সহকারী শিক্ষক
১২ ডিসেম্বর, ২০২৫ ০৭:০৫ অপরাহ্ণ
সহকারী শিক্ষক
যেসব তৎসম (সংস্কৃত) শব্দে ই/ঈ বা উ/ঊ উভয় প্রকার বানানই শুদ্ধ, সেসব শব্দে কেবল হ্রস্ব ই-কার (ি) এবং হ্রস্ব উ-কার (ু) ব্যবহৃত হবে।
উদাহরণ:
শুদ্ধ: কিংবদন্তি, শ্রেণি, পদবি, ধূলি, উষা
অশুদ্ধ: কিংবদন্তী, শ্রেণী, পদবী, ধূলী, ঊষা
সব অতৎসম অর্থাৎ তদ্ভব, দেশি, বিদেশি ও মিশ্র শব্দে কেবল হ্রস্ব ই-কার (ি) এবং হ্রস্ব উ-কার (ু) ব্যবহৃত হবে। এক্ষেত্রে দীর্ঘ ঈ-কার (ী) বা ঊ-কার (ূ) ব্যবহার করা যাবে না।
উদাহরণ:
শুদ্ধ: আরবি, ইংরেজি, বাঙালি, সরকারি, ফরাসি, চুন
অশুদ্ধ: আরবী, ইংরিজী, বাঙ্গালী, সরকারী, ফরাসী, চূন
রেফ (র্) এর পর ব্যঞ্জনবর্ণের দ্বিত্ব (দুইবার ব্যবহার) হবে না।
উদাহরণ:
শুদ্ধ: কর্ম, অর্জন, অর্চনা, কার্য, সূর্য
অশুদ্ধ: কর্ম্ম, অর্জ্জন, অর্চ্চণা, কার্য্য, সূর্য্য
শব্দের শেষে বিসর্গ (ঃ) ব্যবহার করা যাবে না। এটি কেবল অব্যয় পদের ক্ষেত্রে ব্যবহৃত হতে পারে, যেমন— অথবা, বিশেষত, বস্তুত, মূলত, প্রায়শ, ফলত ইত্যাদি শব্দগুলো লিখতে।
উদাহরণ:
শুদ্ধ: ক্রমশ, মূলত, প্রধানত, প্রায়শ
অশুদ্ধ: ক্রমশঃ, মূলত:, প্রধানতঃ, প্রায়শঃ
সন্ধির ক্ষেত্রে ক, খ, গ, ঘ এই চারটি বর্ণের আগে পদের অন্তস্থিত 'ম' স্থানে বিকল্পে অনুস্বার (ং) ব্যবহার করা যাবে, অথবা ঙ ব্যবহার করা যাবে। তবে ং ব্যবহারের প্রবণতা বেশি।
উদাহরণ:
শুদ্ধ: অহংকার বা অহঙ্কার, সংগীত বা সঙ্গীত, সংখ্যা বা সঙ্খ্যা
যেসব প্রশ্নের উত্তর হ্যাঁ বা না দ্বারা দেওয়া যায়, সেখানে হ্রস্ব 'কি' ব্যবহার হবে। (যেমন: তুমি কি যাবে?)
যা দ্বারা বিশেষণ, জিজ্ঞাসা বা দীর্ঘ উত্তর প্রত্যাশা করা হয়, সেখানে দীর্ঘ 'কী' ব্যবহার হবে। (যেমন: কী খবর? কী কাজ করো?)
উদাহরণ:
শুদ্ধ: তুমি কি খেয়েছ? (উত্তর হ্যাঁ/না)
শুদ্ধ: আপনার কী চাই? (উত্তর ব্যাখ্যা সাপেক্ষ)
যুক্তবর্ণ নয় এমন শব্দের শেষে হস-চিহ্ন (্) যথাসম্ভব বর্জন করা হবে। তবে উচ্চারণের স্পষ্টতার জন্য মাঝে মাঝে ব্যবহার করা যেতে পারে।
উদাহরণ:
শুদ্ধ: কলকল, করলেন, কাত, চট, ফট
অশুদ্ধ: কল্, কর্লেই, কাৎ, চট্, ফটাফট্
ভাষা ও জাতিবাচক নামের শেষে সর্বদা হ্রস্ব ই-কার (ি) হবে।
উদাহরণ:
শুদ্ধ: বাঙালি, জাপানি, ইংরেজি, ইরানি, আরবি
অশুদ্ধ: বাঙালী, জাপানী, ইংরিজী, ইরানী, আরবী
শব্দের শেষে অ-স্বরধ্বনি থাকলে তা উচ্চারণে প্রায়শ ও-কার হয়ে যায়। তাই এমন ক্ষেত্রে ও-কার ব্যবহার করা যেতে পারে। তবে এটি ঐচ্ছিক।
উদাহরণ:
শুদ্ধ: ভালো (অথবা ভাল), কালো (অথবা কাল), করো (অথবা কর)
বি.দ্র.: বিশেষ্য পদের ক্ষেত্রে সাধারণত 'অ-কার' ব্যবহার করাই শ্রেয়, যেমন: কাল (সময়)।
বাংলা ও বিদেশি শব্দে কখনোই মূর্ধন্য ণ (ণ) ব্যবহার হবে না। কেবল তৎসম শব্দে ণ-ত্ব বিধানের নিয়ম অনুযায়ী ণ ব্যবহৃত হবে।
উদাহরণ:
শুদ্ধ: লণ্ঠন, ধরন, কোরআন, ইরান, কেরানি
অশুদ্ধ: লণ্ঠণ, ধরণ, কোরাণ, ইরাণ, কেরাণী
৭১
১৪৫ মন্তব্য