কম্পিউটার অপারেশন সুপারভাইজার
২৯ ডিসেম্বর, ২০২৫ ০৯:৪১ পূর্বাহ্ণ
২০২৬ সালে যে প্রযুক্তি মাতাবে পৃথিবী।
২০২৫ প্রযুক্তির ইতিহাসে একটি সংজ্ঞা বদলে দেওয়া বছর। প্রচলিত স্মার্টফোন ধারণা থেকে বেরিয়ে এসে বাজার দখল করতে শুরু করেছে ট্রাই-ফোল্ড ডিজাইনের ফোনÑ যা বহনযোগ্য ডিভাইসকে এক ধাপ নয়, তিন ধাপে প্রসারিত করেছে। একই সময়ে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা আর শুধু ‘স্মার্ট’ শব্দে সীমাবদ্ধ নেই; এটি এখন সৃজনশীল পেশার সহচর, গবেষণার বিশ্লেষক এবং অটোমেশনের চালিকাশক্তি। কনটেন্ট ক্রিয়েশন, ডিপ রিসার্চ, কোড জেনারেশন থেকে শুরু করে ব্যক্তিগত উৎপাদনশীলতাÑ সবখানেই এআই নতুন কর্মসংস্কৃতি তৈরি করেছে। চিপ নির্মাতারাও থেমে নেই; একের পর এক আপডেট, শক্তিশালী প্রসেসিং ক্ষমতা এবং আঞ্চলিক উৎপাদনের কৌশলে তারা প্রযুক্তির ‘সাপ্লাই চেইন ম্যাপ’ নতুন করে এঁকেছে। বৈশ্বিক নির্ভরতার বাইরে গিয়ে লোকালাইজড চিপ ম্যানুফ্যাকচারিং এখন ভবিষ্যতের কৌশলগত ভিত্তি।
কিন্তু প্রশ্ন একটাই, ২০২৬ কি শুধু ধারাবাহিকতার বছর হবে, নাকি নতুন এক প্রযুক্তি বিপ্লবের সূচনাবিন্দু? বিশ্বজুড়ে প্রকাশিত তথ্য, গবেষণা প্রতিবেদন ও শিল্পগত প্রবণতার বিশ্লেষণ বলছে, আগামী বছর প্রযুক্তি শুধু আপডেট হবে না, এটি আচরণ বদলাবে, অভিজ্ঞতা বদলাবে এবং ব্যবহারের দর্শনও বদলে দেবে। চলতি বছরে এআই-এর ডেভেলপমেন্টের কাজ হয়েছে চোখে পড়ার মতো। ওয়েবসাইট, ব্লগ, সোশ্যাল মিডিয়াসহ বিভিন্ন অটোমেশনের কাজে এআই ইমপ্লিমেন্ট করা হয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে এআই-এর বিভিন্ন মডেলের যেমন আপগ্রেড করা হয়েছে তেমনই বিভিন্ন ক্ষেত্রে এআই ইমপ্লিমেন্ট করা হচ্ছে। সেই কারণে, মনে করা হচ্ছে ২০২৬ সালে ব্যাপকভাবে এআই-এর বৃদ্ধি হবে।
বিশেষজ্ঞদের বক্তব্য, এতদিন পর্যন্ত এআই মূলত ডেটা ভিত্তিক ও ডেটা সেন্টার ভিত্তিক ছিল। অর্থাৎ ডেটা নিয়ে তা পর্যালোচনা ও বিশ্লেষণ করে কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছতে সক্ষম ছিল এআই। আগামী বছর থেকে ইন-ডিভাইস এআই-এর ব্যবহার বিপুল বৃদ্ধি পাবে। অর্থাৎ গাড়ি, মোবাইল ডিভাইস, ঘরে ব্যবহারের জন্য বিভিন্ন ডিভাইসেও এআই সংযুক্ত করা হতে পারে ব্যাপকভাবে।
অর্থাৎ সহজেই বলতে গেলে ২০২৬-এ এআই-নির্ভরতা বাড়বে ব্যাপকভাবে। সাধারণ ডিভাইস ছাড়াও অটোমেশনের সিংহভাগই এআই নির্ভরশীল হবে। এ ছাড়া ট্রান্সলেশন এবং সামারাইজেশনেও এআই বৃদ্ধি হবে চোখে পড়ার মতো।
ইতোমধ্যে বিভিন্ন স্মার্টফোন সংস্থা এআই ফিচার্স অ্য়াড করছে। নতুন করে আসতে পারে AI-PC, AI Ready Phone, এআই স্মার্ট হোম গ্যাজেটস, ভয়েস ও ভিডিও অন ডিভাইস প্রভৃতি। ফলে এআই নির্ভরশীলতা যে বাড়বে সে বিষয়ে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
2nm চিপের ব্যবহার
২০২৬ সালে সেমিকন্ডার চিপের প্রতিযোগিতা হবে চোখে পড়ার মতো। এমনটাই দাবি বিশেষজ্ঞদের। মূলত 2nm চিপ হবে সর্বাধিক গ্রহণযোগ্য। ইতোমধ্যে স্যামসাং-এর তরফে জানানো হয়েছে, আগামী বছর তারা 2nm চিপ লঞ্চ করবে এবং গ্যালাক্সি সিরিজে সেই চিপ ব্যবহার করা হবে।
সমস্যা সমাধানে ব্যবহৃত হবে কোয়ান্টাম কম্পিউটিং
