কমেনসালিজম (Commensalism) হলো এমন একটি জীববৈজ্ঞানিক সম্পর্ক যেখানে একটি প্রজাতি (কমেনসাল) অন্য একটি প্রজাতি (হোস্ট) থেকে উপকৃত হয় (যেমন আশ্রয়, পুষ্টি বা চলাচল), কিন্তু হোস্ট প্রজাতিটি এই সম্পর্ক থেকে কোনোভাবে প্রভাবিত হয় না—অর্থাৎ তার কোনো উপকার বা ক্ষতি হয় না। এটি এক ধরনের সিম্বিওসিস বা মিথোজীবিতা, যেখানে একজন লাভবান হলেও অন্যজন সম্পূর্ণ নিরপেক্ষ থাকে, যেমন রেমোরা মাছ হাঙরের সাথে লেগে থাকা বা পাখিদের গাছে বাসা বাঁধা।
মূল বৈশিষ্ট্য
- একতরফা সুবিধা: একটি জীব উপকৃত হয়, অন্যটি হয় না।
- নিরপেক্ষ হোস্ট: পোষক জীবটি সামান্যও প্রভাবিত হয় না।
উদাহরণ
- রেমোরা ও হাঙর: রেমোরা মাছ হাঙরের গায়ে লেগে থাকে, ফলে সে সহজে চলাচল করতে পারে এবং হাঙরের ফেলে দেওয়া খাবার খেতে পারে, কিন্তু হাঙরের কোনো ক্ষতি হয় না।
- পাখি ও গাছ: পাখিরা গাছে বাসা তৈরি করে আশ্রয় নেয়, কিন্তু গাছের কোনো ক্ষতি হয় না।
- সোনালি শেয়াল ও বাঘ: সোনালি শেয়াল বাঘের শিকারের অবশিষ্টাংশ খেয়ে বেঁচে থাকে, যা বাঘের উপর কোনো প্রভাব ফেলে না।
প্রকারভেদ
- Inquilinism: একটি প্রজাতি অন্যটির শরীরে আশ্রয় নেয় (যেমন, কোনো পাখি গাছের কোটরে থাকে)।
- Phoresy: একটি প্রজাতি অন্যটির শরীরে চড়ে ভ্রমণ করে (যেমন, কিছু পোকামাকড় গাছের সাথে লেগে থাকা)।
- Metabiosis: একটি প্রজাতি অন্যটির বর্জ্য বা মৃতদেহ থেকে উপকৃত হয় (যেমন, কিছু ব্যাকটেরিয়া অন্য ব্যাকটেরিয়ার বর্জ্য খেয়ে বেঁচে থাকে)।
৬৫
১০০ মন্তব্য