প্রভাষক
২৩ ডিসেম্বর, ২০২৫ ০৭:৪৬ পূর্বাহ্ণ
ডেটা ট্রান্সমিশন মেথড
পাঠ: ডেটা ট্রান্সমিশন মেথড
এই পাঠ শেষে শিক্ষার্থীরা
১. ডেটা ট্রান্সমিশন মেথড সম্পর্কে ব্যাখ্যা করতে পারবে।
২. ডেটা ট্রান্সমিশন মেথডের প্রকারভেদ ব্যাখ্যা করতে পারবে।
৩. অ্যাসিক্রোনাস, সিনক্রোনাস ও আইসোক্রোনাস ট্রান্সমিশন ব্যাখ্যা করতে পারবে।
ডেটা ট্রান্সমিশন মেথড
ডেটা ট্রান্সমিশন মেথড হলো সেই প্রক্রিয়া যার মাধ্যমে ডেটা একটি ডিভাইস থেকে অন্য ডিভাইসে পাঠানো হয়। এই পদ্ধতিগুলি সাধারণত ওয়্যারড বা ওয়্যারলেস মাধ্যমের মাধ্যমে ডেটা প্রেরণ করে। অন্যভাবে বলা যায়, ডেটা ট্রান্সমিশন হওয়ার জন্য প্রেরক ও প্রাপকের মধ্যে একটি সুনির্দিষ্ট পদ্ধতি থাকতে হয়, এই পদ্ধতিকে ডেটা ট্রান্সমিশন মেথড বা পদ্ধতি বলে। ডেটা ট্রান্সমিশন পদ্ধতির প্রকারভেদ -
১. প্যারালাল ডেটা ট্রান্সমিশন
২. সিরিয়াল ডেটা ট্রান্সমিশন
১. প্যারালাল ডেটা ট্রান্সমিশন
প্যারালাল ডেটা ট্রান্সমিশন হলো একটি পদ্ধতি যেখানে ডেটার একাধিক বিট একই সাথে একাধিক পৃথক লাইন বা চ্যানেলের মাধ্যমে স্থানান্তরিত হয়। প্রতিটি চ্যানেল একই সময়ে একটি বিট বহন করে। অর্থাৎ প্রেরক ও প্রাপকের মধ্যে সমান্তরালে ডেটা স্থানান্তর করলে তাকে সমান্তরাল ডেটা ট্রান্সমিশন বলে। এটি দ্রুত ডেটা স্থানান্তরে সাহায্য করে, তবে বেশি দূরত্বের জন্য এটি ব্যয়বহুল হতে পারে।
প্যারালাল ডেটা ট্রান্সমিশন মেথডের ব্যবহার
q বিপুল পরিমাণে ডেটা প্রেরণ করার প্রয়োজন হয়।
q সময়-সংবেদনশীল ডেটা প্রেরণ করার ক্ষেত্রে।
q এবং ডেটা দ্রুত প্রেরণ করা প্রয়োজন হলে।
উদাহরণস্বরূপ- ভিডিও স্ট্রিমিংয়ে ডেটা প্রেরণে সমান্তরাল ডেটা ট্রান্সমিশন মেথড ব্যবহৃত হয়। কারণ ভিডিও স্ট্রিমিংয়ের জন্য প্রচুর পরিমাণে ডেটা ট্রান্সমিশনের প্রয়োজন হয়। এক্ষেত্রে ডেটাগুলো সময় সংবেদনশীল, কারণ ধীর গতির ডেটা স্ট্রিমগুলোর ফলাফল দর্শকের খারাপ অভিজ্ঞতা হবে। এছাড়া প্যারালাল প্রিন্টার পোর্ট ও ক্যাবল ব্যবহার করে কম্পিউটারের সাথে প্রিন্টারের সংযোগ ইত্যাদি।
সুবিধাঃ এটি প্রোগ্রাম করা সহজ; এবং ডেটা দ্রুত প্রেরণ করা যায়।
অসুবিধাঃ এই পদ্ধতি ব্যয় সাপেক্ষ; কারণ n বিট ডেটা ট্রান্সমিশন করার জন্য n টি চ্যানেল প্রয়োজন।
২. সিরিয়াল ডেটা ট্রান্সমিশন
সিরিয়াল ডেটা ট্রান্সমিশন হলো একটি মাধ্যমে বা ক্যাবল দিয়ে একটার পর একটা (ধারাবাহিকভাবে) ১ বিট করে ডেটা পাঠানোর একটি পদ্ধতি। প্রতিটি বিটের একটি ক্লক পালস রয়েছে। একই সময়ে আটটি বিট এর সাথে একটি স্টার্ট এবং স্টপ বিট (যথাক্রমে 0 এবং 1) প্রেরণ করা হয়। এটি একটি নির্ভরযোগ্য ডেটা ট্রান্সমিশন পদ্ধতি; কারণ পূর্ববর্তী ডেটা বিট ইতিমধ্যে পৌঁছে থাকলে কেবল অপর একটি ডেটা বিট প্রেরণ করা হয়।
