প্রভাষক
১২ ডিসেম্বর, ২০২৫ ০৯:৫৯ পূর্বাহ্ণ
ডুমুরের ফুল-যা হলো দুর্লভ ও অদৃশ্য বস্তু।।
ডুমুর ফুল বাইরে থেকে দেখা যায় না, কারণ এটি ফলের মতো একটি বিশেষ গঠনের "সাইকোনিয়াম" (syconium)-এর ভেতরে লুকানো অবস্থায় থাকে। এই কারণেই "ডুমুরের ফুল" কথাটি বাংলায় একটি প্রবাদ হিসেবে ব্যবহৃত হয়, যার অর্থ হলো দুর্লভ বা অদৃশ্য বস্তু।
ডুমুর ফুলের গঠন ও বৈশিষ্ট্য
ডুমুর ফুল অন্যান্য সাধারণ ফুলের থেকে সম্পূর্ণ আলাদা এবং এর কিছু অনন্য বৈশিষ্ট্য রয়েছে:
লুকানো ফুল: আমরা যাকে ডুমুর ফল হিসেবে চিনি, সেটি মূলত পুষ্পমঞ্জরির একটি স্ফীত, ফাঁপা অংশ, যার ভেতরের দেয়ালে শত শত ছোট ছোট ফুল tightly packed বা ঘনসন্নিবিষ্ট অবস্থায় থাকে।
সাইকোনিয়াম (Syconium): উদ্ভিদবিজ্ঞানের ভাষায় এই বিশেষ গঠনকে সাইকোনিয়াম বলা হয়। এর মাথার দিকে একটি ছোট ছিদ্র বা মুখ থাকে, যা কয়েকটি ব্র্যাক্ট (bracts) দ্বারা ঢাকা থাকে। এই ছিদ্রটিই পরাগায়নের জন্য বাইরের জগতের সাথে একমাত্র সংযোগপথ।
উভলিঙ্গ ফুল: সাইকোনিয়ামের ভেতরে পুরুষ এবং স্ত্রী উভয় প্রকার ফুলই থাকে। সাধারণত উপরের দিকে পুরুষ ফুল এবং নিচের দিকে স্ত্রী ফুল থাকে।
পরাগায়ন প্রক্রিয়া
ডুমুর গাছের পরাগায়ন পদ্ধতি প্রকৃতির এক বিস্ময়কর উদাহরণ এবং এটি একটি বিশেষ ধরণের পতঙ্গের উপর নির্ভরশীল:
ডুমুর বোলতা (Fig Wasp): ডুমুর ফুল মৌমাছি বা বাতাসের মাধ্যমে পরাগায়িত হয় না। এর জন্য প্রয়োজন হয় Agaonidae গোত্রের খুব ছোট এক ধরনের বোলতা বা কীট।
জীবনচক্রের অংশ: স্ত্রী বোলতা ডিম পাড়ার জন্য ডুমুরের এই ছোট ছিদ্র দিয়ে ভেতরে প্রবেশ করে। ভেতরে যাওয়ার সময় তার পাখা ও শুঁড় ছিঁড়ে যায়।
পরাগায়ন: বোলতা ভেতরে ডিম পাড়ার পাশাপাশি অন্য ডুমুর থেকে বয়ে আনা পরাগ ফুলের গর্ভাশয়ে স্থানান্তরিত করে এবং পরাগায়ন ঘটায়। বোলতার লার্ভা এই ফলের মধ্যেই বড় হয়।
ফল গঠন: পরাগায়নের পর স্ত্রী ফুলগুলো এক বীজবিশিষ্ট ছোট ছোট ফলের জন্ম দেয়, যা আমরা খাওয়ার সময় ডুমুরের ভেতরের কুড়মুড়ে অংশ হিসেবে অনুভব করি। এই ছোট ফলগুলো মিলেই পুরো ডুমুর ফল তৈরি হয়।
৭৩
১৪৬ মন্তব্য