সহকারী শিক্ষক
০৭ ডিসেম্বর, ২০২৫ ১১:২৬ অপরাহ্ণ
সহকারী শিক্ষক
রামরাম বসু ছিলেন বাংলা গদ্য সাহিত্যের অন্যতম পথিকৃৎ, যিনি প্রথম মৌলিক বাংলা গদ্যগ্রন্থ রচনা করে সাহিত্য ইতিহাসে অমর হয়ে আছেন।
জন্ম: আনুমানিক ১৭৫৭ সালে হুগলির চুঁচুড়ায়
মৃত্যু: ৭ আগস্ট ১৮১৩, কলকাতায়
তিনি বাংলা, সংস্কৃত ও ফারসি ভাষায় পারদর্শী ছিলেন; কিছু ইংরেজিও জানতেন।
জীবিকার জন্য প্রথমে তিনি ইংরেজদের মুন্সি হিসেবে কাজ করতেন এবং তাঁদের কাছ থেকে ইংরেজি শিখেছিলেন।
১৭৮৭ সালে ব্যাপটিস্ট ধর্মপ্রচারক জন টমাস তাঁকে বাংলা মুন্সি হিসেবে নিয়োগ দেন।
পরে উইলিয়াম কেরি ভারতে আসার পর রামরাম বসু তাঁর বাংলা শিক্ষক ও সহকারী হন।
কেরির সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক ছিল কখনো সহযোগিতামূলক, আবার কখনো তিক্ততাপূর্ণ।
তাঁর সর্বাধিক উল্লেখযোগ্য রচনা হলো “রাজা প্রতাপাদিত্য চরিত”, যা বাংলায় লেখা প্রথম মৌলিক গদ্যগ্রন্থ এবং ছাপাখানায় মুদ্রিত প্রথম বই (১৮০১ সালে শ্রীরামপুর মিশন প্রেস থেকে প্রকাশিত)।
তিনি বাংলা ভাষায় কয়েকটি খ্রিস্টধর্ম বিষয়ক বই লিখেছিলেন।
রামায়ণ ও মহাভারত সম্পাদনা করেন এবং উইলিয়াম কেরিকে বাইবেল অনুবাদে সহায়তা করেন।
রামরাম বসু ছিলেন বাংলা গদ্য সাহিত্যের আদি লেখক, যিনি বাংলা ভাষাকে গদ্যের মাধ্যমে সুসংগঠিত করেন।
তাঁর রচনায় ইতিহাস, ধর্ম ও সমাজচেতনার মিশ্রণ দেখা যায়।
তিনি বাংলা ভাষার প্রাথমিক গদ্যরূপকে প্রতিষ্ঠিত করেন, যা পরবর্তীতে বঙ্কিমচন্দ্র ও রবীন্দ্রনাথের সাহিত্যভাষার ভিত্তি তৈরি করে।
রামরাম বসু আজও স্মরণীয় তাঁর সাহিত্যিক সাহসিকতা ও ভাষার প্রতি নিষ্ঠার জন্য।
তিনি প্রমাণ করেছিলেন যে বাংলা ভাষা শুধু কবিতার নয়, গদ্যের মাধ্যমেও শক্তিশালীভাবে প্রকাশিত হতে পারে।
রামরাম বসু ছিলেন এক অগ্রদূত, যিনি বাংলা গদ্যের পথ খুলে দিয়েছিলেন। তাঁর রচনা শুধু সাহিত্য নয়, বরং বাংলা ভাষার ইতিহাসে এক যুগান্তকারী অধ্যায়। আজকের দিনে তিনি আমাদের মনে করিয়ে দেন—নিজস্ব ভাষায় মৌলিক সাহিত্য সৃষ্টিই জাতির সাংস্কৃতিক শক্তির মূল ভিত্তি।
৭১
১৪৫ মন্তব্য