কুয়াশা ও শিশির দুটোই জলীয় বাষ্প ঘনীভূত হয়ে তৈরি হয়, কিন্তু শিশির ঘাস বা পাতার মতো ঠান্ডা পৃষ্ঠতলে জমা হয়, যা ক্ষুদ্র জলবিন্দু হিসেবে দেখা যায়; আর কুয়াশা হলো মাটির কাছাকাছি বাতাসে ভেসে থাকা জলকণার ঘন স্তর, যা দৃশ্যমানতা কমিয়ে দেয়, অনেকটা নীচের মেঘের মতো। শিশির গঠিত হয় মূলত ভূপৃষ্ঠ ঠান্ডা হওয়ার কারণে, যেখানে জলীয় বাষ্প সরাসরি ঠান্ডা বস্তুর সংস্পর্শে এসে ঘনীভূত হয়, আর কুয়াশা তৈরি হয় বাতাসের উপরের স্তরের তাপমাত্রা কমে গিয়ে জলীয় বাষ্প ঘনীভূত হলে।
শিশির (Dew)
- গঠন: রাতে ভূপৃষ্ঠ ঠান্ডা হলে তার কাছাকাছি থাকা জলীয় বাষ্প ঘনীভূত হয়ে ঘাস, পাতা, গাড়ির কাঁচের মতো ঠান্ডা বস্তুর উপর ছোট ছোট ফোঁটা আকারে জমে।
- অবস্থান: কঠিন পৃষ্ঠতলে (যেমন - ঘাস, পাতা)।
- দৃশ্যমানতা: ছোট ছোট পানির ফোঁটা।
- আবহাওয়া: সাধারণত পরিষ্কার ও শান্ত আবহাওয়ায় বেশি হয়।
কুয়াশা (Fog)
- গঠন: আর্দ্র বাতাস ঠান্ডা হলে জলীয় বাষ্প ঘনীভূত হয়ে বাতাসে ভাসমান ক্ষুদ্র জলকণায় পরিণত হয়, যা ঘন স্তর তৈরি করে।
- অবস্থান: মাটির কাছাকাছি বাতাসে ভেসে থাকে (এক ধরনের নিম্ন-স্তরের মেঘ)।
- দৃশ্যমানতা: চারপাশের ঘন মেঘের মতো, যা দৃশ্যমানতা কমিয়ে দেয়।
- আবহাওয়া: আর্দ্র ও ঠান্ডা পরিবেশে বেশি হয়, কম বা শান্ত বাতাস থাকলে ভালো হয়।
মূল পার্থক্য
- স্থান: শিশির জমা হয় পৃষ্ঠতলে, কুয়াশা ভাসে বাতাসে।
- পরিমাণ: শিশির ক্ষুদ্র ফোঁটা, কুয়াশা ঘন স্তর বা মেঘের মতো।
- প্রভাব: শিশির দৃশ্যমানতা কমায় না, কিন্তু কুয়াশা কমায়।
১৪
২১ মন্তব্য