Loading..

ব্লগ

রিসেট

১২ ডিসেম্বর, ২০২৫ ০৭:০৫ অপরাহ্ণ

প্রমিত বাংলা বানানের ১০টি গুরুত্বপূর্ণ নিয়ম

বাংলা বানানের নিয়ম ২০২৬  

১. ই-কার, ঈ-কার এবং উ-কার, ঊ-কার ব্যবহার

যেসব তৎসম (সংস্কৃত) শব্দে ই/ঈ বা উ/ঊ উভয় প্রকার বানানই শুদ্ধ, সেসব শব্দে কেবল হ্রস্ব ই-কার (ি) এবং হ্রস্ব উ-কার (ু) ব্যবহৃত হবে।

  • উদাহরণ:

    • শুদ্ধ: কিংবদন্তি, শ্রেণি, পদবি, ধূলি, উষা

    • অশুদ্ধ: কিংবদন্তী, শ্রেণী, পদবী, ধূলী, ঊষা

২. অতৎসম শব্দের বানান

সব অতৎসম অর্থাৎ তদ্ভব, দেশি, বিদেশি ও মিশ্র শব্দে কেবল হ্রস্ব ই-কার (ি) এবং হ্রস্ব উ-কার (ু) ব্যবহৃত হবে। এক্ষেত্রে দীর্ঘ ঈ-কার (ী) বা ঊ-কার (ূ) ব্যবহার করা যাবে না।

  • উদাহরণ:

    • শুদ্ধ: আরবি, ইংরেজি, বাঙালি, সরকারি, ফরাসি, চুন

    • অশুদ্ধ: আরবী, ইংরিজী, বাঙ্গালী, সরকারী, ফরাসী, চূন

৩. রেফ-এর পর দ্বিত্ব বর্জন

রেফ (র্) এর পর ব্যঞ্জনবর্ণের দ্বিত্ব (দুইবার ব্যবহার) হবে না।

  • উদাহরণ:

    • শুদ্ধ: কর্ম, অর্জন, অর্চনা, কার্য, সূর্য

    • অশুদ্ধ: কর্ম্ম, অর্জ্জন, অর্চ্চণা, কার্য্য, সূর্য্য

৪. শব্দের শেষে বিসর্গ (ঃ) বর্জন

শব্দের শেষে বিসর্গ (ঃ) ব্যবহার করা যাবে না। এটি কেবল অব্যয় পদের ক্ষেত্রে ব্যবহৃত হতে পারে, যেমন— অথবা, বিশেষত, বস্তুত, মূলত, প্রায়শ, ফলত ইত্যাদি শব্দগুলো লিখতে।

  • উদাহরণ:

    • শুদ্ধ: ক্রমশ, মূলত, প্রধানত, প্রায়শ

    • অশুদ্ধ: ক্রমশঃ, মূলত:, প্রধানতঃ, প্রায়শঃ

৫. কখন অনুস্বার (ং) বা ঙ ব্যবহার হবে

সন্ধির ক্ষেত্রে ক, খ, গ, ঘ এই চারটি বর্ণের আগে পদের অন্তস্থিত 'ম' স্থানে বিকল্পে অনুস্বার (ং) ব্যবহার করা যাবে, অথবা ব্যবহার করা যাবে। তবে ব্যবহারের প্রবণতা বেশি।

  • উদাহরণ:

    • শুদ্ধ: অহংকার বা অহঙ্কার, সংগীত বা সঙ্গীত, সংখ্যা বা সঙ্খ্যা

৬. কখন 'কি' এবং 'কী' ব্যবহার হবে

  • যেসব প্রশ্নের উত্তর হ্যাঁ বা না দ্বারা দেওয়া যায়, সেখানে হ্রস্ব 'কি' ব্যবহার হবে। (যেমন: তুমি কি যাবে?)

  • যা দ্বারা বিশেষণ, জিজ্ঞাসা বা দীর্ঘ উত্তর প্রত্যাশা করা হয়, সেখানে দীর্ঘ 'কী' ব্যবহার হবে। (যেমন: কী খবর? কী কাজ করো?)

  • উদাহরণ:

    • শুদ্ধ: তুমি কি খেয়েছ? (উত্তর হ্যাঁ/না)

    • শুদ্ধ: আপনার কী চাই? (উত্তর ব্যাখ্যা সাপেক্ষ)

৭. হস-চিহ্ন বা হসন্ত বর্জন

যুক্তবর্ণ নয় এমন শব্দের শেষে হস-চিহ্ন (্) যথাসম্ভব বর্জন করা হবে। তবে উচ্চারণের স্পষ্টতার জন্য মাঝে মাঝে ব্যবহার করা যেতে পারে।

  • উদাহরণ:

    • শুদ্ধ: কলকল, করলেন, কাত, চট, ফট

    • অশুদ্ধ: কল্, কর্লেই, কাৎ, চট্, ফটাফট্

৮. ভাষা ও জাতিবাচক শব্দ

ভাষা ও জাতিবাচক নামের শেষে সর্বদা হ্রস্ব ই-কার (ি) হবে।

  • উদাহরণ:

    • শুদ্ধ: বাঙালি, জাপানি, ইংরেজি, ইরানি, আরবি

    • অশুদ্ধ: বাঙালী, জাপানী, ইংরিজী, ইরানী, আরবী

৯. ও-কার এর ব্যবহার

শব্দের শেষে অ-স্বরধ্বনি থাকলে তা উচ্চারণে প্রায়শ ও-কার হয়ে যায়। তাই এমন ক্ষেত্রে ও-কার ব্যবহার করা যেতে পারে। তবে এটি ঐচ্ছিক।

  • উদাহরণ:

    • শুদ্ধ: ভালো (অথবা ভাল), কালো (অথবা কাল), করো (অথবা কর)

    • বি.দ্র.: বিশেষ্য পদের ক্ষেত্রে সাধারণত 'অ-কার' ব্যবহার করাই শ্রেয়, যেমন: কাল (সময়)।

১০. শব্দের শেষে ণ-এর ব্যবহার

বাংলা ও বিদেশি শব্দে কখনোই মূর্ধন্য ণ (ণ) ব্যবহার হবে না। কেবল তৎসম শব্দে ণ-ত্ব বিধানের নিয়ম অনুযায়ী ণ ব্যবহৃত হবে।

  • উদাহরণ:

    • শুদ্ধ: লণ্ঠন, ধরন, কোরআন, ইরান, কেরানি

    • অশুদ্ধ: লণ্ঠণ, ধরণ, কোরাণ, ইরাণ, কেরাণী

মন্তব্য করুন