সহকারী শিক্ষক
০৮ ডিসেম্বর, ২০২৫ ০৮:৩৫ অপরাহ্ণ
সহকারী শিক্ষক
শিক্ষার অর্জনই হোক মনুষ্যত্ব - এর মানে হলো, শিক্ষার মূল উদ্দেশ্য শুধু জ্ঞান অর্জন বা ডিগ্রি লাভ করা নয়, বরং একজন ভালো মানুষ হিসেবে নিজেকে গড়ে তোলা। মানুষ হিসেবে আমাদের মধ্যে সহানুভূতি, নৈতিকতা, এবং বিচক্ষণতা থাকা উচিত, যা কেবল ভালো শিক্ষার মাধ্যমেই বিকশিত হতে পারে।
শিক্ষা হলো এমন একটি প্রক্রিয়া যা মানুষের অন্তর্নিহিত সত্তার পরিপূর্ণ বিকাশ সাধন করে। ব্যক্তির দেহ-মন-আত্মার বিকাশ ঘটিয়ে আচরণের ইতিবাচক পরিবর্তন আনে। মানসিক বুদ্ধিবৃত্তিক প্রস্ফুটন করে ইন্দ্রিয় জাগ্রত করে। অর্জিত জ্ঞান নিজেকে আত্মপ্রত্যয়ী ও সংস্কার মুক্ত করে তোলে। শিক্ষার উদ্দেশ্য হলো চরিত্রের বিকাশ, মানবীয় উৎকর্ষ সাধন করা, সু-অভ্যাস গড়ে তোলা, মিথ্যার বিনাশ আর সত্যের সন্ধানে অগ্রসর হওয়া। নৈতিক আচরণের উন্মেষ ঘটিয়ে পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ জাগরিত করা।
পুঁথিগত বিদ্যার সার্টিফিকেট আদৌ কি প্রকৃত মানুষ গড়ে তুলতে পারছে? নীতি বিবর্জিত শিক্ষা অর্জন প্রকৃত শিক্ষা নয়। পাঠ্যপুস্তক থেকে যে জ্ঞান ছাত্রছাত্রীরা অর্জন করছে তা শুধু সার্টিফিকেট বা ভালো একটা চাকরি পাওয়ার আশায়। কিন্তু শিক্ষার উদ্দেশ্য তা নয়; উপলব্ধি করা জ্ঞান নিজের মধ্যে প্রয়োগ করার নামই প্রকৃত শিক্ষা। নিজেকে জানা নিজের মাঝে আদর্শ মূল্যবোধ তৈরি করে তা সমাজে প্রসারিত করা।
সার্টিফিকেট অর্জন করে আমরা শিক্ষক, ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার, আইনজীবী, অফিসের বড় কর্মকর্তা হচ্ছি। বিশাল বাড়ি-গাড়ির মালিক হচ্ছি কিন্তু সেখানে বৃদ্ধ বাবা-মায়ের স্হান হচ্ছে না। তাহলে এ হিংসা, হানাহানি, দুর্নীতি, শ্রেণি বৈষম্য, জাতি ভেদাভেদ ই সার্টিফিকেট অর্জনের কী প্রয়োজন? যেখানে মনুষ্যত্ব হারিয়ে যাচ্ছে।
আমাদের সুন্দর একটা জাতি উপহার দেওয়ার জন্য প্রকৃত শিক্ষায় শিক্ষিত হয়ে উঠতে হবে। শুরু করতে হবে প্রাথমিক স্তর থেকে। কারণ ভিত্তি স্হাপন যদি মজবুত হয়, তা সহজে ভেঙে যায় না। তাছাড়া নৈতিক শিক্ষা, সামাজিক শিক্ষা, পারিবারিক শিক্ষা, কর্মমুখী শিক্ষার ওপর জোর দিতে হবে। মস্তিষ্কের সৃষ্টিশীল উদ্ভাবনী ক্ষমতার বিকাশ ঘটাতে হবে এবং সেটা ব্যবহার করতে হবে বাস্তব জীবনে। শিক্ষা মানুষকে জীবিকা অর্জনে এবং সমাজে প্রতিষ্ঠা লাভে সাহায্য করে। কিন্তু এই শিক্ষা যদি ব্যক্তিকে নৈতিকতা, বিবেক ও মানবিক মূল্যবোধ শিক্ষা দিতে ব্যর্থ হয়, তবে তা অসম্পূর্ণ থেকে যায়। একজন শিক্ষিত মানুষ যদি তার জ্ঞানকে অন্যায়, দুর্নীতি, স্বার্থপরতা বা অন্যের ক্ষতির কাজে ব্যবহার করে, তবে সেই শিক্ষা মূল্যহীন। মানবিক মূল্যবোধের বেশি বেশি চর্চা করলে হিংসা, হানাহানি, দুর্নীতি, শ্রেণি বৈষম্য, জাতি ভেদাভেদ দূর হয়ে সুন্দর কল্যাণকর রাষ্ট্র হবে।
শিক্ষার আলোকবর্তিকা মানুষের মনের অন্ধকার দূর করে। এই আলোক যদি মনুষ্যত্বের পথে চালিত না হয়, তবে জ্ঞান কেবল অহংকার ও আত্মবিনাশের কারণ হতে পারে। সমাজে শান্তি ও প্রগতি আনতে হলে প্রতিটি মানুষকে শিক্ষিত হওয়ার পাশাপাশি অবশ্যই মানবিক হতে হবে। তাই, জ্ঞানার্জনের পাশাপাশি মানবিক মূল্যবোধের অনুশীলন করাই হোক আমাদের জীবনের প্রধান ব্রত।
১৪
২২ মন্তব্য