বর্তনী বা সার্কিট বিশ্লেষণ (Circuit Analysis) হলো একটি বৈদ্যুতিক বা ইলেকট্রনিক সার্কিটের মধ্যে ভোল্টেজ, কারেন্ট এবং পাওয়ারের মতো রাশিগুলো বোঝার জন্য গাণিতিক কৌশল ব্যবহার করে বর্তনীর আচরণ পরীক্ষা করার প্রক্রিয়া, যার মূল ভিত্তি হলো ওহমের সূত্র ও
কির্চফের সূত্র এবং এর মাধ্যমে জটিল বর্তনীকে সরল অংশে ভেঙে বিশ্লেষণ করা হয়।
বর্তনী বিশ্লেষণের মূল বিষয়:
- উদ্দেশ্য: বর্তনীর প্রতিটি উপাদানের (রোধ, ক্যাপাসিটর, ইন্ডাক্টর ইত্যাদি) মধ্য দিয়ে প্রবাহিত কারেন্ট ও ভোল্টেজ নির্ণয় করা এবং বর্তনীর সামগ্রিক কার্যকারিতা বোঝা।
- মৌলিক সূত্র: ওহমের সূত্র (Ohm's Law) এবং কির্চফের সূত্র (Kirchhoff's Laws) হলো বিশ্লেষণের মূল ভিত্তি।
- উপাদান: বর্তনীতে ব্যাটারি (শক্তি উৎস), রোধক, ক্যাপাসিটর, ডায়োড, ট্রানজিস্টর, বাল্ব, মোটর (লোড) এবং পরিবাহী তার থাকে।
- সংযোগের ধরন:
- শ্রেণি বর্তনী (Series): উপাদানগুলো একটির পর একটি সাজানো থাকে, কারেন্ট একই থাকে।
- সমান্তরাল বর্তনী (Parallel): একাধিক পথ থাকে, ভোল্টেজ একই থাকে।
- মিশ্র বর্তনী (Mixed Circuit): শ্রেণি ও সমান্তরাল—উভয় ধরনের সংযোগ থাকে।
বিশ্লেষণের পদ্ধতি:
- সমস্যাকে ছোট অংশে ভাগ করা (Decomposition): জটিল বর্তনীকে ছোট, সহজে সমাধানযোগ্য অংশে ভেঙে নেওয়া হয়।
- সূত্র প্রয়োগ: প্রতিটি অংশের জন্য ওহমের সূত্র (
V=IRcap V equals cap I cap R
𝑉=𝐼𝑅
) এবং কির্চফের সূত্র (কারেন্ট ও ভোল্টেজ লুপ) প্রয়োগ করা হয়। - সমাধান: বীজগাণিতিক সমীকরণ সমাধানের মাধ্যমে ভোল্টেজ ও কারেন্টের মান বের করা হয়।
গুরুত্ব:
- ইলেকট্রনিক ডিভাইস ডিজাইন ও সমস্যা সমাধানে অপরিহার্য।
- বৈদ্যুতিক ও ইলেকট্রনিক প্রজেক্ট তৈরির জন্য মৌলিক দক্ষতা।
৭১
১৪৫ মন্তব্য