চিংড়ি মাছের জীবনচক্র প্রধানত চারটি ধাপে সম্পন্ন হয়: ডিম,
লার্ভা (Zoea, Mysis),
পোস্ট-লার্ভা, এবং পূর্ণাঙ্গ চিংড়ি, যা গভীর সমুদ্র থেকে মোহনায় আসে ও আবার প্রজননের মাধ্যমে চক্রটি সম্পন্ন করে, যেখানে ডিম থেকে লার্ভা ও পোস্ট-লার্ভা পর্যায়ে সামুদ্রিক ও ঈষৎ লবণাক্ত পানিতে থেকে পরে পূর্ণাঙ্গ অবস্থায় ফিরে আসে।
চিংড়ির জীবনচক্রের ধাপসমূহ:
- ডিম (Egg): স্ত্রী চিংড়ি ডিম পাড়ে, যা প্রথমে কমলা রঙের থাকে এবং সময়ের সাথে সাথে ধূসর বর্ণ ধারণ করে, যা প্রায় ১৮-২১ দিন সময় নিতে পারে।
- লার্ভা (Larva): ডিম ফুটে লার্ভা বের হয়। এই পর্যায়ে চিংড়ি খুব ছোট থাকে এবং বিভিন্ন দশার মধ্য দিয়ে যায় (যেমন Zoea, Mysis), যেখানে তারা ক্ষুদ্র প্ল্যাঙ্কটন খেয়ে বেঁচে থাকে এবং জলের স্রোতের সঙ্গে ভেসে বেড়ায়।
- পোস্ট-লার্ভা (Post-Larva): লার্ভা দশা পার করে পোস্ট-লার্ভা বা ছোট চিংড়ি মোহনা ও নদী অঞ্চলে প্রবেশ করে। এই সময়ে তাদের বৃদ্ধি দ্রুত হয় এবং তারা শিকারি প্রাণীর আক্রমণ থেকে বাঁচতে নিচের দিকে বা কাদার মধ্যে থাকে।
- পূর্ণাঙ্গ চিংড়ি (Adult Shrimp): পোস্ট-লার্ভা থেকে পূর্ণাঙ্গ চিংড়ি হয়। তারা নির্দিষ্ট স্থানে প্রজনন করে এবং জীবনচক্র আবার শুরু করে। চিংড়ির প্রজাতিভেদে এই জীবনচক্র গভীর সমুদ্র থেকে মোহনা পর্যন্ত বিস্তৃত হতে পারে, যেমনটি বাগদা চিংড়ির ক্ষেত্রে দেখা যায়।
প্রজাতির ভিন্নতা:
- গলদা চিংড়ি: এর জীবনচক্র ডিম, লার্ভা, পোস্ট-লার্ভা ও পূর্ণাঙ্গ ধাপ নিয়ে গঠিত, যা মিঠা পানির কাছাকাছি পরিবেশে ঘটে।
- বাগদা চিংড়ি (Black Tiger Prawn): এদের জীবনচক্রের একটি অংশ গভীর সমুদ্রে এবং আরেকটি অংশ মোহনা অঞ্চলে কাটায়, যা এদের প্রজনন ও বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ।
৮
৮ মন্তব্য