সহকারী শিক্ষক
২৬ ডিসেম্বর, ২০২৫ ০৯:০৬ পূর্বাহ্ণ
দাস থেকে সিংহাসনের অধিপতি।
দাস থেকে দিল্লির সিংহাসন: গিয়াস-উদ-দীন বলবনের অবিশ্বাস্য উত্থান!
সুলতান গিয়াস-উদ-দীন বলবনকে ঘিরে প্রচলিত অসংখ্য চমকপ্রদ কাহিনীর মধ্যে একটি বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য—যা তাঁর ভাগ্য, আত্মবিশ্বাস ও ভবিতব্যের ইঙ্গিত বহন করে।
একবার দিল্লির সুলতান শামস-উদ-দীন ইলতুতমিশ এক বণিককে পাঠালেন মধ্য এশিয়ার সমরকন্দ, বুখারা ও তিরমিয নগরীতে। উদ্দেশ্য—দিল্লির দরবারের জন্য যোগ্য দাস ক্রয় করা। কিছুদিন পর সেই বণিক প্রায় একশো জন দাস নিয়ে দিল্লিতে প্রত্যাবর্তন করল। প্রথামাফিক সুলতান নিজে দাঁড়িয়ে একে একে সকল দাসের পরিদর্শন করলেন।
দাসদের ভিড়ের মধ্যেই ছিল এক কিশোর—চেহারায় কদাকার, বাহ্যিক সৌন্দর্যে অন্যদের তুলনায় একেবারেই নিষ্প্রভ। তাকেই দেখে সুলতান ইলতুতমিশ বিরক্ত হয়ে বললেন,
“একে আমি চাই না। ফিরিয়ে নিয়ে যাও।”
ঠিক তখনই সেই কিশোর দাস বিনীত অথচ দৃঢ় কণ্ঠে প্রশ্ন করল—
“হুজুর, আপনি এই দাসদের কাদের জন্য কিনেছেন?”
সুলতান হেসে উত্তর দিলেন—
“নিজের জন্য।”
দাসটি সঙ্গে সঙ্গে বলল—
“তবে আমাকে পরমশক্তিমান আল্লাহর জন্য কিনুন।”
এই একটি বাক্য যেন বজ্রাঘাতের মতো আঘাত করল ইলতুতমিশের হৃদয়ে। বাহ্যিক সৌন্দর্যের আড়ালে লুকিয়ে থাকা এই আত্মবিশ্বাস ও আত্মসমর্পণের ভাষা তাঁকে গভীরভাবে স্পর্শ করল। শেষ পর্যন্ত সুলতান সেই কিশোরকেও কিনে নিলেন—যদিও শুরুতে তাকে বিশেষ কোনো মর্যাদা দেওয়া হয়নি।
প্রথমে বলবনকে নিয়োগ করা হলো এক সাধারণ জলবাহক হিসেবে। কিন্তু এখান থেকেই শুরু হয় এক অভূতপূর্ব উত্থানের গল্প। নিজের অসাধারণ কর্মদক্ষতা, কঠোর শৃঙ্খলা, বুদ্ধিমত্তা ও নিঃশর্ত বিশ্বস্ততার মাধ্যমে সে ধীরে ধীরে জলবাহক থেকে সর্দার, সর্দার থেকে সৈনিক, সৈনিক থেকে আমীর—দরবারের অন্যতম শক্তিশালী ব্যক্তিত্বে পরিণত হয়।
পরবর্তীকালে ইলতুতমিশের উত্তরসূরি সুলতান নাসির-উদ-দীন মাহমুদ বলবনের কন্যাকে বিবাহ করেন এবং বলবনকে দিল্লি সালতানাতের নায়েব বা কার্যত সর্বময় ক্ষমতার অধিকারী নিযুক্ত করেন। নাসির-উদ-দীনের মৃত্যুর পর আর কোনো বাধাই রইল না—বলবন নিজেই দিল্লির সিংহাসনে আরোহণ করলেন।
ইতিহাস তাঁকে মনে রাখে এক নতুন নামে— সুলতান গিয়াস-উদ-দীন বলবন, এক দাস থেকে সম্রাটে পরিণত হওয়া মধ্যযুগীয় ভারতের সবচেয়ে শক্তিশালী ও কঠোর শাসকদের একজন।
১৪
২১ মন্তব্য