সহকারী শিক্ষক
১৬ ডিসেম্বর, ২০২৫ ১০:১৪ পূর্বাহ্ণ
শহীদ বুদ্ধিজীবী শহীদুল্লাহ কায়সার
শহীদুল্লাহ কায়সার (১৯২৭-১৯৭১) ছিলেন বাংলাদেশের একজন প্রখ্যাত সাংবাদিক, লেখক, বুদ্ধিজীবী ও ভাষা সৈনিক, যার প্রকৃত নাম আবু নঈম মোহাম্মদ শহীদুল্লাহ। ফেনীর মজুপুর গ্রামে জন্ম নেওয়া এই ব্যক্তিত্ব ভাষা আন্দোলন ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় কলমকে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করেছেন, ‘সারেং বউ’, ‘দিগন্তে ফুলের আগুন’, ‘কৃষ্ণচূড়া মেঘ’ এর মতো কালজয়ী উপন্যাস লিখেছেন এবং 'রাজবন্দীর রোজনামচা'য় জেল জীবনের অভিজ্ঞতা তুলে ধরেছেন। মুক্তিযুদ্ধের শেষলগ্নে, ১৪ ডিসেম্বর, ১৯৭১-এ তিনি পাকিস্তানি বাহিনী ও আল-বদর দ্বারা অপহৃত হন এবং শহীদ বুদ্ধিজীবীদের তালিকায় স্থান করে নেন।
জন্ম ও পরিবার:
জন্ম: ১৬ ফেব্রুয়ারি, ১৯২৭, ফেনী জেলার মজুপুর গ্রামে।
পিতা: মাওলানা মোহাম্মদ হাবিবুল্লাহ (ঢাকা আলিয়া মাদ্রাসার অধ্যক্ষ)।
মাতা: সৈয়দা সুফিয়া খাতুন।
ভাই: প্রখ্যাত চলচ্চিত্রকার জহির রায়হান তাঁর অনুজ।
স্ত্রী: পান্না কায়সার।
শিক্ষা ও কর্মজীবন:
কলকাতার প্রেসিডেন্সি কলেজ থেকে অর্থনীতিতে অনার্সসহ বিএ এবং কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অর্থনীতিতে এমএ সম্পন্ন করেন।
১৯৫৮ সালে দৈনিক 'সংবাদ' পত্রিকার সহযোগী সম্পাদক হিসেবে যোগ দেন এবং সেখানেই বাকি জীবন কাজ করেন।
ভাষা আন্দোলন (১৯৫২) এবং ১৯৬২ সালের শিক্ষা আন্দোলনসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক আন্দোলনে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেন, যার ফলে একাধিকবার কারাবরণ করেন।
সাহিত্যকর্ম:
উপন্যাস: 'সারেং বউ', 'দিগন্তে ফুলের আগুন', 'কৃষ্ণচূড়া মেঘ', 'কুসুমের কান্না'।
আত্মজীবনীমূলক: 'রাজবন্দীর রোজনামচা' (রাজনৈতিক বন্দিজীবনের অভিজ্ঞতা)।
মুক্তিযুদ্ধ ও অন্তর্ধান:
৭১-এর পুরোটা সময় কলমকে হাতিয়ার করে মুক্তিযুদ্ধকে সমর্থন ও পরিচালনা করেন।
১৯৭১ সালের ১৪ ডিসেম্বর, বাংলাদেশের বিজয়ের ঠিক আগে, তিনি পাকিস্তান সেনাবাহিনী ও তাদের সহযোগী আল-বদর বাহিনীর হাতে অপহৃত হন এবং আর ফিরে আসেননি।
সম্মাননা:
১৯৬৯ সালে বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার (উপন্যাসের জন্য)।
১৯৮৩ সালে মরণোত্তর একুশে পদক (সাংবাদিকতার জন্য)।
১৯৯৮ সালে মরণোত্তর স্বাধীনতা পুরস্কার (গল্পে অবদানের জন্য)।
শহীদুল্লাহ কায়সার ছিলেন একজন আপোষহীন লেখক ও বুদ্ধিজীবী, যিনি সাহিত্য ও রাজনীতির মাধ্যমে শোষণমুক্ত সমাজ গড়ার স্বপ্ন দেখতেন এবং তাঁর আত্মত্যাগ বাংলাদেশের ইতিহাসে স্মরণীয় হয়ে আছে।
১৭
২৭ মন্তব্য