স্যাটেলাইট মহাকাশে উৎক্ষেপণ করা একটি স্বয়ংসম্পূর্ণ যন্ত্র যা পৃথিবীর মাধ্যাকর্ষণ ও গতির ভারসাম্য বজায় রেখে নির্দিষ্ট কক্ষপথে ঘোরে, পৃথিবী থেকে আসা সংকেত (আপলিংক) গ্রহণ করে, সেগুলোকে শক্তিশালী করে ভিন্ন ফ্রিকোয়েন্সি দিয়ে আবার পৃথিবীতে ফেরত পাঠায় (ডাউনলিংক), যা আমাদের যোগাযোগ, ইন্টারনেট, আবহাওয়ার পূর্বাভাস ও ছবি তোলার কাজে লাগে, মূলত সোলার প্যানেল থেকে শক্তি পায় ও ট্রান্সপন্ডারের মাধ্যমে সংকেত আদান-প্রদান করে।
কিভাবে স্যাটেলাইট কাজ করে:
- উৎক্ষেপণ ও কক্ষপথে স্থাপন: শক্তিশালী রকেটের সাহায্যে স্যাটেলাইটকে মহাকাশে নির্দিষ্ট উচ্চতায় পাঠানো হয়, যেখানে এটি পৃথিবীর মাধ্যাকর্ষণ শক্তিকে প্রতিহত করে নির্দিষ্ট বেগে ঘুরতে থাকে, অনেকটা চাঁদের মতো।
- শক্তি সরবরাহ: সোলার প্যানেল সূর্যের আলো থেকে শক্তি সংগ্রহ করে স্যাটেলাইটের সকল যন্ত্রপাতির (অ্যান্টেনা, ট্রান্সপন্ডার, কম্পিউটার) বিদ্যুৎ সরবরাহ করে।
- সংকেত গ্রহণ (আপলিংক): পৃথিবী থেকে একটি গ্রাউন্ড স্টেশন বা অ্যান্টেনা রেডিও সংকেত স্যাটেলাইটের দিকে পাঠায়, যা আপলিংক নামে পরিচিত।
- সংকেত প্রক্রিয়াকরণ: স্যাটেলাইট এই দুর্বল সংকেত গ্রহণ করে, সেটিকে শক্তিশালী করে (অ্যাম্পলিফাই) এবং ভিন্ন ফ্রিকোয়েন্সিতে পরিবর্তন করে।
- সংকেত প্রেরণ (ডাউনলিংক): পরিবর্তিত ও শক্তিশালী সংকেত স্যাটেলাইটটি আবার পৃথিবীর নির্দিষ্ট এলাকায় (ফুটপ্রিন্ট) ফেরত পাঠায়, যা ডাউনলিংক নামে পরিচিত।
- সংকেত গ্রহণ ও ব্যবহার: পৃথিবীর গ্রাউন্ড স্টেশন বা ব্যবহারকারীর ডিশ এই সংকেত গ্রহণ করে এবং তা ডিকোড করে তথ্য (ভিডিও, ভয়েস, ডেটা) সরবরাহ করে।
স্যাটেলাইটের মূল অংশ:
কাজের ধরন:
এভাবেই স্যাটেলাইট মহাকাশ থেকে পৃথিবীকে পর্যবেক্ষণ করে এবং আমাদের দৈনন্দিন জীবনে প্রয়োজনীয় নানা পরিষেবা প্রদানে সহায়তা করে।
৬৫
১০০ মন্তব্য