাবে জনপ্রিয়।
তিনি শৈব বংশে জন্মগ্রহণ করায় বহু শৈবসঙ্গীতও রচনা করেছেন।
কথিত আছে, শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভু প্রতিদিন তাঁর রচিত পদ গাইতে ভালোবাসতেন।
ভাষার বৈচিত্র্য: মৈথিলী ও ব্রজবুলি ভাষায় রচিত তাঁর পদাবলী বাঙালিদের কাছে সহজবোধ্য ও হৃদয়গ্রাহী ছিল।
প্রেম ও ভক্তির মিশ্রণ: রাধা-কৃষ্ণের প্রেমকে তিনি মানবিক আবেগ ও ধর্মীয় ভক্তির সঙ্গে মিলিয়ে উপস্থাপন করেছেন।
সঙ্গীতধর্মিতা: তাঁর কবিতা গীতিময়, যা সহজেই মানুষের হৃদয়ে পৌঁছায়।
রাজপৃষ্ঠপোষকতা: ছয়জন রাজা ও একজন রানীর পৃষ্ঠপোষকতা পেয়েছিলেন, যা তাঁর বহুমুখী প্রতিভার স্বীকৃতি।
যদিও তিনি মিথিলার কবি, তাঁর পদাবলী বাংলায় ব্যাপকভাবে প্রচারিত হয়।
পঞ্চদশ শতাব্দী থেকে ঊনবিংশ শতাব্দীর প্রথমার্ধ পর্যন্ত তাঁর কবিতা বৈষ্ণব ও অবৈষ্ণব সমাজে সমানভাবে জনপ্রিয় ছিল।
বাঙালিরা তাঁকে নিজেদের কবি হিসেবে গ্রহণ করেছে এবং তাঁর কবিতাকে পবিত্র হোমাগ্নির মতো রক্ষা করেছে।
বিদ্যাপতি শুধু মৈথিলী কবি নন, তিনি ছিলেন বৈষ্ণব সাহিত্যের শিরোমণি। তাঁর রাধা-কৃষ্ণ প্রেমকাব্য মানবিক আবেগ ও ধর্মীয় ভক্তির এক অনন্য সংমিশ্রণ। বাংলা সাহিত্যে তাঁর পদাবলী আজও সমানভাবে প্রাসঙ্গিক ও হৃদয়গ্রাহী।
১
১ মন্তব্য