সহকারী অধ্যাপক
০২ জানুয়ারি, ২০২৬ ০৭:৪১ পূর্বাহ্ণ
সহকারী অধ্যাপক
জুম্মা মুসলিম উম্মাহর জন্য একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও বরকতময় দিন। সপ্তাহের অন্যান্য দিনের তুলনায় জুম্মার মর্যাদা অনেক বেশি। কুরআন ও হাদিসে এই দিনের বিশেষত্ব ও ফজিলত সুস্পষ্টভাবে বর্ণিত হয়েছে।
আল্লাহ তাআলা কুরআন মাজিদে ইরশাদ করেন—
“হে মুমিনগণ!
জুম্মার দিনে যখন নামাজের জন্য আহ্বান করা হয়, তখন তোমরা
আল্লাহর স্মরণের দিকে ধাবিত হও এবং বেচাকেনা পরিত্যাগ কর।”
— (সূরা আল-জুমুআ: ৯)
এই আয়াত প্রমাণ করে যে, জুম্মার নামাজ ফরজ এবং এ দিনের ইবাদত অন্য সব কাজের ওপর অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত।
রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন—
“সূর্য উদিত হয়
এমন দিনের মধ্যে জুম্মা সর্বোত্তম দিন। এই দিনেই আদম (আ.) কে সৃষ্টি করা হয়েছে,
জান্নাতে প্রবেশ করানো হয়েছে এবং এই দিনেই তাঁকে জান্নাত থেকে
বের করা হয়েছে।”
— (সহিহ মুসলিম)
জুম্মার দিনে এমন একটি মুহূর্ত রয়েছে, যে সময়ে বান্দা আল্লাহর কাছে যা দোয়া করে তা কবুল হয়।
রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেন—
“জুম্মার দিনে
একটি সময় আছে, যদি কোনো মুসলমান নামাজরত অবস্থায়
আল্লাহর কাছে কিছু চায়, আল্লাহ তা কবুল করেন।”
— (সহিহ বুখারি ও মুসলিম)
বেশিরভাগ আলেমের মতে, এই সময়টি আসর নামাজের পর থেকে মাগরিব পর্যন্ত।
রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেন—
“যে ব্যক্তি
উত্তমভাবে অজু করে, জুম্মার নামাজ আদায় করে, মনোযোগ দিয়ে খুতবা শোনে—তার এক জুম্মা থেকে পরবর্তী জুম্মা পর্যন্ত
এবং অতিরিক্ত তিন দিনের গুনাহ ক্ষমা করে দেওয়া হয়।”
— (সহিহ মুসলিম)
প্রাপ্তবয়স্ক, সুস্থ ও মুকিম পুরুষ মুসলমানদের জন্য জুম্মার নামাজ ফরজ। বিনা ওজরে তিনটি জুম্মা ছেড়ে দিলে অন্তর মোহরাঙ্কিত হয়ে যায় বলে হাদিসে সতর্ক করা হয়েছে।
রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেন—
“জুম্মার দিনে ও
রাতে তোমরা আমার ওপর বেশি বেশি দরুদ পাঠ করো।”
— (সুনানে আবু দাউদ)
হাদিসে এসেছে, জান্নাতবাসীরা জুম্মার দিনে আল্লাহ তাআলার দীদার লাভ করবেন। তাই জুম্মা শুধু দুনিয়ার নয়, আখিরাতের সাথেও গভীরভাবে সম্পর্কিত।
জুম্মা হলো রহমত, বরকত ও মাগফিরাতের দিন। এ দিনে নামাজ, দোয়া, দরুদ, কুরআন তিলাওয়াত ও ইস্তিগফারের মাধ্যমে আল্লাহর নৈকট্য লাভের সুবর্ণ সুযোগ রয়েছে। একজন মুমিনের উচিত জুম্মার দিনকে যথাযথ সম্মান ও গুরুত্বের সঙ্গে পালন করা।
৫
৫ মন্তব্য