সিরিয়াল ডেটা ট্রান্সমিশন মেথডের ব্যবহার ও প্রকারভেদ
q সাধারণত দীর্ঘ-দূরত্বে ডেটা স্থানান্তরের প্রয়োজন হয়।
q ডেটার পরিমাণ তুলনামূলকভাবে কম হয়।
উদাহরণস্বরূপ- মডেম, মাউস, ইতাদি যন্ত্রে সিরিয়াল ডেটা ট্রান্সমিশন পদ্ধতিতে ডেটা আদান-প্রদান হয়ে থাকে।
সুবিধাঃ ব্যয় কম, কারণ ডেটা চলাচলের জন্য একটি লাইন বা চ্যানেলের প্রয়োজন হয়।
অসুবিধাঃ ধীর গতি সম্পন্ন।
বিট সিনক্রোনাইজেশন ও সময় নিয়ন্ত্রণের উপর ভিত্তি করে সিরিয়াল ডেটা ট্রান্সমিশন মেথড তিন প্রকার-
- অ্যাসিনক্রোনাস
- সিনক্রোনাস
- আইসোক্রোনাস
১. অ্যাসিনক্রোনাস ট্রান্সমিশন
অ্যাসিনক্রোনাস ট্রান্সমিশন হলো এমন একটি পদ্ধতি যেখানে ডেটা ক্যারেক্টার বাই ক্যারেক্টার (অক্ষর বা বাইট আকারে) পাঠানো হয়, এবং প্রতিটি ক্যারেক্টারের মধ্যে সময়ের ব্যবধান নির্দিষ্ট থাকে না, বরং এটি স্বাধীনভাবে স্থানান্তরিত হয়, যেখানে ডেটা শুরু ও শেষ বোঝানোর জন্য স্টার্ট বিট ও স্টপ বিট ব্যবহার করা হয়। এই পদ্ধতিটি তুলনামূলক সহজ এবং সাধারণত কম ডেটা স্থানান্তরের জন্য উপযোগী, যেমন কীবোর্ডে ডেটা প্রবেশ করানো।
অ্যাসিনক্রোনাস ট্রান্সমিশনের ব্যবহার
¨ কম্পিউটার হতে প্রিন্টারে
¨ কার্ড রিডার হতে কম্পিউটারে
¨ কম্পিউটার হতে কার্ড রিডারে
¨ কীবোর্ড হতে কম্পিউটারে
২. সিনক্রোনাস ট্রান্সমিশন
সিনক্রোনাস ট্রান্সমিশন হলো ডেটা স্থানান্তরের একটি পদ্ধতি যেখানে ডেটা ব্লক আকারে, একটি নির্দিষ্ট বিরতিতে, কোনো বিরতি ছাড়াই পাঠানো হয়। এই পদ্ধতিতে ডেটা প্রথমে একটি প্রাইমারি স্টোরেজ ডিভাইসে সংরক্ষণ করা হয় এবং তারপর একটি ব্লক আকারে ট্রান্সমিট করা হয়, যার ফলে এটি অ্যাসিনক্রোনাস ট্রান্সমিশনের চেয়ে দ্রুত এবং কার্যকর। ব্লক ডেটার শুরুতে এবং শেষে যথাক্রমে হেডার(১৬ বিট) এবং ট্রেইলর(16 বিট) ইনফরমেশন থাকে। সাধারণত 80 হতে 132 টি ক্যারেক্টার নিয়ে এক একটি ব্লক তৈরি হয়।
সিনক্রোনাস ট্রান্সমিশনের ব্যবহার
¨ কম্পিউটার থেকে কম্পিউটারে ডেটা কমিউনিকেশনে।
¨ এক স্থান থেকে দূরবর্তী কোন স্থানে ডেটা স্থানান্তরে।
৩. আইসোক্রোনাস ট্রান্সমিশন
এটি অ্যাসিনক্রোনাস ও সিনক্রোনাস ডেটা ট্রান্সমিশন এর সমন্বিত রুপ, যা রিয়েল-টাইম ডেটা প্রেরণের জন্য বিশেষভাবে ডিজাইন করা হয়েছে। এটিকে সিঙ্ক্রোনাস ট্রান্সমিশনের উন্নত সংস্করণ হিসেবেও বিবেচনা করা যায়। এই পদ্ধতির প্রধান লক্ষ্য হলো ডেটা ব্লক বা প্যাকেটগুলির মধ্যেকার সময় বিলম্ব সর্বনিম্ন রাখা এবং একটি সামঞ্জস্যপূর্ণ, নির্দিষ্ট সময় ব্যবধান বজায় রাখা।
আইসোক্রোনাস ট্রান্সমিশনের ব্যবহার
¨ সাধারণত রিয়েল টাইম অ্যাপ্লিকেশনের ডেটা ট্রান্সফারে এ পদ্ধতি ব্যবহার করা হয়।
¨ বিভিন্ন মাল্টিমিডিয়া কমিউনিকেশন যেমন- অডিও বা ভিডিও কল এর জন্য এই পদ্ধতিতে ডেটা ট্রান্সমিশন হয়ে থাকে।
৩
৩ মন্তব্য