তড়িৎ চুম্বক (Electromagnet) হলো এমন একটি চুম্বক যা বিদ্যুৎ প্রবাহের মাধ্যমে তৈরি হয়, যেখানে একটি তারের কয়েলের মধ্য দিয়ে বিদ্যুৎ চালনা করলে এটি অস্থায়ী চুম্বকে পরিণত হয় এবং বিদ্যুৎ বন্ধ করলে চুম্বকত্ব চলে যায়; এটি একটি লোহার দণ্ডকে ঘিরে তার পেঁচিয়ে তৈরি করা হয়, যা চৌম্বক ক্ষেত্রকে শক্তিশালী করে এবং মোটর, জেনারেটর, স্পিকার ও শিল্পক্ষেত্রে ভারী জিনিসপত্র তোলার মতো কাজে ব্যবহৃত হয়। এটি স্থায়ী চুম্বক থেকে ভিন্ন, কারণ এর চৌম্বক ক্ষেত্রকে বিদ্যুৎ প্রবাহ নিয়ন্ত্রণ করে পরিবর্তন করা যায়।
তড়িৎ চুম্বক কিভাবে কাজ করে:
বিদ্যুৎ প্রবাহ:
যখন একটি তারের কয়েলের (সলিনয়েড) মধ্য দিয়ে বিদ্যুৎ প্রবাহিত হয়, তখন একটি চৌম্বক ক্ষেত্র তৈরি হয়।
লোহা বা কোর (Core):
কয়েলের ভেতরে একটি নরম লোহার দণ্ড রাখলে সেটি চৌম্বক ক্ষেত্রকে কেন্দ্রীভূত করে এবং চুম্বককে অনেক বেশি শক্তিশালী করে তোলে।
অস্থায়ী চুম্বক:
বিদ্যুৎ প্রবাহ চালু থাকলে এটি চুম্বকের মতো আচরণ করে, কিন্তু বিদ্যুৎ বন্ধ করলে এর চুম্বকত্ব চলে যায়, যা একে একটি স্থায়ী চুম্বক থেকে আলাদা করে।
ব্যবহার:
বৈদ্যুতিক যন্ত্রপাতি:
বৈদ্যুতিক পাখা, মোটর, জেনারেটর, বৈদ্যুতিক ঘণ্টা, স্পিকার এবং হার্ড ডিস্ক ড্রাইভের মতো যন্ত্রে এটি ব্যবহৃত হয়।
শিল্প ও চিকিৎসা:
ভারী লোহার জিনিসপত্র উত্তোলন, ম্যাগনেটিক সেপারেশন এবং এমআরআই (MRI) মেশিনে তড়িৎ চুম্বক ব্যবহার করা হয়।
অন্যান্য:
টেলিগ্রাফ ও ক্রেডিট কার্ডের মতো গ্যাজেটেও এর ব্যবহার দেখা যায়।
মূল ধারণা:
তড়িৎচুম্বকত্ব:
তড়িৎ ক্ষেত্র এবং চৌম্বক ক্ষেত্রের মিথস্ক্রিয়াকে তড়িৎচুম্বকত্ব বলে, যা আলোসহ বিভিন্ন তড়িৎচুম্বকীয় বিকিরণের কারণ।
চুম্বকীয় বলরেখা:
তড়িৎপ্রবাহের ফলে উৎপন্ন এই বলরেখাগুলো পদার্থের মধ্যে দিয়ে যায় এবং এর মাধ্যমেই চুম্বকের আকর্ষণ বা বিকর্ষণ ক্ষমতা প্রকাশ পায়।
১৩
১৯ মন্তব্য