বাস্তুতান্ত্রিক বৈচিত্র্য (
Ecosystem Diversity) বলতে কোনো বিশাল অঞ্চল জুড়ে বিদ্যমান বিভিন্ন ধরনের বাস্তুতন্ত্রের (যেমন - মরুভূমি, বনভূমি, তৃণভূমি, হ্রদ, নদী, প্রবাল প্রাচীর) বৈচিত্র্যকে বোঝানো হয়, যা প্রাকৃতিক পরিবেশের ভৌত (ভূমিরূপ, আর্দ্রতা, তাপমাত্রা) ও জৈব উপাদান এবং তাদের মধ্যে মিথস্ক্রিয়ার ফলস্বরূপ সৃষ্টি হয়। এই বৈচিত্র্য পৃথিবীতে জীবনধারণের স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে, বিভিন্ন জীবের অভিযোজন ও বিবর্তনে এবং প্রাকৃতিক ভারসাম্য রক্ষায় অপরিহার্য।
- বিভিন্ন বাস্তুতন্ত্রের উপস্থিতি: একটি নির্দিষ্ট অঞ্চলে মরুভূমি, বনভূমি, জলাভূমি, নদী, সামুদ্রিক বাস্তুতন্ত্রের মতো ভিন্ন ভিন্ন বাস্তুতন্ত্রের উপস্থিতি।
- ভৌত ও রাসায়নিক ভিন্নতা: ভূমিরূপ, আর্দ্রতা, তাপমাত্রা, মাটির গঠন এবং শক্তিপ্রবাহের পার্থক্য।
- প্রজাতি ও জিনগত বৈচিত্র্য: এই ভিন্ন ভিন্ন পরিবেশে বসবাসকারী বিভিন্ন প্রজাতির এবং তাদের মধ্যেকার জিনগত বৈচিত্র্য।
- স্থিতিশীলতা: বাস্তুতান্ত্রিক বৈচিত্র্য বাস্তুতন্ত্রকে পরিবেশগত পরিবর্তনের (যেমন - খরা, বন্যা) মুখে আরও স্থিতিশীল ও সহনশীল করে তোলে।
- সম্পদ: এটি খাদ্য, ঔষধ, কাঁচামাল এবং অন্যান্য প্রাকৃতিক সম্পদ সরবরাহ করে।
- পরিবেশগত পরিষেবা: জল পরিশোধন, পরাগায়ন, মাটির উর্বরতা রক্ষা ও কার্বন চক্র নিয়ন্ত্রণ করে।
- অভিযোজন: ভিন্ন ভিন্ন বাস্তুতন্ত্র বিভিন্ন প্রজাতির অভিযোজনের সুযোগ করে দেয়।
- একটি মহাদেশে যেমন উষ্ণমণ্ডলীয় রেইনফরেস্ট, মেরু অঞ্চলের টুন্ড্রা, বিশাল মরুভূমি এবং গভীর সমুদ্রের ভিন্ন ভিন্ন বাস্তুতন্ত্র বিদ্যমান।
- একটি দেশেই যেমন পাহাড়, নদী, বন, সমুদ্র উপকূল, জলাভূমি ইত্যাদি বিভিন্ন বাস্তুতন্ত্রের উদাহরণ।
৬৫
১০০ মন্তব্য