কোয়ান্টাম কম্পিউটিংয়ের ব্যবহার বাড়তে পারে ২০২৬ সালে। মূলধারার তথ্য প্রযুক্তি চিন্তাভাবনার পাশাপাশি রিয়েল ওয়ার্ল্ড সমস্যা সমাধানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে কোয়ান্টাম কম্পিউটিং। বিশেষজ্ঞদের বক্তব্য, নির্ভুলভাবে কোয়ান্টাম কম্পিউটিং পেতে এখনও অনেক দেরি। কিন্তু ২০২৬ সাল থেকে অনেক ক্ষেত্রেই এর ব্যবহার অল্প হলেও শুরু হবে। তবে নির্দিষ্টভাবে অপ্টিমাইজেশন এবং সিমুলেশন সমস্যা মোকাবিলায় সক্ষম এই কোয়ান্টাম কম্পিউটিং নির্ভুলভাবে পরিচালিত হলে গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পে ব্যাপকভাবে রাদ করতে পারবে।
অর্থ, সাপ্লাইচেন, প্রডাকশন এবং জলবায়ু প্রযুক্তির মতো ক্ষেত্রগুলোকে প্রাথমিক সুবিধাভোগী হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। সাধারণ কম্পিউটিংয়ের তুলনায় অনেক জটিল বিষয় কোয়ান্টাম কম্পিউটিং সমাধান করতে পারবে।
5G-এর ব্যাপক ব্যবহার এবং trustworthy digital growth
5G-এর ব্যাপক ব্যবহার হয়েছে ২০২৫ সালে। এর মধ্যে আরও উন্নততর প্রযুক্তি নিয়ে ২০২৬ সালে প্রবেশ করছে মোবাইল কমিউনিকেশন টেকনোলজি। টেলিকম এবং পলিসি মেকারদের দাবি, লজিস্টিক্স, সাপ্লাই চেন, কৃষি, স্বাস্থ্য এবং ডিজিট্যাল পাবলিক সার্ভিসের মতো ক্ষেত্রগুলোতে এআই-এর দ্বারা পরিচালিত পরিষেবাগুলো আরও বিপুলভাবে ব্যবহার করা হবে। তার জন্য 5G হবে অতি গুরুত্বপূর্ণ একটি মাধ্যম।
শুধু এআই নয় trustworthy digital growth-ও ২০২৬ সালের জন্য অতি গুরুত্বপূর্ণ একটি প্রযুক্তির মাধ্যম হতে চলেছে। এমন একটি নেটওয়ার্ক তৈরি যা শুধু দ্রুত গতির পরিষেবা দেবে এমন নয়, তার সঙ্গে বিশ্বাসযোগ্যতাও তৈরি করবেÑ যা হবে নিরাপদ এবং স্থিতিশীল।
বহুমুখী রোবট
একাধিক কাজ একাই করতে পারে, এমন রোবট নতুন বছরে সাড়া ফেলতে পারে। প্রথাগত রোবটের চেয়ে মাল্টিফাংশনাল রোবট ধীরে ধীরে জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। বিশেষ করে উৎপাদন বাড়াতে শিল্পকারখানাগুলো এ ধরনের রোবট ব্যবহার করছে। আমাজন ও সিমেন্স উৎপাদন এবং কর্মদক্ষতা বাড়ানোর জন্য পলি ফাংশনাল রোবোটিকসে বিনিয়োগ করেছে। এ রোবটগুলো প্যাকেজিং, উৎপাদন যন্ত্রে সহায়তা, জীবাণুমুক্তকরণ ইত্যাদি করে দেবে। ভবিষ্যতে স্বাস্থ্য খাতে এ ধরনের রোবটের প্রভাব দেখা যেতে পারে।
ডিসইনফরমেশন সিকিউরিটি
সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ছে মিথ্যা তথ্য। সব ধরনের সামাজিক মাধ্যমে এ ধরনের মিথ্যা তথ্য ছড়িয়ে পড়ার প্রবণতা বেশি। ফলে সামাজিক, রাজনৈতিকসহ বিভিন্ন দিকে ব্যাপক ক্ষতি হচ্ছে। তাই এবার মেটা বা এক্সের মতো প্রতিষ্ঠানগুলো এআই দিয়ে মিথ্যা তথ্য ও ভুল প্রচারণা মোকাবিলা করতে যাচ্ছে। ইতোমধ্যে মেটার ফেসবুকে এর ব্যবহার দেখা গেছে। মেশিন লার্নিং ব্যবহার করে সত্যতা যাচাই করা, ছদ্মবেশে ভুয়া প্রচার চালানো এবং বিভ্রান্তিকর বিজ্ঞাপন কমাতে এই প্রযুক্তি ব্যবহার শুরু করছে প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলো। ২০২৬ সালে হয়তো জনপ্রিয় সব সামাজিক মাধ্যমে ডিসইনফরমেশন সিকিউরিটির ব্যাপক ব্যবহার দেখা যাবে।
স্যাটেলাইট ইন্টারনেট
বাংলাদেশে স্যাটেলাইট ইন্টারনেট ব্যবহৃত হলেও তা অতি সামান্য পরিমাণে। সরকারি কিছু ক্ষেত্র এবং বেসরকারি কিছু বড় সংস্থা ছাড়া সেভাবে স্যাটেলাইট ইন্টারনেট ব্যবহার করা হয় না। কিন্তু ২০২৬ সালে বাংলাদেশে ব্যাপক মাত্রায় স্যাটেলাইট ইন্টারনেট ব্যবহার করা হতে পারে।
৬৪
১০০ মন্তব্য