সহকারী শিক্ষক
১৬ ডিসেম্বর, ২০২৫ ০২:৫১ অপরাহ্ণ
বাংলাদেশ সংবিধানের ৫৩ বছর
বাংলাদেশ সংবিধানের ৫৩ বছর: স্বাধীন রাষ্ট্রচিন্তার সুদীর্ঘ পথচলা বাংলাদেশের সংবিধান কেবল একটি আইনগত দলিল নয়—এটি একটি স্বাধীন জাতির আত্মপরিচয়, মুক্তিযুদ্ধের চেতনার সাংবিধানিক রূপ এবং রাষ্ট্র পরিচালনার সর্বোচ্চ নির্দেশনা। ১৯৭২ সালের ১৬ই ডিসেম্বর কার্যকর হওয়া এই সংবিধান আজ ৫৩ বছর অতিক্রম করেছে। এই দীর্ঘ সময়ে সংবিধান বাংলাদেশের রাজনৈতিক, সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় অগ্রগতির নীরব সাক্ষী হয়ে রয়েছে।
সংবিধান প্রণয়নের ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট: ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে বাংলাদেশ স্বাধীনতা অর্জন করে। যুদ্ধবিধ্বস্ত একটি নতুন রাষ্ট্রকে সুসংগঠিতভাবে পরিচালনার জন্য প্রয়োজন ছিল একটি শক্তিশালী ও গণতান্ত্রিক সংবিধান। সেই লক্ষ্যে ১৯৭২ সালে গঠিত হয় গণপরিষদ।
সংবিধান প্রণয়ন কমিটির চেয়ারম্যান ছিলেন- ড. কামাল হোসেন।
৪ নভেম্বর ১৯৭২: সংবিধান গৃহীত।
১৬ ডিসেম্বর ১৯৭২: সংবিধান কার্যকর।
সংবিধানের মৌলিক দর্শন: বাংলাদেশ সংবিধানের মূল ভিত্তি হলো মুক্তিযুদ্ধের চেতনা।
সংবিধানের ৮নং অনুচ্ছেদে উল্লেখিত চারটি মূলনীতি রাষ্ট্র পরিচালনার দিকনির্দেশনা দেয়—
১। জাতীয়তাবাদ – ভাষা, সংস্কৃতি ও জাতিসত্তার ভিত্তিতে রাষ্ট্রচিন্তা
২। সমাজতন্ত্র – শোষণমুক্ত সমাজ ও অর্থনৈতিক ন্যায়বিচার
৩। গণতন্ত্র – জনগণের শাসন ও ভোটাধিকার
৪। ধর্মনিরপেক্ষতা – সকল ধর্মের স্বাধীনতা ও সাম্য
এই চার স্তম্ভই বাংলাদেশের সংবিধানকে একটি প্রগতিশীল ও মানবিক দলিলে পরিণত করেছে।
৫৩ বছরে সংবিধানের বিবর্তন:
৫৩ বছরের পথচলায় বাংলাদেশের সংবিধান একাধিক রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে গেছে। সময়ের প্রয়োজনে এতে সংশোধনী আনা হয়েছে। কখনো গণতন্ত্র সুদৃঢ় হয়েছে, কখনো চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে। তবুও সংবিধান রাষ্ট্র পরিচালনার সর্বোচ্চ দলিল হিসেবে তার অবস্থান অটুট রেখেছে।
১
০ মন্তব্য