প্রভাষক
১৬ ডিসেম্বর, ২০২৫ ০৭:৩১ পূর্বাহ্ণ
বিজয়ের ৫৪ বছরে বাংলাদেশ।।
আজ ১৬ ডিসেম্বর, এবং এই দিনে বাংলাদেশ তার গৌরবোজ্জ্বল বিজয়ের ৫৫তম বার্ষিকী উদযাপন করছে। এই momentous occasion (গুরুত্বপূর্ণ উপলক্ষ) কেবল একটি ক্যালেন্ডার তারিখ নয়, বরং এটি একটি জাতির দীর্ঘ সংগ্রাম, সর্বোচ্চ ত্যাগ এবং অবশেষে পরাধীনতার শৃঙ্খল ছিন্ন করে মাথা উঁচু করে দাঁড়ানোর প্রতীক। এই দিনটি আমাদের স্মরণ করিয়ে দেয় ১৯৭১ সালের সেই ঐতিহাসিক মুহূর্তটিকে, যখন নয় মাসব্যাপী রক্তক্ষয়ী মুক্তিযুদ্ধের পর পাকিস্তানি দখলদার বাহিনী যৌথ বাহিনীর কাছে আত্মসমর্পণ করেছিল, যার ফলে বিশ্বের মানচিত্রে স্বাধীন ও সার্বভৌম রাষ্ট্র হিসেবে বাংলাদেশের অভ্যুদয় ঘটে।
বাংলাদেশের বিজয়ের ৫৫ বছর পূর্তি উপলক্ষে, জাতি গভীর শ্রদ্ধা ও গর্বের সাথে সেই বীর শহীদদের স্মরণ করছে, যাঁদের আত্মত্যাগের বিনিময়ে আমরা এই স্বাধীনতা পেয়েছি। ১৬ ডিসেম্বর, ১৯৭১ সালে, তৎকালীন রেসকোর্স ময়দানে (বর্তমানে সোহরাওয়ার্দী উদ্যান) পাকিস্তানি সামরিক বাহিনীর প্রধান জেনারেল আমির আব্দুল্লাহ খান নিয়াজি প্রায় ৯৩,০০০ সৈন্য নিয়ে ভারতীয় সেনাবাহিনী ও বাংলাদেশ মুক্তিবাহিনীর যৌথ নেতৃত্বের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে আত্মসমর্পণ করেন। এই ঘটনাটি ছিল বাঙালির হাজার বছরের শৌর্যবীর্য এবং বীরত্বের এক অবিস্মরণীয় বহিঃপ্রকাশ, যা একটি নতুন রাষ্ট্রের জন্ম ঘোষণা করেছিল।
এই ঐতিহাসিক দিনের তাৎপর্য আরও গভীরে প্রোথিত। ১৯৪৭ সালের দেশভাগের পর থেকেই পূর্ব পাকিস্তান (বাংলাদেশ) পশ্চিম পাকিস্তানের শাসকগোষ্ঠী দ্বারা অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক শোষণের শিকার হচ্ছিল। ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলন ছিল এই বৈষম্যের বিরুদ্ধে প্রথম বিদ্রোহের বীজ, যা ধীরে ধীরে স্বাধীনতার আকাঙ্ক্ষাকে শক্তিশালী করে তোলে। ১৯৭১ সালের ২৫শে মার্চ রাতে পাকিস্তানি সেনাবাহিনী ঘুমন্ত বাঙালির উপর brutal crackdown (নির্মম দমন অভিযান) শুরু করলে, সশস্ত্র মুক্তিযুদ্ধ অনিবার্য হয়ে ওঠে। দীর্ঘ নয় মাস ধরে চলা এই জনযুদ্ধে ত্রিশ লক্ষ মানুষ শহীদ হন এবং প্রায় দুই লক্ষ মা-বোনের সম্ভ্রমহানি ঘটে। এই অপরিসীম ত্যাগের ফলেই ১৬ ডিসেম্বর বিজয় অর্জিত হয়।
প্রতি বছর এই দিনটি যথাযথ মর্যাদা ও উৎসাহ-উদ্দীপনার সাথে পালিত হয়। দেশজুড়ে বিভিন্ন কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।
৩১ বার তোপধ্বনি: দিনের সূচনা হয় ঢাকায় ৩১ বার তোপধ্বনির মাধ্যমে।
স্মৃতিসৌধে শ্রদ্ধা নিবেদন: রাষ্ট্রপতি, প্রধান উপদেষ্টা, কূটনীতিক, মুক্তিযোদ্ধা এবং সর্বস্তরের জনগণ সাভার জাতীয় স্মৃতিসৌধে শহীদদের প্রতি পুষ্পস্তবক অর্পণ করে গভীর শ্রদ্ধা জানান।
জাতীয় পতাকা উত্তোলন: সকল সরকারি, আধা-সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত এবং বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করা হয়।
সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান: দেশাত্মবোধক গান, প্যারেড, আলোচনা সভা এবং সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়, যা নতুন প্রজন্মের কাছে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস ও প্রেরণাকে তুলে ধরে।
বিগত সাড়ে পাঁচ দশকে বাংলাদেশ অনেক চড়াই-উতরাই পেরিয়ে এসেছে। জাতি হিসেবে আমরা যেমন উন্নয়নের পথে এগিয়ে চলেছি, তেমনই নাগরিক নিরাপত্তা এবং সুশাসন প্রতিষ্ঠায় কিছু চ্যালেঞ্জ এখনও বিদ্যমান। এই বিজয় দিবস তাই কেবল উৎসবের দিন নয়, বরং এটি আত্মোপলব্ধি এবং মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় একটি বৈষম্যহীন, উন্নত ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ার শপথ নেওয়ার দিন।
৮
৮ মন্তব্য