প্রভাষক
৩০ ডিসেম্বর, ২০২৫ ১০:০৭ অপরাহ্ণ
জীবের পরিবেশ ও পরিবেশের উপাদান।।
জীবের পরিবেশ হলো সেই সমস্ত জৈব (living) ও অজৈব (non-living) উপাদান, শক্তি এবং বাহ্যিক অবস্থার সমষ্টি যা কোনো জীবের বেঁচে থাকা, বৃদ্ধি ও বিকাশের ওপর সরাসরি বা পরোক্ষভাবে প্রভাব ফেলে। এর মধ্যে রয়েছে আলো, জল, বায়ু, মাটি, তাপমাত্রা (অজৈব উপাদান) এবং অন্যান্য জীব, যেমন – উদ্ভিদ, প্রাণী ও অণুজীব (জৈব উপাদান), যাদের সাথে জীবের পারস্পরিক মিথস্ক্রিয়া ঘটে, যা একটি বাস্তুতন্ত্র (Ecosystem) গঠন করে।
পরিবেশের উপাদান
অজৈব উপাদান (Abiotic Factors):
ভৌত উপাদান: সূর্যালোক, তাপমাত্রা, আর্দ্রতা, বায়ু, চাপ।
রাসায়নিক উপাদান: মাটি, জল, বায়ুর গ্যাস (অক্সিজেন, কার্বন ডাই অক্সাইড), খনিজ লবণ।
জৈব উপাদান (Biotic Factors):
উৎপাদক (Producers): উদ্ভিদ ও শৈবাল, যারা খাদ্য তৈরি করে।
ভোক্তা (Consumers): প্রাণী, যারা উৎপাদক বা অন্য প্রাণীকে খেয়ে বেঁচে থাকে (যেমন: herbivores, carnivores)।
বিয়োজক (Decomposers): ছত্রাক ও ব্যাকটেরিয়া, যারা মৃত জীবদেহকে পচিয়ে মাটির সাথে মিশিয়ে দেয়।
জীব ও পরিবেশের সম্পর্ক
পারস্পরিক নির্ভরশীলতা: প্রতিটি জীব তার মৌলিক চাহিদা (খাদ্য, জল, আশ্রয়) পূরণের জন্য পরিবেশ ও অন্য জীবের ওপর নির্ভরশীল।
মিথস্ক্রিয়া: জীব ও পরিবেশ একে অপরের ওপর প্রভাব ফেলে; জীবের ক্রিয়াকলাপ পরিবেশ পরিবর্তন করে এবং পরিবেশ জীবের বৈশিষ্ট্য নির্ধারণ করে।
বাস্তুতন্ত্র: জীব ও তার পরিবেশের এই জটিল মিথস্ক্রিয়াকে বাস্তুতন্ত্র বলে, যা একটি প্রাকৃতিক একক যেখানে জীবনচক্র আবর্তিত হয়।
পরিবেশের প্রকারভেদ (শারীরবৃত্তীয় দৃষ্টিকোণ থেকে)
বাহ্যিক পরিবেশ (External Environment): জীবের বাইরের সবকিছু (যেমন: বন, পুকুর, মরুভূমি)।
অভ্যন্তরীণ পরিবেশ (Internal Environment): বহুকোষী জীবের দেহের ভিতরের পরিবেশ, যা হোমিওস্ট্যাসিস (Homeostasis) দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হয়।
৭১
১৪৫ মন্তব্য